Top
Begin typing your search above and press return to search.

অরুণাচল প্ৰদেশে হিংসার তাণ্ডব,পিআরসি ইস্যুর সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াল রাজ্য সরকার

অরুণাচল প্ৰদেশে হিংসার তাণ্ডব,পিআরসি ইস্যুর সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াল রাজ্য সরকার

Sentinel Digital DeskBy : Sentinel Digital Desk

  |  25 Feb 2019 11:54 AM GMT

ইটানগরঃ স্থায়ী আবাসিকের প্ৰমাণপত্ৰ(পিআরসি)ইস্যু নিয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের প্ৰতিবাদে অরুণাচল প্ৰদেশের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ইস্যুটির প্ৰতিবাদে রবিবার তৃতীয় দিনেও রাজ্যে অগ্নি সংযোগ,হিংসাশ্ৰয়ী ঘটনা অব্যাহত থাকায় অরুণাচল প্ৰদেশ সরকার অবশেষে ওই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। পিআরসি-র বিরুদ্ধাচরণকারীরা উপ মুখ্যমন্ত্ৰীর বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করে। ইস্যুটি নিয়ে রাজ্য জুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পরিপ্ৰেক্ষিতে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্ৰী পেমা খান্ডু রবিবার রাতে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন বর্তমানের উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য। ওই বৈঠকে রাজ্যের গৃহমন্ত্ৰী কুমার ওয়াই পরিস্থিতি অত্যন্ত ‘উত্তেজনাপূর্ণ ও অদমনীয়’ বলে বর্ণনা করেন।

অসম-অরুণাচল সীমান্তে দীর্ঘদিন থেকে বসবাসকারী ছয়টি জনগোষ্ঠীকে পিআরসি ইস্যু করতে চেয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু প্ৰতিবাদকারীরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। প্ৰতিবাদকারীদের আন্দোলন অবশেষে হিংসাত্মক রূপ নেয়। হিংসাত্মক প্ৰতিবাদের মুখে পড়ে রাজ্য সরকার অবশেষে তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। রাজ্য সরকারের তরফে শেষমেশ ঘোষণা করা হয় তারা সীমান্তে বসবাসকারী ছয় জনগোষ্ঠীর জন্য পিআরসি রূপায়ণ করছে না।

রাজ্যের মুখ্যসচিব সত্য গোপাল এক বিবৃতিতে বলেছেন,‘নামসাই ও চাংলেং জেলার অ-অরুণাচলি উপজাতিদের পিআরসি ইস্যু করার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছিল,তারই পরিপ্ৰেক্ষিতে রাজ্যে প্ৰতিবাদের ঝড় ওঠে। ঘটতে থাকে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা। তাই পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে সরকার পিআরসি-মঞ্জুর করা নিয়ে আর কোনও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্ৰহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়’-জানান গৃহমন্ত্ৰী।

রাজ্যের গৃহমন্ত্ৰী আর বলেন,পরিস্থিতি অত্যন্ত অগ্নিগর্ভ এবং তা হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তাই পরিস্থিতি শান্ত করতে রাজ্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে-জানান তিনি।

উন্মত্ত জনতা রবিবার পিআরসি ইস্যুর প্ৰতিবাদে রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্ৰী চাওনা মিন-এর বাড়িতে আগুন দেয়। সরকারি কর্তৃপক্ষ এখবর জানিয়েছে। ক্ৰুদ্ধও উন্ময় জনতার দল মুখ্যমন্ত্ৰী পেমা খান্ডুর বাড়ির দিকে এগিয়ে গেলে নিরাপত্তাবাহিনী তাদের ছত্ৰখান করতে শূন্যে গুলি ছোঁড়ে।

‘পরিস্থিতি খুবই থমথমে এবং তা নিয়ন্ত্ৰণের বাইরে চলে গেছে। তবে রাজ্য সরকার শান্তি পুনরুদ্ধারে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে’-বলেন গৃহমন্ত্ৰী কুমার ওয়াই। এদিকে রবিবার নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। প্ৰতিবাদকারীরা রবিবার ইটানগর ও নহরলাগুন এলাকার দুটি থানায় ভাঙচুর চালায়। প্ৰতিবাদকারীদের রোষের মুখ পড়ে একজন পুলিশ কর্তা ঘায়েল হয়েছেন। অরুণাচল প্ৰদেশের তফশিলি উপজাতিদের সরকার পিআরসি ইস্যু করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার প্ৰতিবাদে রাজ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নাহরলাগুনে পুলিশের গুলিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। হিংসাত্মক পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ ইটানগর ও নাহরলাগুনে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্ফু জারি করেন। পিআরসির বিরুদ্ধে প্ৰতিবাদ জানিয়ে উন্মত্ত জনতা ভাঙচুর,ইউ পাটকেল নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগে লিপ্ত হয়।

হিংসান্মোত্ত জনতা ফোর্ড,নিশান,হুন্ডাই,রেনল্ট ও মহিন্দ্ৰ শোরুম ভাঙচুর করে। এদিকে পুলিশের গুলিতে আহত রিসো টারির-শুক্ৰবার মৃত্যু হয়। টারির পরিবার এই ঘটনার ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে অরুণাচল প্ৰদেশের রাজ্যপাল অবসরপ্ৰাপ্ত ব্ৰিগোডিয়ার বি ডি মিশ্ৰ হিংসাত্মক ঘটনার কঠোর ভাষায় নিন্দা করেছেন। রাজ্যে শান্তি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে মিশ্ৰ বলেন,অরুণাচলের মানুষ সব পরিস্থিতেই যুক্তিবাদিতা,ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে এসেছেন।

মিশ্ৰ রাজ্য সরকারকে সবরকমের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্ৰহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন যাতে পরিস্থিতি আরও বিগড়ে না যায়। বর্তমানে ইটানগর ও অন্যান্য স্থানে সেনা টহল চলছে।

Next Story