বিনোদন

বিনোদন জগতে ২০১৮ সালে যারা আমাদের ছেড়ে গিয়েছেন

বিনোদন জগতে

কালের নিয়মেই জীবন বৃক্ষ থেকে একটি একটি করে পাতা ঝরে পড়ে! কিন্তু শোক তাতে প্রশমিত হয় না! সান্ত্বনা বলতে থেকে যায় কেবল স্মৃতি! সেই স্মৃতি নিয়েই এ বার ফুরিয়ে আসা ২০১৮ সালের দিকে দৃষ্টিপাত! মনে ধরে রাখা প্রিয় সেই সব মানুষদের, যাঁরা প্রাপ্তির ভান্ডারটি শূন্য করে বিদায় নিয়েছেন ইহলোক থেকে!

সুপ্রিয়া দেবী

১৯৩৩ সালের ৮ জানুয়ারি সাবেক বার্মায় জন্ম হয় সুপ্রিয়ার। আদতে বাংলাদেশের ফরিদপুরের বাসিন্দা সুপ্রিয়ার পরিবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কলকাতায় চলে আসেন। ১৯৫২ সালে উত্তমকুমার অভিনীত ‘বসু পরিবার’ ছবির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন সুপ্রিয়া চৌধুরী। তাঁর বিখ্যাত ছবিগুলি সম্পর্ক নতুন কিছু বলার নেই। তবু মনে করা যাক, মেঘে ঢাকা তারা, কোমল গান্ধার, শুন বরনারী, স্বরলিপি, তিন অধ্যায়, সন্ন্যাসী রাজা, সিস্টার ছবিগুলির কথা। সিনেমা ছাড়াও তিনি সিরিয়ালেও চুটিয়ে অভিনয় করেছেন পরবর্তী কালে। পারিবারিক জীবনে সেই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে অত্যন্ত সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সুপ্রিয়া। পরিবার ছেড়ে এক সঙ্গে থাকতে শুরু করেছিলেন মহানায়ক উত্তমকুমারের সঙ্গে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মহানায়কের একান্ত সঙ্গীর পরিচয়টিকেই বহন করেছেন সুপ্রিয়া দেবী। ২৬ জানুয়ারি ভোর রাতে তাঁর বালিগঞ্জের বাড়িতে ৮৫ বছর বয়সে মৃত্যু হল তাঁর। সুপ্রিয়া দেবী দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। হাসপাতালে ভর্তিও ছিলেন। দিন সাতেক আগেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাতেও ভুগছিলেন।

বাসবী নন্দী  :২২ জুলাই কার্ডিয়াক অ্যাটাকে শহরের এক বেসরকারি নার্সিংহোমে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা ছবি এবং নাট্যজগতের এই পুরোধা নায়িকা। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। কারাগার, শ্রীমতী ভয়ঙ্করীর মতো নাটক যেমন, তেমনই যমালয়ে জীবন্ত মানুষ, বনপলাশীর পদাবলীর মতো ছবির কারণেও অমর হয়ে থাকবে তাঁর স্মৃতি!

ললিতা চট্টোপাধ্যায়

উত্তমকুমারের ‘বিভাস’ ছবিতে তাঁর আত্মপ্রকাশ, ১৯৬৪ সালে। এর পর মহানায়কের সঙ্গে ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’, ‘মেমসাহেব’, ‘হার মানা হার’, ‘জয় জয়ন্তী’-সহ আরও অনেক ছবিতেই তিনি অভিনয় করেন। বাংলার পাশাপাশি একাধিক হিন্দি ছবিতেও সুনামের সঙ্গে অভিনয় করেছেন ললিতা। সেরিব্রাল অ্যাটাকে নার্সিংহোমে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ছ’-সাতের দশকের বাংলা ও হিন্দি ছবির এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। বয়স হয়েছিল ৮১।

আভা মুখোপাধ্যায়

তরু মুখোপাধ্যায়ের রাম ধাক্কা নামের বাংলা ছবি দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে এই অভিনেত্রীর আত্মপ্রকাশ। পরে যদিও তিনি পুরোপুরি চলে যান বলিউডের জগতে, দেবদাস, ডরনা জরুরি হ্যায়-এর মতো ঠাকুমার চরিত্রে ধরে রাখবে তাঁর অমলিন হাসি। ১৫ জানুয়ারি, মুম্বইয়ে, ৮৮ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আভা!

সুরমা ঘটক

তাঁর প্রয়াণে একটি যুগ যে মুছে গেল বাংলা ছায়াছবি তথা কলকাতার বুক থেকে, সে কোনো নতুন কথা নয়। কিন্তু পাশাপাশি, অকপট সত্যবাদিতার তারাও ঢেকে গেল মেঘে। প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের স্ত্রী সুরমা ঘটক। জানা গিয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ছিলেন শ্রীমতী ঘটক। বেশ কিছু দিন ধরে ভর্তি ছিলেন এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে। সেখানেই অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। কিন্তু জীবনপ্রদীপটি নিভে গেল ৭ মে মধ্য রাতে। রাত ১২টা বেজে ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বিপ্লবকেতন চক্রবর্তী

জীবনের শেষ পর্বটায় যকৃতের সমস্যা আক্রান্ত করে রেখেছিল তাঁর শরীর। অন্য দিকে, ডিসলেক্সিয়া আচ্ছন্ন করে রেখেছিল তাঁর মনন। দীর্ঘ দিন ধরে কাউকে চিনে ওঠার ক্ষমতাও ছিল না তাঁর। ৩০ নভেম্বর ভোর সওয়া চারটে নাগাদ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছে বিপ্লব বলে জানা গিয়েছে। খবর বলছে, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। বাংলা নাট্যজগতে এক সময়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ নাম ছিলেন বিপ্লবকেতন। ১৯৭২ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত ‘চেতনা’ নাট্যদলের সঙ্গে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও পরে ‘থিয়েটারওয়ালা’ নামে নিজস্ব দল গড়েন। ‘বাঘু মান্না’, ‘কাচের দেওয়াল’-এর মতো মঞ্চসফল বিভিন্ন নাটকের নির্দেশক ছিলেন তিনিই। অবিস্মরণীয় ‘মারীচ সংবাদ’, ‘জগন্নাথ’-এর মতো নাটকে তাঁর অভিনয়ও। এ ছাড়া, সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিলেন বাংলা ছোটোপর্দার সঙ্গেও। ‘চুনি পান্না’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের সাফল্য তাঁকে বাংলার ঘরে ঘরে চুনি নামেই প্রসিদ্ধ করে তোলে! রীতিমতো জনপ্রিয় হয় ‘জন্মভূমি’ ধারাবাহিকে তাঁর অভিনীত খল চরিত্র এককড়িও।

দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়

বেশ কয়েক মাস ধরেই ফুসফুসের সংক্রমণে অসুস্থ ছিলেন তিনি। বার বার ভর্তি হতে হচ্ছিল হাসপাতালে। ২৪ ডিসেম্বর বেলা পৌনে দুটোয় নিজের বাড়িতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। ১৯৪৪ সালে সঙ্গীতজীবন শুরু হয়েছিল দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের। দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় নামটিকে সঙ্গীতজগতে মূলত পরিচিত করে তোলেন সলিল চৌধুরী। চল্লিশের দশকে আইপিটিএ-র সঙ্গে যুক্ত এই দুই বন্ধুর দৌলতে একের পর এক স্মরণীয় গান উপহার পায় বাংলার সংস্কৃতি জগত! শ্যামলবরণী ওগো কন্যা, ক্লান্তি নামে গো, একদিন ফিরে যাব চলে, পল্লবিনী গো সঞ্চারিণী প্রভৃতি যে তালিকায় উল্লেখযোগ্য! রবীন্দ্রসঙ্গীতের জগতেও তাঁর কৃতিত্ব অবিস্মরণীয়, বিশেষ করে ছায়াছবির রবীন্দ্রসঙ্গীতে। বাঙালি মাত্রেই স্বীকার করতে বাধ্য- প্রতি বছর মহালয়ার ব্রাহ্মমুহূর্তে তাঁর কণ্ঠে জাগো দুর্গা যে শিহরণ নিয়ে আসে, তা তুলনারহিত- শুধু এই গানটিই তাঁর সঙ্গীতজীবনের অনন্য নজির হয়ে থাকবে বলা যায়!

গৌতম দে

ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন অনেক দিন ধরেই! কিন্তু অসুস্থতা তাঁর মুখের হাসি যেমন কেড়ে নিতে পারেনি, তেমনই হার মেনেছিল জেদের কাছেও! অসুস্থ শরীর নিয়েই নিয়মিত ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতেন বর্ষীয়ান অভিনেতা গৌতম দে! কিন্তু জীবনের সেই ছন্দে যবনিকাপাত হল ২৪ ডিসেম্বর সকাল ৭টা নাগাদ, শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। বাংলা নাট্যমঞ্চ বহু দিন হল সমৃদ্ধ হয়েছে গৌতমের অভিনয়ে। বৈশাখী ঝড়, সাবাস পেটোপাঁচু-র মতো নাটকে তাঁর অভিনয় আজও কিংবদন্তি। রবি ঘোষ, মনোজ মিত্রদের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিয়েই মঞ্চে অভিনয় কতরতেন গৌতম। তবে জন্মভূমি ধারাবাহিকের নরনারায়ণ চরিত্রে অভিনয় দিয়েই বাংলার ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েন তিনি! এর পর ধারাবাহিকে অভিনয়ের ইতিহাস বিস্তৃত- সদ্য শেষ হওয়া কুসুমদোলা, তিথির অতিথি যেমন সে তালিকায় থাকবে, তেমনই থাকবে রানি রাসমণি এবং হৃদয়হরণবি.এ. পাশ-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকও!

শম্ভু ভট্টাচার্য

বাংলা সিনেমায় খলনায়কের চরিত্রকে এক সময় তিনিই সাবালক করেছিলেন তাঁর ৬ ফুটের ওপর দৈর্ঘ্য, ডনবৈঠক দেওয়া ঋজু চেহারা ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর দিয়ে। অসুস্থ ছিলেন দীর্ঘদিন। লাঠি নিয়ে হাঁটতেন। বসলে, কারও সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতে পারতেন না। কাশীপুরের সরকারি আবাসনের বাসিন্দা শম্ভু ভট্টাচার্য কয়েক দিন যাবত বাগবাজারের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন। সেখানেই ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় মৃত্যু হয় তাঁর। ‘সাগিনা মাহাতো’, ‘কলকাতা ৭১’, ‘সন্ন্যাসীরাজা’, ‘ধনরাজ তামাং’, ‘সব্যসাচী’, ‘অগ্নীশ্বর’, ‘চারমূর্তি’ — এমন বহু জনপ্রিয় ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। শক্তি সামন্ত, পীযূষ বসু, তপন সিংহ, অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ খ্যাতনামা পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার আগেই তিনি নাট্যকার ও অভিনেতা উৎপল দত্তের সংস্পর্শে এসেছিলেন। শম্ভুবাবু উৎপল দত্তের প্রায় ৮-১০টা নাটকে চুটিয়ে অভিনয়ও করেছেন। এ ছাড়াও মঞ্চে তাঁকে পাওয়া গিয়েছে জহর রায়, অমর বোস বা রবি ঘোষদের নাটকে। হিন্দি-বাংলা মিলিয়ে দেড়শোর উপর ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। শেষ অভিনয় করেছেন ২০০৩ সাল নাগাদ ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় ‘চুড়িওয়ালা’ নামের একটি ছবিতে।

আইয়ুব বাচ্চু

ষাটের দশকে চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম আইয়ুব বাচ্চুর। নব্বইয়ের দশক থেকে ব্যান্ড সংগীতের চর্চা শুরু করেন তিনি। এরপর গান ও গিটারের জাদুতে ভক্ত-শ্রোতাদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এই গায়ক ও সঙ্গীত পরিচালক। ১৮ অক্টোবর সকাল সোয়া ৯টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শ্রীদেবী

সদমা! যে কোনো মৃত্যুই বেদনাদায়ক, কিন্তু শ্রীদেবীর আকস্মিক প্রয়াণের খবরে দেশের মানসিকতাকে যেন নায়িকার অভিনীত ছবির শিরোনাম দিয়েই ব্যাখ্যা করতে হয়! কেন না তাঁর অন্তিম পরিণতি মৃত্যু না হত্যা- এই বিতর্কের জট কাটেনি এখনও! ২৪ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ের একটি হোটেলের বাথটবে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তার পর থেকেই ঘনাতে থাকে রহস্য। যদিও উত্তর এবং দক্ষিণী ভারতীয় ছবিতে কয়েক দশক ধরে যে অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন নায়িকা, তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই! সদমা, চালবাজ, লমহে- অভিনীত উল্লেখ্য ছবির তালিকাও তাঁর যশের মতোই অফুরান!

রীতা ভাদুড়ি

১৭ জুলাই সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। অভিনেতা শিশির শর্মা নিজের ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞাত করার পরেই প্রকাশ্যে আসে বিষয়টি। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রীতা দীর্ঘদিন ধরেই কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১০ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। ছোটপর্দায় ‘কুমকুম’, ‘ছোটি বহু’-সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় টিভি শোতে তাঁর অভিনয়ে দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি বলিউড ও গুজরাত ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগসূত্র ছিল বর্ষীয়াণ এই অভিনেত্রীর। বলিউড ও গুজরাতের বেশ কিছু ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন রীতা। ঝুলিতে পুরস্কারের তালিকাও নেহাত কম নয়।

নার্গিস রবারি- শাম্মি

১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ভারতীয় ছায়াছবি সমৃদ্ধ হয়েছে তাঁর কমিক অভিনয়ে। ২০০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন নার্গিস রবারি, কখনও নায়িকার ভূমিকাতেও। যদিও এই নামের বদলে শাম্মি আন্টি বলেই তাঁকে চিনতে অভ্যস্ত ছিল ছবির দুনিয়া। ৬ মার্চ, ৮৮ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি!

স্ট্যান লি

অনেক দিন ধরে নিউমোনিয়া এবং চোখের সমস্যায় ভুগতে থাকা মার্ভেল কমিক্সের কর্ণধার, স্পাইডারম্যান-আয়রনম্যান-হাল্কের মতো অমর চরিত্রের স্রষ্টা স্ট্যান লি ১৩ নভেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তাঁর হলিউড হিলসের বাড়িতে, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। সেডার্স-সিনাই মেডিক্যালে সেন্টারে অতঃ পর নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে সেনাদলে সিগন্যাল কর্প বিভাগে কাজ করতেন স্ট্যান লি। পার্ল হারবারে বোমা পড়ার পরে তিনি সেনাদল থেকে ছাঁটাই হয়ে শুরু করেন লেখালেখির অধ্যায়। তবে, সেনাদলেও যে তিনি নানা রকম বিজ্ঞপ্তি লেখা, পোস্টার আঁকার কাজ করতেন এবং সেই সুবাদে পরিচিত হয়েছিলেন প্লেরাইট নামে।