Begin typing your search above and press return to search.

অগপকে জোট সরকার থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আর্জি রাম মাধবের

অগপকে জোট সরকার থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আর্জি রাম মাধবের

Sentinel Digital DeskBy : Sentinel Digital Desk

  |  18 Jan 2019 8:23 AM GMT

গুয়াহাটিঃ বিজেপি-র জাতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব দিশপুরের জোট সরকার থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত অগপকে পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে বিজেপি-র জাতীয় নেতে এই ইঙ্গিতও দিয়েছেন সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে নাগরিক সংশোধনী বিল ২০১৬ আলোচনার জন্য রাজ্যসভায় তোলা হতে পারে। বৃহস্পতিবার গুয়াহাটির অটল বিহারী বাজপেয়ী ভবনে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখার সময় রাম মাধব বলেন,‘দিশপুরে জোট সরকার থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য আমরা অসম গণ পরিষদের(অগপ)কাছে আর্জি জানিয়েছি। মুখ্যমন্ত্ৰী সর্বানন্দ সোনোয়াল তিন অগপ মন্ত্ৰীর পদত্যাগপত্ৰ এখনও রাজভবনে পাঠাননি অগপ ফের জোটে ফিরে আসবে এই আশা করে। উল্লেখ্য,২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-অগপ জোট বেঁধেই ভোট চেয়েছিল এবং রাজ্যের মানুষও রাজ্য শাসনের ক্ষমতা তাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তাই একসঙ্গে মিলেমিশেই আমরা পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে পারবো’।

অগপ-র তিন মন্ত্ৰী অতুল বরা,কেশব মহন্ত ও ফণীভূষণ চৌধুরী গত ৯ জানুয়ারি তাঁদের পদত্যাগ পত্ৰ দাখিল করেছিলেন।

রাম মাধব বলেন,নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে অসমে প্ৰতিবাদের জোয়ার উঠেছিল। এখনও চলছে প্ৰ্তিবাদ। তার জেরেই তিন অগপ মন্ত্ৰী ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি বলেন,কেউ কেউ ভুল বুঝেই রাজ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে প্ৰতিবাদ করছে। কেউ কেউ আবার রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বিলের বিরোধিতায় নেমেছেন। আবার কেউ কেউ বিলের বিরোধিতা করছেন রাজ্যে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে। বিল নিয়ে অহেতুক ভুল বার্তা ছড়ানো হচ্ছে। রাম মাধব পরিষ্কার করে বলেন,এই বিল শুধু অসম বা উত্তর পূর্বাঞ্চলের জন্য নয়,গোটা দেশের জন্য আনা হচ্ছে। তিনি বলেন,এমনও খবর রয়েছে যে এই বিল পাস হলে পড়শি বাংলাদেশ থেকে ১.৯০ কোটি মানুষ অসমে ঢুকে পড়বে। এ ধরনের খবরের কোনও সত্যতা নেই। ‘সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে আলোচনার জন্য বিলটি রাজ্যসভায় তোলা হতে পারে’।

বিজেপি নেতা রাম মাধব আরও বলেন,দেশ বিভাজনের সময় অসমের মানুষ নিরাপদ ছিলেন একমাত্ৰ গোপীনাথ বরদলৈর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য। তা না হলে এই রাজ্যও পাকিস্তানে চলে যেতো। কিন্তু দেশ ভাগের সময় সবাই তো ভাগ্যবান ছিলেন না। ফলে অনেককেই দেশ বিভাজনের শিকার হতে হয়েছিল। দেশ বিভাজন ও ধর্মীয় নির্যাতনের বলি এই সব হিন্দুদের ভারত ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। তাই এই সব শরণার্থীর কথা সরকারকে মাথায় রাখতেই হবে। এটা হিন্দুস্তান। ফলে পড়শি দেশে যারা ধর্মীয় নির্যাতনের বলি হয়েছেন তাদের এদেশে আশ্ৰয় দেওয়া হবে। হিন্দুরা হিন্দুস্তানে ঠাই না পেলে কোথায় যাবেন? তবে স্থানীয় খিলঞ্জিয়াদের সমস্যায় ফেলে উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালিদের স্থান দেওয়ার প্ৰশ্নই ওঠে না-বলেন তিনি। অসমের খিলঞ্জিয়া মানুষের অস্তিত্ব রক্ষায় অসম চুক্তির ৬ নম্বর দফা অক্ষরে রূপায়ণ করা হবে বলে তিনি জানান।

একাংশ বিজেপি নেতা এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন উত্তর পূর্ব গণতান্ত্ৰিক জোটের(নেডা)নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতা করা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে রাম মাধব বলেন,‘আমি জনপ্ৰতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবো’। তাঁর মতে,অসম ও উত্তরপূর্বের মানুষ আমাদের বিশ্বাস করে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। ফলে এই অঞ্চলের মানুষের ধারণা ও আবেগকে আমরা উপযুক্ত সম্মান দেবো। তিনি বলেন,রাজ্যের ছয় জনগোষ্ঠীকে জনজাতির স্বীকৃতি দেওয়া হবে। তবে এতে অন্যদের যাতে কোনও ক্ষতি না হয় লক্ষ্য রাখা হবে সেদিকেও। বিজেপি নেতা আরও বলেন,কেন্দ্ৰীয় সরকার সুপ্ৰিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে অসমে এনআরসি নবায়নের কাজ করছে। অসম চুক্তির ৬নং দফা অনু্যায়ী রাজ্যের সংস্কৃতি,পরম্পরা,ভাষা,সাহিত্য ও খিলঞ্জিয়া মানুষের রক্ষাকবচের ব্যবস্থা করতে কেন্দ্ৰ বদ্ধপরিকর বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Next Story