রাজ্যের খবর

প্ৰধানমন্ত্ৰীর চাংসারি সমাবেশকে নাটক আখ্যা তরুণ গগৈর

তরুণ গগৈ

গুয়াহাটিঃ কামরূপ জেলার চাংসারিতে শনিবার প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদির যে সমাবেশ হলো তাকে এক নাটক বলে আখ্যা দিলেন রাজ্যের প্ৰাক্তন মুখ্যমন্ত্ৰী তরুণ গগৈ। তিনি বলেন,লোকসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়,তাই প্ৰধানমন্ত্ৰী এখন অসমে এসে মায়াকান্না কেঁদে গেলেন।

রবিবার গুয়াহাটিতে গগৈ সাংবাদিকদের বলেন,‘ভূমি পুজন’এর কথা আমরা কখনো শুনিনি। এর পরম্পরাগত শব্দ হচ্ছে শিলান্যাস অথবা কোনও প্ৰকল্পের সূচনা করা। প্ৰধানমন্ত্ৰী আগেই এইমস-এর শিলান্যাস করেছেন’। গগৈ বলেন,‘প্ৰধানমন্ত্ৰী গোপীনাথ বরদলৈ,লাচিত বরফুকন,চুকাফা এবং ড.ভূপেন হাজরিকার নাম নিয়েছেন। আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম তখনই যোরহাটের কাছে চুকাফা সমন্বয় ক্ষেত্ৰের কাজ শুরু করেছিলাম। বর্তমান সরকার ওই প্ৰকল্প নিয়ে গত তিন বছরে কি করেছে? আমাদের সরকারই ব্ৰহ্মপুত্ৰের বুকে স্থাপনের জন্য লাচিতের মূর্তি নির্মাণ করেছিলাম। তাই এই প্ৰকল্প নিয়ে বর্তমান সরকার কি সম্প্ৰসারণের কাজ করেছে? ক্ষমতায় থাকাকালে আমরাই ড. ভূপেন হাজরিকাকে ভারতরত্ন সম্মান দেওয়ার জন্য কেন্দ্ৰের কাছে প্ৰস্তাব দিয়েছিলাম এবং ওই সময় মোদিই প্ৰধানমন্ত্ৰী ছিলেন। প্ৰধানমন্ত্ৰী গোপীনাথ বরদলৈর নাম নিয়েছেন। আসলে বরঝাড় বিমানবন্দরের নাম গোপীনাথ বরদলৈ বিমানবন্দর নামাঙ্কিত করেছিল কারা? তাই প্ৰধানমন্ত্ৰী প্ৰকৃতার্থেই যদি অসমের বরেণ্য ব্যক্তিদের শ্ৰদ্ধা জানাতে চান তাহলে তাঁর অবিলম্বে নাগরিকত্ব(সংশোধনী)বিল ২০১৯ বাতিল করা উচিত’।

‘লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসার জন্য মোদি এখন রাজ্যে এসে মায়াকান্না জুড়েছেন’-বলেন তরুণবাবু। ‘চাংসারির সমাবেশ আসলে একটা সরকারি অনুষ্ঠান। ওখানে আমাকে আমন্ত্ৰণ জানানো হলো না কেন? সরকারি অনুষ্ঠানে সব বিধায়ককেই আমন্ত্ৰণ জানানো উচিত। বাস্তবটা হচ্ছে সমাবেশের উদ্যোগী হিসেবে বিজেপি ও সরকার এক এবং অভিন্ন’-বলেন গগৈ।

বিদেশি নাগরিক ইস্যুতে তোপ দেগে গগৈ বলেন,গত সাড়ে চার বছরে কতজন বিদেশিকে সরকার বহিষ্কার করেছে প্ৰধানমন্ত্ৰী তা জনসমক্ষে তুলে ধরুন। বিদেশি বিতাড়ন তো দূরের কথা এই সরকার  এখন বিদেশিদের রক্ষণাবেক্ষণ দেওয়ার চেষ্টায় মজেছে। বিজেপি এখন আসুকেও ধ্বংস করতে চাইছে। রাজ্যের হিন্দুস্তান কাগজ কল নিয়ে প্ৰধানমন্ত্ৰী নীরব কেন তাও জানতে চান প্ৰাক্তন মুখ্যমন্ত্ৰী।