সংবাদ শিরোনাম

সুপ্ৰিম কোর্টের শর্ত মেনে ১০ বিদেশি নাগরিককে ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে মুক্তি দেওয়া হলো

ডিটেনশন ক্যাম্প

গুয়াহাটিঃ চূড়ান্ত রাষ্ট্ৰীয় নাগরিক পঞ্জি(এনআরসি)প্ৰকাশের আর মাত্ৰ ৪ দিন বাকি। তাই কাউন্টডাউন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। রাজ্যের ছটি ডিটেনশন ক্যাম্পে যেসব বিদেশি ইতিমধ্যেই তিন বছর পূর্ণ করেছেন,রাজ্য সরকার শর্ত সাপেক্ষে তাদের মুক্তি দেওয়ার প্ৰক্ৰিয়া শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই গোয়ালপাড়া ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে এধরনের ১০ জন অবৈধ বিদেশি নাগরিককে সুপ্ৰিমকোর্টের বেঁধে দেওয়া নিয়ম পূরণ করার শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সুপ্ৰিম কোর্ট দুলক্ষ টাকার বন্ড ও ঘোষিত প্ৰত্যেক বিদেশি নাগরিকের বায়োমেট্ৰিক ডাটা সংগ্ৰহ ও অন্যান্য কিছু শর্ত রেখেছিল ডিটেনশন ক্যাম্পে তিন বছরের বেশি সময় বন্দি থাকা বিদেশিদের মুক্তির বাবদ। যে ১০ জন ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে ছাড়া পেয়েছেন,তারা শীর্ষ আদালতের শর্ত পূরণ করার পরই তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। তবে মুক্তি পেলেও এই সব নাগরিকদের প্ৰতি সপ্তাহে নিকটবর্তী থানায় হাজির হতে হবে। তথ্যাভিজ্ঞ মহল সূত্ৰে এখবর জানা গিয়েছে। যে ১০ বিদেশি নাগরিক ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে ছাড়া পেয়েছেন তাদের ৯ জনের ঠিকানা গোয়ালপাড়া জেলা এবং বাকি ১ জনের চিরাং জেলা।

সুপ্ৰিম কোর্ট অসম সরকার এবং স্বরাষ্ট্ৰমন্ত্ৰককে(এমএইচএ)নির্দেশ দিয়েছিল ডিটেনশন ক্যাম্পে তিন বছরের বেশি সময় কাটানো যে সব বিদেশি নাগরিক পূর্বে বেঁধে দেওয়া শর্ত পূরণ করবেন তাদের মুক্তি দেওয়ার প্ৰক্ৰিয়া শুরু করতে।

সুপ্ৰিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া ওই শর্তে আরও বলা হয়েছিল,বিদেশি নাগরিকরা যে ঠিকানার ভিত্তিতে জামিন লাভ করেছেন,সেই ঠিকানা যদি পরে পরিবর্তন হয় তাহলে সেটা পুলিশকে জানাতে হবে। আনুমানিক ১,১০০ জন বন্দি ডিটেনশন ক্যাম্পে রয়েছেন। এরমধ্যে ৩৩৫ জন ইতিমধ্যেই ডিটেনশন ক্যাম্পে তিন বছরের বেশি সময় কাটিয়েছেন।

নিয়ম অনু্যায়ী,এ ধরনের বন্দি অথবা তাদের আত্মীয়রা,জামিনের জন্য নির্ধারিত ফর্মে সংশ্লিষ্ট বিদেশি ট্ৰাইবুনালের(এফটি)কাছে আবেদন জানাতে পারেন। এফটি থেকে জামিন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জেলার পুলিশ সুপারের(সীমান্ত শাখা)সঙ্গে যোগা্যোগ করতে হবে। বর্ডার ব্ৰাঞ্চই সুপ্ৰিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া শর্ত পূরণের মাধ্যমে এই সব বিদেশিদের মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

উল্লেখ্য,সুপ্ৰিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের পরই অসম সরকার ২০১৯ এর ২৯ জুলাই ডিটেনশন ক্যাম্পে যারা তিন বছরের বেশি সময় বন্দিত্ব জীবন কাটাচ্ছেন তাদের মুক্ত করার জন্য এক নির্দেশ জারি করে। ওই নির্দেশে বলা হয়েছে,মুক্তি পাওয়া কোনও বিদেশি নাগরিক যদি উল্লিখিত শর্তসমূহ লঙ্ঘন করেন তাহলে ফের তাদের আটক করে ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা হবে।

 

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ এনআরসিতে নাম ছুটদের আইনি সাহা্য্য অবৈধ বিদেশিদের উৎসাহিত করবেঃ আসু

অধিক খবরের জন্য ভিডিও দেখুন: APCC President Ripun Bora holds press meet