সংবাদ শিরোনাম

ক্ষমতায় এলে অসমকে ফের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদাঃ রাহুল

রাহুল

গুয়াহাটিঃ কেন্দ্ৰে ক্ষমতায় এলে অসমকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে চালু করবে উত্তরপূর্ব শিল্প এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন নীতি(এনইআইআইপিপি)। কংগ্ৰেস সভাপতি রাহুল গান্ধী মঙ্গলবার বিকেলে গুয়াহাটির খানাপাড়ায় ভেটেরিনারি কলেজের মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় এই প্ৰতিশ্ৰুতি দেন। রাহুল বলেন,২০১৪ সালে বিজেপি কেন্দ্ৰের ক্ষমতায় আসার পর অসমের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা তারা প্ৰত্যাহার করে নেয়। এটা রাজ্যের প্ৰতি গেরুয়া দলটির দায়িত্ব জ্ঞানহীন মনোভাবেরই পরিচায়ক-উল্লেখ করেন কংগ্ৰেস সভাপতি।

বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্ৰীয় সরকার ২০১৫ সালে অসমকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদার বিষয়টি রদ করে দেয়। বিশেষ রাজ্যের মর্যাদার অধীনে কেন্দ্ৰের স্পনসরকৃত স্কিমের ক্ষেত্ৰে রাজ্যের অংশ ১০ শতাংশেরও বেশি করা হয়নি।

‘বিজেপি সরকার উত্তর পূর্ব শিল্প এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন নীতিও(এনইআইআইপিপি)বাতিল করে দেয়। যার দরুন এই অঞ্চলের শিল্প বিকাশ এবং বিনিয়োগের সু্যোগ সুবিধা সৃষ্টির বিষয়টি পিছিয়ে যায়’। ক্ষমতায় এলে কংগ্ৰেস রাজ্যকে বিশেষ মর্যাদা দান ও এনইআইআইপিপি পুনরায় কার্যকরী করতে ব্যবস্থা নেবে-বলেন রাহুল। গান্ধী বলেন,দল ক্ষমতায় এলে জাগিরোড ও কাছাড় কাগজ কল পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যবস্থা নেবে। সেই সঙ্গে অসমকে ভরতের কারিগরি শিক্ষার হাব হিসেবে গড়ে তুলবে।

রাহুল আরও বলেন,নির্বাচনে জিতলে তাঁর দল উত্তর পূর্বাঞ্চলের সংস্কৃতি,ইতিহাস এবং ভাষা সংরক্ষণে পদক্ষেপ নেবে। ‘বিজেপি-আরএসএস-এর আদর্শ হচ্ছে উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মুছে ফেলা। আর সেজন্যই তারা(বিজেপি-আরএসএস)এই অঞ্চলের জীবনধারা,সংস্কৃতি,ভাষা ও ইতিহাসের ওপর আক্ৰমণ হানছে। নাগপুরই(আরএসএস-এর সদর দপ্তর)অসমে কি হওয়া উচিত তারই শ্ৰুতলিপি গেয়ে চলেছে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের মানুষ কয়েক দশক ধরে শান্তি ও সম্প্ৰীতির সঙ্গে সহাবস্থান করছেন। কিন্তু আরএসএস এই অঞ্চলে ঘৃণা,বিদ্বেষের বীজ ছড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে-অভিযোগ করেন কংগ্ৰেস সভাপতি। এই মঞ্চ থেকে আমি নরেন্দ্ৰ মোদি ও আরএসএস প্ৰধান মোহন ভাগবতকে সতর্ক করে দিতে চই যে উত্তর পূর্বের মানুষের মধ্যে বিভেদের বীজ বোনার সু্যোগ কংগ্ৰেস কখনোই তাদের দেবে না। গান্ধী আস্থার সুরে বলেন এবার কংগ্ৰেসই কেন্দ্ৰের ক্ষমতায় আসবে এবং এই অঞ্চলের অস্তিত্ব রক্ষায় কাজ করে যাবে। উজান অসমে বিষ মদ কাণ্ডের জন্য বিজেপিই একমাত্ৰ দায়ী বলে উল্লেখ করে তিনি চা বাগান কর্মীদের জন্য নিয়মিত পারিশ্ৰমিক দেওয়ার জন্য একটি স্কিম গ্ৰহণ করার প্ৰতিশ্ৰুতি দেন।

কংগ্ৰেস সভাপতি অভিযোগ করে বলেন,মোদি জমানায় ১৫ জন বাছাই শিল্পপতিকে ৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ মকুব করা হয়েছে। গত সাড়ে চার বছরে মোদিজি বাছাই করা ১৫ জন ধনী ব্যক্তির হাতে কোষাগারের চাবি তুলে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন গান্ধী। কিন্তু কংগ্ৰেস চায়,কৃষক,যুবক ও গরিবদের হাতে চাবি তুলে দিতে । গরিবদের জন্য আমরা ন্যূনতম আয়ের পরিমাণ নিশ্চিত করতে একটি স্কিম চালু করবো’-বলেন রাহুল।