রাজ্যের খবর

নাগরিকত্ব বিল বাতিল হচ্ছে ৩ জুন

নাগরিকত্ব বিল

শিলং:/নয়াদিল্লিঃ বিতর্কিত নাগরিকত্ব(সংশোধনী)বিল ২০১৬ বুধবার রাজ্যসভায় উত্থাপিত না হওয়ায় গোটা উত্তরপূর্বাঞ্চলে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। গতকালই ছিল মোদি সরকারের আমলে রা্জ্যসভার অধিবেশনের শেষ দিন। রাজ্যসভায় গরিষ্ঠ সংখ্যক সদস্য না থাকায় কেন্দ্ৰের এনডিএ সরকার বিল উত্থাপন থেকে বিরত থাকে। এই বিলের প্ৰতিবাদে গত বেশ কিছুদিন ধরে উত্তর পূর্বাঞ্চলের অশান্তির আগুন জ্বলছিল। আসু নেসো সহ ৭০টির বেশি সংগঠন এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যের সরকারগুলিও বিল বিরোধী আন্দোলনে শামিল হয়েছিল। বিলটি রাজ্যসভায় পাস না হওয়ায় শেষপর্যন্ত উত্তর পূর্বাঞ্চলের আন্দোলনকারী আমজনতারই নৈতিক জয় হলো। বিতর্কিত এই বিলটি আগামি ৩ জুন বাতিল হয়ে যাবে,কারণ ওই সময়ই শেষ হচ্ছে বর্তমান লোকসভার মেয়াদ। গতকাল রাজ্যসভার অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যাওয়ায় বিলটি পাস করানো যায়নি। উত্তরপূর্বের বিভিন্ন অসামরিক সংস্থা,গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দল বিতর্কিত বিলের বিরোধিতা করে আসছিল।

অসমের প্ৰাক্তন মুখ্যমন্ত্ৰী প্ৰফুল্লকুমার মহন্তের নেতৃত্বে অগপ এবং উত্তরপূর্ব ছাত্ৰ সংঠনের(নেসো)অধ্যক্ষ স্যামুয়েল জিওয়ার নেতৃত্বে একটি প্ৰতিনিধিদল নয়াদিল্লিতে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্ৰী কনরাড কে সাংমার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ধন্যবাদ জানান,উচ্চ সদনে বিল পাস রুখতে তাঁর সুসংহত প্ৰয়াসের জন্য।

উল্লেখ্য,গত ৮ জানুয়ারি লোকসভায় পাস হয়েছিল নাগরিকত্ব(সংশোধনী)বিলটি। এই বিলে আফগানিস্তান,পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা এবং এদেশে ছয় বছর ধরে বসবাসকারী হিন্দু,শিখ,বৌদ্ধ,জৈন,পার্শি ও ক্ৰিস্টানদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দিতে ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করতে চাওয়া হয়েছিল। বিলটি রাজ্যসভায় পাস না হওয়ার বিষয়টি উত্তর পূর্বাঞ্চল ও সারা দেশের কাছে একটা আবেগিক মুহূর্ত এবং অঞ্চলটির মানুষ এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

ছাত্ৰ সংগঠন,অসামরিক সংস্থা ও এনজিওগুলি এই বিতর্কিত বিল ঠেকাতে মরিয়া হয়ে আন্দোলন চালাচ্ছিল। সরকার বিলটি রাজ্যসভায় তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় অবশেষে বিশেষ করে উত্তর পূর্বাঞ্চলের মানুষেরই নৈতিক জয় হলো। বিলের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে লড়াই চালানোর জন্যই এমনটা সম্ভব হওয়ায় সাংমা সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনকে ধন্যবাদ জানান। ‘এটা আমাদের কাছে একটা বিশেষ মুহূর্ত’-সাংবাদিকদের বলেন উচ্ছ্বসিত সাংমা। বিল বিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে সম্মিলিত প্ৰয়াস চালানোর জন্য জিরওয়া উত্তর পূর্বাঞ্চলের জনগণকে ধন্যবাদ জানান।