Begin typing your search above and press return to search.

অসম চুক্তির ৬ নং দফা রূপায়ণে কেন্দ্ৰের গঠিত ৯ সদস্যের উচ্চস্তরীয় কমিটির নেতৃত্বে এমপি বেজবরুয়া

অসম চুক্তির ৬ নং দফা রূপায়ণে কেন্দ্ৰের গঠিত ৯ সদস্যের উচ্চস্তরীয় কমিটির নেতৃত্বে এমপি বেজবরুয়া

Sentinel Digital DeskBy : Sentinel Digital Desk

  |  7 Jan 2019 9:12 AM GMT

নয়াদিল্লিঃ ১৯৮৫ সালে স্বাক্ষরিত অসম চুক্তির ৬নং দফা রূপায়ণে কেন্দ্ৰীয় সরকার নয় সদস্যের একটি উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করেছে। প্ৰাক্তন প্ৰশাসনিক আমলা মদন প্ৰসাদ বেজবরুয়া এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ২০১৬ বাতিলের দাবিতে গোটা ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকায় যখন প্ৰতিবাদের আগুন জ্বলছে সেই সময় অসমিয়াদের সাংবিধানিক রক্ষাকবচ সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্ৰীয় স্বরাষ্ট্ৰমন্ত্ৰক বেজবরুয়াকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়ে এই উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করে।

অসম চুক্তির ৬নং দফায় অসমের খিলঞ্জিয়াদের আইনগত সুরক্ষা,সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক,সামাজিক,ভাষিক অস্তিত্ব ও পরম্পরার উন্নয়নে কেন্দ্ৰকে সাংবিধানিক,আইনগত ও প্ৰশাসনিক ব্যবস্থা গ্ৰহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য,গত ২ জানুয়ারি অর্থাৎ বুধবার প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদির পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত কেন্দ্ৰীয় মন্ত্ৰিসভার এক বৈঠকে অসমিয়ার সাংবিধানিক রক্ষাকবচের বিষয়টি অনুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার উদ্দেশ্যে উচ্চস্তরীয় এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এরই পরিপ্ৰেক্ষিতে শনিবার কেন্দ্ৰীয় স্বরাষ্ট্ৰমন্ত্ৰকের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সচিব কমিটি গড়ার জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। ৬ জানুয়ারি অর্থাৎ রবিবার এই উচ্চস্তরীয় কমিটির সদস্যদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত উচ্চস্তরীয় এই কমিটিকে আগামি ৬ মাসের মধ্যে তাদের রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে। উচ্চস্তরীয় কমিটির চেয়ারম্যান বেজবরুয়া ১৯৬৪ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক। তিনি উত্তর-পূর্ব পরিষদের সদস্যও। তিনি বেজবরুয়া কমিটিরও নেতৃত্বে ছিলেন। দিল্লিতে অরুণাচল প্ৰদেশের যুবক নিডো তানিয়ার হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সঠিক ব্যবস্থা গ্ৰহণে সুপারিশ জানানোর জন্যই ২০১৪ সালে এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। মিজোরাম ও অসম সহ বিভিন্ন স্থানে পদস্থ প্ৰশাসনিক কর্তা হিসেবে কাজ করেছেন বেজবরুয়া।

তাছাড়াও প্ৰাক্তন প্ৰধানমন্ত্ৰী অটলবিহারী বাজপেয়ীর জমানায় কেন্দ্ৰীয় পর্যটন সচিব পদে বহাল ছিলেন তিনি। বেজবরুয়া রাষ্ট্ৰপুঞ্জের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার স্থায়ী অবৈতনিক প্ৰতিনিধি।

স্বরাষ্ট্ৰমন্ত্ৰকের প্ৰকাশিত বিবৃতি অনু্যায়ী নবগঠিত এই উচ্চস্তরীয় ৯ সদস্যের কমিটিতে আটজনই অসমের বিভিন্ন ক্ষেত্ৰের খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব। স্বরাষ্ট্ৰমন্ত্ৰকের একজন যুগ্ম সচিবকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

অসম চুক্তির আধারে অসমিয়া মানুষের সাংবিধানিক রক্ষাকবচ সুনিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গঠিত কমিটির অন্যান্য সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন অবসরপ্ৰাপ্ত আইএএস আধিকারিক সুভাষ দাস,অসম সাহিত্যসভার প্ৰাক্তন সভাপতি নগেন শইকিয়া,রংবং তেরাং,দ্য সেন্টিনেলের প্ৰতিষ্ঠাতা সম্পাদক ডিএন বেজবরুয়া,শিক্ষাবিদ মুকুন্দ রাজবংশী,অসম সরকারের অ্যাডভোকেট জেনারেল রমেশ বরপাত্ৰগোঁহাই,সারা অসম ছাত্ৰ সংস্থার(আসু)একজন প্ৰতিনিধি এবং কেন্দ্ৰীয় স্বরাষ্ট্ৰমন্ত্ৰকের একজন যুগ্ম সচিব।

১৯৮৫ সালে স্বাক্ষরিত অসম চুক্তির ৬নং দফার রূপায়ণে এখন পর্যন্ত কতটুক কী ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হয়েছে কমিটি তা খতিয়ে দেখবে। চুক্তির ষষ্ঠ দফার বাস্তবায়নে কমিটি যাবতীয় পদক্ষেপ নেবে। কেন্দ্ৰের গঠিত এই কমিটি অসমের বিভিন্ন সামাজিক দল ও সংগঠন ছাড়াও সবশ্ৰেণির মানুষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে তাদের প্ৰতিবেদন প্ৰস্তুত করবে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও কমিটির সদস্যরা এই ইস্যুতে আইনি এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞ,সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মী,সংরক্ষণকারী,অর্থনীতিবিদ,ভাষাতত্ববিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদেরও মতামত সংগ্ৰহ করবে। অসম বিধানসভা,স্থানীয় পুরসভা ও পুরনিগমেও অসমিয়া মানুষের জন্য সংরক্ষণের হারও নির্ধারণ করবে কমিটি। একইসঙ্গে এই কমিটি অসমিয়া ও অন্যান্য খিলঞ্জিয়া ভাষাগুলির সংরক্ষণেও পথ নির্দেশ করবে।

Next Story