Begin typing your search above and press return to search.

অসমে ৪৪ হাজার ঘোষিত বিদেশি নিখোঁজ,সুপ্ৰিমকোর্টে স্বীকার করলেন মুখ্যসচিব

অসমে ৪৪ হাজার ঘোষিত বিদেশি নিখোঁজ,সুপ্ৰিমকোর্টে স্বীকার করলেন মুখ্যসচিব

Sentinel Digital DeskBy : Sentinel Digital Desk

  |  10 April 2019 8:27 AM GMT

গুয়াহাটিঃ অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি যে অসমে ২০১৫-২০১৮ সাল অবধি তিন বছরে চিহ্নিত ৪৪ হাজার অবৈধ বিদেশি নিখোঁজ। এই সময়কালে মাত্ৰ ৪ জন বিদেশিকে রাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটাই সব কিছু নয়। বিদেশি ঘোষিত এই সব নাগরিকদের নিখোঁজ হওয়া এবং তাদের ধরতে ব্যর্থতায় ফাঁকফোকরের কথা দিশপুর অবশ্য স্বীকার করেছে। বিদেশি শনাক্তকরণ ও বহিষ্কারে রাজ্য সরকারের এই ব্যর্থতার কথা মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত স্বীকার করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব অলক কুমার। বিদেশি চিহ্নিতকরণ ও বহিষ্কার ইস্যুটি নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু প্ৰশ্নের জবাব জানতে শীর্ষ আদালত মুখ্যসচিবকে ডেকে পাঠিয়েছিল। এরজন্য শীর্ষ আদালত রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করেছে। সুপ্ৰিমকোর্টের মুখ্য বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ ইস্যুটি নিয়ে শুনানি গ্ৰহণ করে গতকাল প্ৰশ্ন করেন অসমে অবৈধ ঘোষিত ৪৪ হাজার বিদেশি কি করে এবং কোথায় নিখোঁজ হলো এবং তিন বছরে মাত্ৰ ৪ জন বিদেশিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নিখোঁজ বিদেশিদের খোঁজে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ করেছে। মুখ্য বিচারপতির এই প্ৰশ্নের কোনও জুতসই জবাব দিতে পারেননি মুখ্য সচিব অলোক কুমার। তবে বিদেশি শনাক্তকরণ ও বহিষ্কারের ক্ষেত্ৰে রাজ্য সরকারের ত্ৰুটির কথা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হন মুখ্যসচিব। রাজ্য সরকারের তরফে কুমারের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি আদালতের নির্দেশে লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করেন মুখ্য বিচারপতি।

মুখ্যসচিব অবশ্য আদালতকে বলেছেন,আইন প্ৰণয়নকারী সংস্থাগুলির কাজকর্মে ফাঁকফোকর থেকে যাওয়ার জন্যই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য,মুখ্যসচিব স্বয়ং অসমে আইন প্ৰণয়নকারী সংস্থাগুলোর শীর্ষপদে রয়েছেন। তাছাড়া রাজ্যের গৃহ দপ্তরের অধীন এই আইন প্ৰণয়নকারী সংস্থাগুলি। আর এই বিভাগটির দায়িত্ব দেখাশোনা করছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্ৰী সর্বানন্দ সোনোয়াল। তাহলে মুখ্যসচিব কি এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে এই ব্যর্থতার দায় মুখ্যমন্ত্ৰীর?

এরপর মুখ্য বিচারপতি রাজ্যে বিদেশি চিহ্নিতকরণ ও বহিষ্কারে রাজ্য সরকারকে কি সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তার বিস্তারিত তথ্য আগামি ২৫ এপ্ৰিল সর্বোচ্চ আদালতকে লিখিতভাবে জানাতে বলেছেন অলোক কুমারকে। ওই দিনই এই মামলাটি নিয়ে কোর্টে ফের শুনানি হবে। অলোক কুমার এদিন শীর্ষ আদালতকে জানান ৩১ জুলাই নাগরিক পঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্ৰকাশের পর যাদের নাম বাদ যাবে তাদের আবেদনের শুনানি গ্ৰহণে এক হাজার বিদেশি ট্ৰাইবুনাল স্থাপন করবে রাজ্য সরকার। মুখ্যসচিবের একথায় রীতিমতো বিস্ময় প্ৰকাশ করেন মুখ্য বিচারপতি গগৈ।

এদিকে অসমে বিদেশি নাগরিক চিহ্নিতকরণ ও রাজ্য থেকে তাদের বহিষ্কারের কাজে শীর্ষ আদালতকে সাহায্য করার জন্য বরিষ্ঠ আইনজীবী গৌরব ব্যানার্জিকে সহকারী হিসেবে নিয়োগ করেছে সুপ্ৰিম কোর্ট।

ওদিকে আসুর মুখ্য উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল কুমার ভট্টাচার্য এই ঘটনায় তীব্ৰ প্ৰতিক্ৰিয়া ব্যক্ত করে বলেন তিন বছরে ৪৪ হাজার বিদেশি নিখোঁজ হওয়া এবং এই সময়ে মাত্ৰ ৪ জনকে বহিষ্কার করার বিষয়টি সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। ‘নিখোঁজ বিদেশিদের খুঁজে বের করতে দিশপুর ইতিমধ্যেই তাদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছে’।

Next Story