সংবাদ শিরোনাম

নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধভাবে লড়াইয়ের অঙ্গীকার উত্তর পুবের রাজনৈতিক দলগুলির

নাগরিকত্ব বিল

গুয়াহাটিঃ নাগরিকত্ব(সংশোধনী)বিল ২০১৯-এর বিরুদ্ধে এতদিন ধরে আন্দোলনের ঝড় বইছে গোটা অসম জুড়ে। মিজোরাম,মেঘালয়ে আন্দোলন চলছিল বিক্ষিপ্তভাবে। মঙ্গলবার এই আন্দোলন আরও এক নতুন মাত্ৰা পেলো বিজেপি-র শরিক ও জনতা দল(ইউ)সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের দশটি রাজনৈতিক দল সর্বসম্মতিক্ৰমে বিলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্ৰামে ঝাঁপিয়ে পড়ার অঙ্গীকার করায়। রাজ্যসভায় বিতর্কিত বিলটি যাতে কোনওভাবেই পাস হতে না পারে তার জন্য জোটবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলগুলি।

মঙ্গলবার গুয়াহাটির বিলাসবহুল একটি পাঁচতারা হোটেলে উত্তরপূর্বের রাজনৈতিক দলগুলির এক সম্মেলনে এই প্ৰস্তাব গ্ৰহণ করা হয়। এই সম্মেলনে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্ৰী কনরাড কে সাংমা,মিজোরামের মুখ্যমন্ত্ৰী তথা এমএনএফ নেতা জোরামথাঙ্গা এবং অসম গণ পরিষদ(অগপ)ও এই অঞ্চলের দশটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশগ্ৰহণ করেন।

নাগরিকত্ব বিল প্ৰত্যাহারের জন্য কেন্দ্ৰের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক দলগুলির একটি উচ্চপর্যায়ের প্ৰতিনিধিদলকে দিল্লিতে পাঠানোর প্ৰস্তাব গ্ৰহণ করা হয়েছে সম্মেলনে। উচ্চপর্যায়ের এই প্ৰতিনিধিদলটি রাষ্ট্ৰপতি রামনাথ কোবিন্দ ও প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদির সঙ্গে দেখা করে বিল প্ৰত্যাহারের জন্য চাপ দেবে।

বৈঠক শেষে এদিন বিকেলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্ৰী কনরাড সাংমা বলেন,স্বাভাবিক প্ৰক্ৰিয়ায় ডাকা হয়েছে এই বৈঠক। এরমধ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি আদৌ নেই। নাগরিক বিলের বিরুদ্ধে এই অঞ্চলের মানুষের মতামত ও আবেগের কথা ভেবেই বিলের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই চালানো জরুরি বলে মনে করেছি আমরা। উত্তর পূর্বের মানুষের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই আমরা একত্ৰিত হয়েছি। এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মোড়া কোনও ইভেন্ট নয়। সাংমা বলেন,বিলের বিরুদ্ধে অসম জুড়ে প্ৰতিবাদ হচ্ছে,উত্তর পূর্বের অন্যান্য রাজ্যেও প্ৰতিবাদের আওয়াজ উঠেছে। উত্তরপুবের মানুষের স্বার্থে সম্মিলিতভাবে লড়াই চালানোর জন্য সর্বসম্মতভাবে প্ৰস্তাব নিয়েছি আমরা-বলেন সাংমা। গৃহীত প্ৰস্তাবে বলা হয়েছে,বৈঠকে উপস্থিত থাকা সব রাজনৈতিক দলের নেতা এবং যারা বিলের বিরোধিতা করে আসছেন তাঁদের নিয়ে রাষ্ট্ৰপতি,প্ৰধানমন্ত্ৰী এবং সম-মনোভাবাপন্ন সব দলের নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হবে। নাগরিক বিলের বিরুদ্ধে প্ৰতিবাদের জোয়ার উঠা সত্ত্বেও তা প্ৰশমনে কেন্দ্ৰ কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় তা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক বলে তিনি মনে করেন। সারাদেশের সব সম মনোভাবাপন্ন দলগুলির নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। যাতে ওই সম মনোভাবাপন্ন দলগুলিও বিলের বিরুদ্ধে প্ৰ্তিবাদে অংশ নেয়-বলেন তিনি।

বিজেপি নেতৃত্বাধীন উত্তরপূর্ব গণতান্ত্ৰিক জোট(নেডা)থেকে দলগুলি বেরিয়ে আসবে কিনা জানতে চাওয়া হলে সাংমা বলেন,এই সম্মেলনের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সংযোগ নেই। এই অঞ্চলের মানুষের আবেগ অনুভূতির কথা ভেবেই সম্মেলন ডাকা হয়েছে। মানুষের সেন্টিমেন্টকে তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য। আমি আশা করছি নাগরিকত্ব বিল সম্পর্কে এই অঞ্চলের মানুষের আবেগ-অনুভূতিকে কেন্দ্ৰ বোঝার চেষ্টা করবে। বিলের বিরুদ্ধে তাদের এই লড়াইয়ে কংগ্ৰেসকে শামিল করা সম্পর্কে এক প্ৰশ্নের জবাব কৌশলে এড়িয়ে যান সাংমা। তিনি আরও বলেন,কেন্দ্ৰ যদি তাদের দাবির প্ৰ্তি গুরুত্ব না দেয় তাহলে উত্তরপুবের রাজনৈতিক দলগুলি ফের বৈঠকে বসে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এই সম্মেলনে ডেকেছিল অগপ। উল্লেখ্য,নাগরিকত্ব বিলের বিরুদ্ধে প্ৰ্তিবাদ জানাতে অগপ ইতিমধ্যেই সর্বানন্দ সোনোয়ালের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার থেকে বেরিয়ে এসেছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্ৰী জোরামথাঙ্গা বলেন,এই বিল পাস হলে তা উত্তরপূর্বাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়াবে। তাই বিলের বিরুদ্ধে আমাদের সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। অগপ সভাপতি অতুল বরা সাংবাদিকদের বলেন, এটা একটা ঐতিহাসিক সম্মেলন। কারণ এই অঞ্চলের বহু রাজনৈতিক দল বিলের বিরুদ্ধে লড়তে সম্মেলনে একজোট হয়েছে,যাতে রাজ্যসভায় বিলটি কোনওভাবে পাস না হয়। উত্তরপুবের যে সব রাজনৈতিক দল সম্মেলনে অংশ নিয়েছে সেগুলি হলো মিজো ন্যাশনাল ফ্ৰন্ট(এমএনএফ),ইউনাইটেড ডেমোক্ৰ্যাটিক পার্টি(ইউডিপি),অসম গণ পরিষদ(অগপ),নাগা পিপলস ফ্ৰন্ট(এনপিএফ),এনপিপি,এনডিপিপি,এইচএসপিডিপি,পিডিএফ,আইপিএফটি এবং খানম। জেডি(ইউ)-এর হয়ে সম্মেলনে প্ৰতিনিধিত্ব করেন দলের উত্তরপুবের দায়িত্বে থাকা এনএসএন লোথা।