Begin typing your search above and press return to search.

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস ও অসম চুক্তির ৬নং দফা রূপায়ণে এগোচ্ছে কেন্দ্ৰঃ মোদি

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস ও অসম চুক্তির ৬নং দফা রূপায়ণে এগোচ্ছে কেন্দ্ৰঃ মোদি

Sentinel Digital DeskBy : Sentinel Digital Desk

  |  5 Jan 2019 10:20 AM GMT

শিলচরঃ নাগরিকত্ব(সংশোধনী)বিল ২০১৬ সংসদে পাস করানোর কাজ সঠিক দিশায়ই এগোচ্ছে। এই মন্তব্য দেশের প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদির। শুক্ৰবার শিলচরের রামনগরে এক বিশাল বিজয় সংকল্প সমাবেশে মোদি নাগরিকত্ব বিল সংসদ পাস করানোর আশা ব্যক্ত করলেন। জাতীয় নাগরিক পঞ্জি(এনআরসি)থেকে একজনও প্ৰকৃত ভারতীয় নাগরিকের নাম বাদ পড়বে না-এমন অভয়বাণীও শোনালেন প্ৰধানমন্ত্ৰী।

এদিন মোদির ভাষণে মূলত দুটি প্ৰতিশ্ৰুতি শোনা গেল। এর একটি হলো নাগরিক পঞ্জি থেকে কোনও ভারতীয় নাগরিকের নাম বাদ যাচ্ছে না। দ্বিতীয়ত,নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল অবিলম্বে সংসদে পাস করানোর আশা। উল্লেখ্য,নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাসের মাধ্যমে উদ্ধাস্তু হিন্দু বাঙালিদের নাগরিকত্ব দিতে চাইছে কেন্দ্ৰীয় সরকার। পাশাপাশি অসম চুক্তির ৬নং দফা রূপায়ণ করে অসমিয়াদের জন্য সাংবিধানিক রক্ষাকবচের ব্যবস্থা করার কথাও শোনালেন মোদি।

প্ৰধানমন্ত্ৰী এদিন আরও বলেন,নাগরিকত্ব বিল এনে বর্তমান সরকার দেশ বিভাজনের পাপের প্ৰায়শ্চিত্ত করতে চাইছে। কেন্দ্ৰের বর্তমান সরকার কোনওভাবেই অসমের ভূমিপুত্ৰদের অধিকার খর্ব করার পক্ষপাতী নয় বলে খোলসা করেন প্ৰধানমন্ত্ৰী। এদিন মোদি ভাষণের শুরুটা করেন বাংলায়। অনেক কাঠখড় পোড়ানো ও চেষ্টার পরই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সংসদে তোলার জন্য প্ৰস্তুত করা হয়েছে-উল্লেখ করেন তিনি। বলেন,দেশ ভাগ করে যারা ভুল করেছিল তার প্ৰায়শ্চিত্ত করতেই কেন্দ্ৰ এই বিল উত্থাপনের প্ৰস্তুতি নিচ্ছে। এব্যাপারে মোদি কংগ্ৰেস অথবা অন্য কোনো দলের নাম উচ্চারণ করেননি।

প্ৰধানমন্ত্ৰী বলেন ৬০ বছরেরও বেশি সময় কংগ্ৰেস অসম শাসন করেছে। কিন্তু তাদের আমলে রাজ্যের তেমন কোনও উন্নয়নই হয়নি। তিনি বাঙালি হিন্দুদের উদ্দেশে বলেন,‘আপনারা আমার ওপর আস্থা রাখুন। কোনও হিন্দু বাঙালিকে দেশ থেকে তাড়ানো হবে না। এনআরসি নবায়ন ইস্যুতে সরকার যে প্ৰকৃত ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টি সহৃদয়তার সঙ্গে বিবেচনা করছে তাও দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন মোদি। রাজ্যে এনআরসি নবায়নের কাজে আপামর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মোদি এদিন সর্বানন্দ সরকারের প্ৰশংসায় মুখর হন।

এনআরসি নবায়নের পুরো প্ৰক্ৰিয়া চলাকালে রাজ্যের হিন্দু বাঙালিদের যে দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়তে হয়েছিল তার সত্যতাও স্বীকার করে নেন মোদি। তবে সবার অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্যই রাজ্যে এনআরসি নবায়ণ প্ৰক্ৰিয়া সম্ভব হয়েছে-বলেন প্ৰধানমন্ত্ৰী। এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্ৰী সর্বানন্দ সোনোয়াল ও তাঁর সতীর্থদের ভূমিকার প্ৰতি কৃতজ্ঞতাও প্ৰকাশ করেন তিনি।

প্ৰধানমন্ত্ৰী বলেন সেই ১৯৮৫ সালে ঐতিহাসিক অসম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এতদিন চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৬(এ) দফা কাগজেই বন্দী ছিল। কিন্তু কেন্দ্ৰে তাঁর সরকার ও রাজ্যে সোনোয়াল সরকার ক্ষমতায় আসার পর চুক্তির ওই ধারা রূপায়ণে সংশ্লিস্ট সব পক্ষকে আস্থায় নিয়ে একটি উচ্চস্তরীয় কমিটি গড়া হচ্ছে-জানান মোদি। তিনি বলেন,অসম চুক্তির এই দফা রূপায়িত হলে অসমিয়া মানুষের অস্তিত্ব,ভাষা,সংস্কৃতি সুরক্ষিত হবে।২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনই ছিল এই বিশাল সভার মোক্ষম লক্ষ্য। তাই প্ৰধানমন্ত্ৰীর ভাষণে ঘুরে ফিরে আসে বিভিন্ন সরকারি পদক্ষেপের কথা। অসম সহ গোটা উত্তর পূর্ব ভারতকে নিয়ে সরকারের বিশাল পরিকল্পনার কথাও ঠাঁই পায় প্ৰধানমন্ত্ৰীর বক্তব্যে।

সরকারের অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি(পূর্বে তাকাও নীতি)বাস্তবায়নে সারা উত্তর পূর্বাঞ্চলে স্থলপথ,জলপথ ও বিমানবন্দর আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। বাজপেয়ীর স্বপ্নের শিলচর-সৌরাষ্ট্ৰ মহাসড়কও নির্মাণ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি রূপায়ণই এখন সরকারের মন্ত্ৰ। তাঁর মতে গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চলের উন্নতি না হলে দেশ এগোতে পারবে না। ‘দুর্নীতি শিকড় গেড়ে বসলে কোনও জনমুখী ও কল্যাণকর কাজ সফল হবে না। স্বাধীনতার পর থেকে কংগ্ৰেস দীর্ঘ বছর দেশ শাসন করেছে। তাদের আমলে গোটা ব্যবস্থায়ই দুর্নীতি বাসা বেঁধে বসেছিল।

রাফাল যুদ্ধ বিমান কেনা নিয়ে কংগ্ৰেস সভাপতি রাহুল গান্ধী যখন লোকসভা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলছেন সে সময় শিলচরের জনসভায় দাঁড়িয়ে মোদি জানান অগাস্তা চপার কেনার দালাল মিশেলকে সরকার ধরেছে। এখন তার জেরা চলছে। অগাস্তা চপারের দালাল মিশেল গ্ৰেপ্তার হওয়ায় অনেকেরই মুখে চিন্তার ছাপ পড়েছে সেকথাও ভাষণে টেনে আনেন প্ৰধানমন্ত্ৰী। বলেন,কংগ্ৰেস জমানায় মধ্যভোগী ছাড়া কোনও কাজই হতো না। জনগণের টাকা যারা হাতিয়ে নিয়েছে তাদের কাউকেই ছেড়ে দেওয়া হবে না-বলেন মোদি।

Next Story