রাজ্যের খবর

গুয়াহাটিতে ৩৯.০০০ হাজার কোটি টাকার চারটি প্ৰকল্পের সূচনা করলেন প্ৰধানমন্ত্ৰী

প্ৰধানমন্ত্ৰী

গুয়াহাটিঃ প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদি শনিবার গুয়াহাটির চাংসারিতে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন। নাগরিকত্ব(সংশোধনী)বিল ২০১৯-এর বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে যখন প্ৰতিবাদ,বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে সে সময়েই প্ৰধানমন্ত্ৰী এলেন রাজ্যে। শুক্ৰবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ প্ৰধানমন্ত্ৰীর বিশেষ বিমান বরঝাড় বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বরঝাড় থেকে রাজভবন আসার পথে শহিদ ন্যাস ভবনের সামনে আসু সহ বিভিন্ন সংগঠন নাগরিক বিলের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্ৰতিবাদ জানায়। দেখায় কালো পতাকাও। প্ৰধানমন্ত্ৰী রাত কাটান রাজভবনে। তবে পুলিশ ও প্ৰশাসন প্ৰধানমন্ত্ৰীর সফর ঘিরে নিশ্ছিদ্ৰ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্ৰহণ করে। আজ চাংসারির সমাবেশ ঘিরেও প্ৰশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁক রাখেনি।

চাংসারির জনাকীর্ণ সমাবেশে প্ৰধানমন্ত্ৰী মোদি বলেন,দেশ বিভাগের পর সংখ্যালঘু মানুষ প্ৰতারিত হয়েছেন। তাদের আশ্ৰয় দেওয়া এখন ভারত মাতার দায়িত্ব।

দ্বিতীয়ত মোদি বলেন,উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির সংস্কৃতি,সম্পদ,ভাষার সম্পূর্ণ সুরক্ষায় বিজেপি সরকার প্ৰস্তুত। প্ৰধানমন্ত্ৰী বলেন,৩৬ বছরের পুরনো অসম চুক্তি রূপায়ণের দাবি অবশ্যই পূরণ করা হবে। রাষ্ট্ৰীয় নাগরিক পঞ্জি(এনআরসি)সম্পর্কে মোদি বলেন,বিজেপি সরকারের আমলেই সুপ্ৰিমকোর্টের বিশেষ তদারকিতে এনআরসির কাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

প্ৰধানমন্ত্ৰী অভিযোগ করেন,নাগরিকত্ব বিল নিয়ে কিছু লোক গুজব ছড়াচ্ছে,যারা এসি রুমে বসে সময় কাটাচ্ছে,কিছুই করছে না। উত্তর পূর্বাঞ্চলের দ্ৰুত ও সর্বাঙ্গীণ বিকাশে তাঁর সরকার উচ্চ অগ্ৰাধিকার দিচ্ছে-বলেন তিনি। গত সাড়ে চার বছরের বিজেপি শাসনকালে অসমের তেল ও গ্যাস সেক্টরে ১৪ হাজার কোটি টাকার প্ৰকল্প সম্পূর্ণ করা হয়েছে। উত্তর পূর্বের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে তাঁর সরকার লেগেই রয়েছে। ব্ৰহ্মপুত্ৰের উপর ছয়লেনের হাইওয়ে সেতু আরও একটা মাইলস্টোন হবে। এই সেতু গড়ে উঠলে গুয়াহাটিতে ব্ৰহ্মপুত্ৰের দুই পাড়ে যাতায়াতের ক্ষেত্ৰে সময় দেড় ঘন্টা থেকে হ্ৰাস পেয়ে ১৫ মিনিট হবে।

প্ৰধানমন্ত্ৰী এদিন এইমস প্ৰকল্পের ভূমি পূজন অনুষ্ঠানেও অংশ নেন।

শনিবার প্ৰধানমন্ত্ৰী নুমলিগড়ে আসাম বায়ো-রিফাইনারি,বারুনি-গুয়াহাটি প্ৰাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইন,নর্থইস্ট গ্যাসগ্ৰিড,গুয়াহাটি-উত্তর গুয়াহাটির মধ্যে ব্ৰহ্মপুত্ৰের উপর ছয় লেন সেতুর শিলান্যাস করা ছাড়াও এইমসের ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এদিন তিনসুকিয়ার হোলং মডুলার গ্যাস প্ৰোসেসিং প্ল্যান্টেরও উদ্বোধন করেন তিনি। এখানে অনুষ্ঠান সেবে প্ৰধানমন্ত্ৰী ত্ৰিপুরায় চলে যান। মোট ৩৯,০০০ হাজার কোটি টাকার প্ৰকল্পগুলির সূচনা করেন তিনি। প্ৰধানমন্ত্ৰীর ভাষণে ভারতরত্ন,রাজ্যের প্ৰাক্তন মুখ্যমন্ত্ৰী গোপীনাথ বরদলৈ,সূধাকণ্ঠ ড.ভূপেন হাজরিকার নাম উঠে আসে। মহাপুরুষ শ্ৰীমন্ত শঙ্করদেবের প্ৰসঙ্গেও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন তিনি। মরিগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত শঙ্করদেব সঙ্ঘে অধিবেশনের সফল সমাপ্তিও কামনা করেন।