রাজ্যের খবর

বোকাজানের ব্যবসায়ী খুনের রহস্য পুলিশ এখনও উদ্ঘাটন করতে পারেনি

পুলিশ

বোকাজানঃ অসম-নাগাল্যান্ড সীমান্তের খটখটিতে প্ৰতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর হত্যাকাণ্ড ও তাঁর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনার রহস্য পুলিশ এখনও উদ্ঘাটন করতে পারেনি। খটখটিতে গত ২৩ জুন মাঝ রাতে ৬-৭ জনের একটি ডাকাত দল প্ৰতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মূলসিং রাঠোরকে গুলি করে হত্যা করে। ডাকাতের দলটি রাঠোরের বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও অলংকার ইত্যাদি নিয়ে উধাও হয়।

এই ঘটনার পর কার্বি আংলং পুলিশ এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোনও সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়নি। ঘটনার পর পুলিশ শুধু ওই বাড়ির রক্ষীকে গ্ৰেপ্তার করেছে। এই ঘটনা নিয়ে তদন্তের কাজও প্ৰত্যাশানু্যায়ী এগোয়নি। পুলিশ বিভাগের কাছে এই ঘটনা রীতিমতো মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খটখটিতে হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির ঘটনার পর ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ী সম্প্ৰদায় কিছুতেই আতঙ্ক মুক্ত হতে পারছেন না। প্ৰতি মুহূর্তেই নিরাপত্তাহীনতা কুরে খাচ্ছে তাদের। তবে ঘটনায় যে মারুতি অল্টোটি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে সেটি ডিলাই পুলিশ থানার অধীন হাতোকা মেনসিং টিসো গ্ৰামের কাছ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ওই গাড়ি থেকে দুটি নাইন এম এম গোলাবারুদ এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হ্যান্ড গ্লোভসের একটি খালি প্যাকেট উদ্ধার করেছে। দুর্বৃত্তরা ডাকাতির সময় ওই হ্যান্ড গ্লোভসগুলি ব্যবহার করেছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অল্টো গাড়িটি উদ্ধারের পর পুলিশ দুজন লোককে গ্ৰেপ্তার করেছে। এই মামলায় এদের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ধৃত দুই ব্যক্তিকে আজিজুল ইসলাম এবং নিতেশ ঠাকুর নামে শনাক্ত করা হয়েছে। আজিজুল বালিজানের খান বস্তির বাসিন্দা এবং নিতেশ ডিমাপুরের সেবক রিও কলোনির বাসিন্দা। আজিজুল একজন অ্যাপ্ৰেন্টিস মেকানিক এবং নিতেশ সব্জি বিক্ৰেতা। নিতেশ উদ্ধার হওয়া গাড়িটির মালিক বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডাকাতির ঘটনার পর দুদিন আজিজুল কোথায় ছিল পুলিশকে তা বোঝাতে সে ব্যর্থ হয়েছে।

কার্বি আংলঙের পুলিশ সুপার গৌরব উপাধ্যায় দ্য সেন্টিনেলকে বলেন,ঘটনার সবদিক আমরা খুটিয়ে খুটিয়ে তদন্ত করছি। আশা করা হচ্ছে দু-একদিনের মধ্যেই  একটা সাফল্য পাওয়া যাবে। ‘আমরা সাক্ষ্য সাবুদ সংগ্ৰহ করছি এবং হত্যাকাণ্ডের পিছনে কী রহস্য রয়েছে তাও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছি। আমরা একটা বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছি। এই ঘটনার আড়ালে ব্যবসায়ের ক্ষেত্ৰে কোনও প্ৰতিদ্বন্দ্বী ছিল কিনা এবং ডাকাতির ঘটনা স্বাভাবিক ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় জঙ্গি সংগঠন এনএসসিএন জড়িত থাকা নিয়ে যে গুঞ্জন উঠেছে পুলিশ সুপার তা উড়িয়ে দিয়েছেন।

পুলিশ সুপার বলেন,এনএসসিএন একটা প্ৰতিষ্ঠিত গোষ্ঠী তাই এধরনের ডাকাতির ঘটনায় তারা প্ৰশ্ৰয় দেবে বলে মনে হয় না। তবে ডাকাত দলটি একে৪৭ রাইফেল নিয়ে এসেছিল। এই ঘটনায় পেশাগত কোন ক্ৰশ বর্ডার শ্যুটার জড়িত কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে সেদিকটিও। ‘আমরা নাগাল্যান্ড পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। আশা করা হচ্ছে ঘটনার পুরো রহস্য খুব শিগগিরই উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে’-বলেন পুলিশ সুপার।

উল্লেখ্য,ডাকাতের হাতে নিহত ব্যবসায়ী রাঠোর-এর মদের ব্যবসা ছাড়াও ওয়ারহাউস ও বটলিং প্ল্যাণ্টও ছিল। সমাজ কর্মী হিসেবেও নামডাক ছিল রাঠোরের।

 

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ শ্ৰীনগরে শহিদের পুত্ৰকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পুলিশ কর্তা