সংবাদ শিরোনাম

দুর্নীতিগ্ৰস্ত বন আধিকারিকদের সতর্ক করে দিলেন মন্ত্ৰী শুক্লবৈদ্য

মন্ত্ৰী শুক্লবৈদ্য

গুয়াহাটিঃ রাজ্যের বনমন্ত্ৰী পরিমল শুক্লবৈদ্য মঙ্গলবার একাংশ দুর্নীতিগ্ৰস্ত বন আধিকারিককে সতর্ক করে দিয়ে আগামি ১৫ দিনের মধ্যে তাদের অসাধু কার্যকলাপ পরিহার করার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। একইসঙ্গে শুক্লবৈদ্য ওই সব আধিকারিকদের উদ্দেশে বলেছেন তারা যেন অসাধু পন্থা পরিহার করে বন বিভাগের রাজস্ব ক্ষতি রুখতে এক সিস্টেম প্ৰবর্তনে সচেষ্ট হন।

গুয়াহাটি ও সোনাপুর ফরেস্ট রেঞ্জের অধীন কিছু এলাকায় রাতের বেলায় আকস্মিক টহল দেবার একদিন পরই দুর্নীতিগ্ৰস্ত বন আধিকারিকদের প্ৰতি ওই সতর্ক সঙ্কেত দেন বনমন্ত্ৰী।

গুয়াহাটি ও সোনাপুর ফরেস্ট রেঞ্জের অধীন এলাকাগুলোতে রাতে টহল দেবার সময় শতাধিক ট্ৰাকে করে বালি ও পাথর অবৈধভাবে বয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য খোদ দেখতে পেয়েছেন বনমন্ত্ৰী। তবে বনজ সম্পদ বহনকারী কয়েকটি ট্ৰাকের সরকারি রেকর্ড নথিভুক্ত রয়েছে যদিও বালি ও পাথর বোঝাই বাকি ট্ৰাকগুলোর মাধ্যমে যে অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য চালানো হচ্ছে তা স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এব্যাপারে সিসিএফ,সেণ্ট্ৰাল জোন,পিসিসিএফ,পুব কামরূপের ডিএফও এবং গুয়াহাটি ও সোনাপুরের বিট অফিসারদের একটি জরুরি বৈঠক ডাকেন তিনি। ‘আমি বন আধিকারিক বিশেষ করে গুয়াহাটি ও সোনাপুরের বিট আধিকারিকদের বালি ও পাথরের অবৈধ ব্যবসা সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে’-বলেন শুক্লবৈদ্য।

বনমন্ত্ৰী শুক্লবৈদ্য আরও বলেন,‘বন বিভাগের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবার পর থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন এলাকায় গিয়েছি এবং বেশকটি অবৈধ কাঠ চেরাই কলের মুখোস খুলে দিয়েছি। অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত বেশকিছু বন আধিকারিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্ৰহণ করেছি। এধরনের অবৈধ কার্যকলাপে কিছু বন আধিকারিকের জড়িত থাকার সম্ভাবনাও আমি উড়িয়ে দিচ্ছি না’।

‘একাংশ বন আধিকারিকের এজাতীয় অসাধু কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহিষ্ণু নীতির ভিত্তিতে অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতিগ্ৰস্ত আধিকারিকদের কোনও রেয়াত করা হবে না। এদের বিরুদ্ধে শীঘ্ৰই ব্যবস্থা নেবে সরকার’।

শুক্লবৈদ্য আবগারি দপ্তরের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। বিভাগের রাজস্ব ক্ষতির বিরুদ্ধে রাজ্যের প্ৰিন্সিপাল চিফ কনজারভেটর অফ ফরেস্ট এএম সিংকে উল্লিখিত সমস্ত সন্দেহজনক এলাকা ও চেক পয়েণ্টে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্ৰাকৃতিক সম্পদ নিয়ে কেউ যাতে অবৈধ কার্যকলাপ ও ব্যবসা চালাতে না পারে তার জন্যই মন্ত্ৰীর ওই কড়া নির্দেশ।

‘ধরনের অবৈধ ব্যবসায় কোনও বন আধিকারিককে জড়িত পাওয়া গেলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে সাসপেন্ড করতে বলা হয়েছে। তাছাড়া অসাধু বন কর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও গ্ৰহণ করা হবো’-বলেন শুক্লবৈদ্য।

পূর্ত ও জল সম্পদ বিভাগের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য এজাতীয় প্ৰাকৃতিক সামগ্ৰী প্ৰয়োজন হয়। তাই পারমিট দেখে বিষয়টির মোকাবিলা করার জন্য মুখ্য বন সংরক্ষককে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এই ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হলে বনজ ও প্ৰাকৃতিক সম্পদের অবৈধ ব্যবসা রোখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন মন্ত্ৰী শুক্লবৈদ্য।

 

 

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ হাইলাকান্দিতে ১৫০০ বোতল মদ ধ্বংস করলেন পরিমল শুক্লবৈদ্য