সংবাদ শিরোনাম

ইকো-টাস্ক ফোর্সের অভাবে মানস রাষ্ট্ৰীয় উদ্যানে উচ্ছেদ অভি্যানে ব্যাঘাত ঘটছে

মানস রাষ্ট্ৰীয় উদ্যানে

গুয়াহাটিঃ মানস রাষ্ট্ৰীয় উদ্যানে ইকো টাস্ক ফোর্স(টেরিটরিয়াল আর্মি)মোতায়েন না করায় উদ্যান এলাকায় নতুন করে চলা জবরদখলের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর ক্ষেত্ৰে প্ৰতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। কয়েক বছর আগে মানস রাষ্ট্ৰীয় উদ্যানের ব্ৰ্যাঘ্ৰ সংরক্ষণ প্ৰকল্পের অধীনে ১৩৫ জনের একটা ইকো টাস্ক ফোর্স কোম্পানি পার্কে মোতায়েনের প্ৰস্তাব করা হয়েছিল এবং এব্যাপারে রাজ্য বন ’বিভাগকে প্ৰক্ৰিয়া শুরু করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য বন বিভাগ ইকো টাস্ক ফোর্স গঠনে আজ অবধি তহবিল মঞ্জুর করতে না পারার কারণ কি সেটা দিশপুরই বলতে পারবে।

বন বিভাগের একজন আধিকারিক বলেছেন,তাঁর বিভাগ ওই বাহিনী গঠনের জন্য খুবই আগ্ৰহী। কিন্তু অর্থ বিভাগ এই উদ্দেশ্যে প্ৰয়োজনীয় তহবিল আজ অবধি অনুমোদন করেনি-বলেন কর্মকর্তাটি। পর্যাপ্ত বনকর্মীর অভাবে মানস রাষ্ট্ৰীয় উদ্যানে নতুন করে দখলদাররা জাঁকিয়ে বসছে বলে কেন্দ্ৰীয় সরকারের তরফ থেকে উল্লেখ করার সঙ্গে সঙ্গেই এই বিষয়টিও প্ৰকাশ্যে উঠে আসে। পার্ক কনজারভেশনের রিপোর্টের ভিত্তিতেই কেন্দ্ৰ মানস রাষ্ট্ৰীয় উদ্যানে ফের জবরদখলের বিষয়টি উল্লেখ করে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ওই রিপোর্ট ইউএনএসসিও-র ওয়র্ল্ড হ্যারিটেজ কমিটির(ডব্লিউএইচসি)কাছে পাঠিয়েছে।

এবছর কমিটির মানস রাষ্ট্ৰীয় উদ্যান অধিবেশনে বিষয়টি আলোচনার জন্য উত্থাপন করা হবে। ২০১৬-র ২২ ডিসেম্বর ভুইয়ানপাড়ায় জবরদখলের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভি্যান চালানো হয়েছিল। সেবার দখল করে রাখা ১৬০০ হেক্টর জমি দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করা গিয়েছিল। কিন্তু উচ্ছেদ হওয়া লোকেরা আবার সেখানে আস্তানা গেড়ে বসে। ফলে ভেস্তে যায় উচ্ছেদ অভিযান প্ৰক্ৰিয়া। ২০১৭ সালের ফেব্ৰুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় উচ্ছেদ অভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ওই প্ৰয়াসের বিরোধিতা করেন এবং বন কর্তৃপক্ষও তাদের প্ৰতিরোধ করতে পারেনি। এদিকে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ ন্যাচার ইতিমধ্যেই কেন্দ্ৰকে বলেছে যে কেন্দ্ৰ যদি মানসকে ইউএনইএসসিও-র ওয়র্ল্ড হ্যারিটেজ লিস্টে দেখতে চায় তাহলে উদ্যানকে জবরদখল থেকে মুক্ত করতেই হবে। কেন্দ্ৰের রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ২০১৬-তে মানসে কোনও গন্ডার নিধনের ঘটনা ঘটেনি।

উদ্যানের বাইরে পানবাড়ি রেঞ্জে একটি বাঘ হত্যা করা হয়েছিল ২০১৭ সালে। তবে চোরাশিকারিদের গ্ৰেপ্তার করে কোর্টে চালান দেওয়া হয়েছিল। উদ্যান কর্তৃপক্ষ বেশকটি পরিবেশ উন্নয়ন কমিটি গঠন করেছেন এবং গ্ৰামবাসীদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কেরও উন্নতি হয়েছে। গ্ৰামবাসীরা এখন উদ্যানের দেখভাল ও সংরক্ষণে পরিচালন কর্তৃপক্ষকে সমর্থন করেছেন-উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।