রাজ্যের খবর

নতুন নতুন থিম নিয়ে এগোচ্ছে মহানগরীর পুজো কমিটিগুলো

পুজো কমিটি

 

গুয়াহাটিঃ মহালয়া শেষ হতেই পিতৃপক্ষের অবসান ঘটেছে। শুরু হয়ে গেছে দেরীপক্ষ। ঘরের মেয়ে উমা আসছেন বাপের বাড়ি। তাই মাতৃ বন্দনার প্ৰস্তুতি এখন তুঙ্গে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। থেকে থেকে বৃষ্টিও হচ্ছে। তবুও থেমে নেই কিছুই। কুমোরটুলিতে মায়ের মৃন্ময়ী প্ৰতিমায় শেষ তুলির টান দিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। মহানগরী গুয়াহাটির ফ্যান্সিবাজার সহ সব বাজারে ক্ৰেতার ভিড়। পথঘাটে বেদম ট্ৰাফিক জ্যাম। পুজো বলে কথা। মহানগর কেন,গোটা অসমেই এখন সাজো সাজো রব। সাবেকি পুজোর পাশাপাশি থিমপুজোর চল তো এখন প্ৰায় সর্বত্ৰ। সাত্ত্বিক পুজো তো হবেই। কারণ ওতেই লুকিয়ে আছে ভক্তি,নিষ্ঠা,মায়ের চরণে নিজেকে সমর্পণের বীজমন্ত্ৰ। ৪ অক্টোবর দেবী বোধন। ৫ অক্টোবর সপ্তমী। ভুবনে বইছে আনন্দ ধারা। ভক্তি,আনন্দ,ভালবাসার ঝরনা ধারায় পুজোর তিনটে দিন কেটে যাবে। রেখে যাবে আরও একটা বছরের প্ৰতীক্ষা। একটা সময় গেছে যখন শুধু মণ্ডপে পুজো হতো সাত্ত্বিক নিয়মে। শরতে শিউলি ঝরতো,কাশফুল ফুটতো। আজও ফোটে। অফুরন্ত আনন্দ জোয়ারে ভেসে যেতো মন। দিন বদলেছে,বদলেছে জীবনধারা। পুজোর পদ্ধতি সেই একই আছে। দুর্গাপুজোয় মন প্ৰাণ উজাড় করে পুজো হবে এটা তো স্বাভাবিক। কিন্তু আজকের পুজো এমন একটা পার্বণ হয়ে পড়েছে যেখানে ফুটে উঠছে শিল্প,সংস্কৃতি,ইতিহাস,মাইথোলজি এবং আরও কত কি। এবারও গুয়াহাটির বিভিন্ন পুজো কমিটি তাদের মণ্ডপে বিভিন্ন ধরনের শিল্প কলার নিদর্শন ও বাস্তব ভাবনা তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মণ্ডপ সাজাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ দীঘলি পুখুরি পুজো কমিটির পুজোর পরিকল্পনা এখানে তুলে ধরছি। দীর্ঘ প্ৰায় একদশক কাল লড়াইয়ের পর এবার দীঘলিপুখুরি এলাকায় পুজোর অনুমতি পেয়েছে তারা। তাই কমিটি পরিবেশ বান্ধব পুজোর থিম নিয়ে এগোচ্ছে। বৃক্ষরোপণের কর্মসূচিও রেখেছে তারা,প্ৰকৃতির বুকে সবুজ বাঁচাতে। পাশাপাশি থাকছে ঐতিহ্যপূর্ণ অসমিয়া পরম্পরা। ওদিকে আটগাঁও দুর্গা পুজো কমিটিও পরিবেশ-বান্ধব পুজোর থিম নিয়েছে এবং বাঁশ দিয়ে মণ্ডপ গড়ছে এই কমিটি। তামিলনাডুর আদলে বিশাল শিবের মূর্তি প্ৰদর্শন করবে তারা। তাছাড়া আলোক সজ্জায় দর্শক টানারও অভিনব পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এই কমিটি। তাদের পুজোর বাজেট সাকুল্যে ২৬ লাখ টাকা।

ওদিকে মহানগরীর বিষ্ণুপুর দুর্গাপুজো কমিটি এবার অযোধ্যার রামমন্দির গড়ছে। ৪৪নং গীতানগর সর্বজনীন দুর্গা পুজো কমিটি মণ্ডপ নির্মাণ করছে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের আদলে। প্যান্ডেলে তারা বাঁশ এবং প্লাইউড ব্যবহার করছে। প্ৰসাদ বিতরণে ক্লাপ-প্লেটের মতো কোনও প্লাস্টিক জাতীয় সামগ্ৰী ব্যবহার করছে না এই পুজো কমিটি।

শান্তিপুর শ্ল্যুইচ গেট দুর্গাপুজো কমিটি রাজপ্ৰাসাদ গড়ছে। প্ৰাসাদের ওপরে থাকছে নৌকো। অধিকাংশ পুজো কমিটি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হাতে নিচ্ছে। মণ্ডপের বিভিন্ন স্থানে বসাচ্ছে সিসি টিভি ক্যামেরাও।

 

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ শান্তিপুর শ্ল্যুইচগেট পুজো কমিটির থিম এবার রাজপ্ৰসাদ

অধিক খবরের জন্য ভিডিও দেখুন: Road Accident in Orang, One killed