সংবাদ শিরোনাম

বিল বিরোধিতায় সরকারের দেওয়া স্মারক সম্মান ফিরিয়ে দিলেন শহিদ পরিবার

বিল বিরোধিতা

গুয়াহাটিঃ নাগরিকত্ব(সংশোধনী)বিল ২০১৯ রাজ্যসভায় পাস করাতে কেন্দ্ৰের প্ৰয়াসের প্ৰ্তিবাদে অসম আন্দোলনের শহিদের মোট ৭৬টি পরিবার রাজ্য সরকারের তরফে তাঁদের দেওয়া স্মারক সম্মান বুধবার ফিরিয়ে দিয়েছেন। দুবছর আগে রাজ্য সরকার ওই স্মারক সম্মান ও এককালীন সাহা্য্য হিসেবে ৫ লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছিল শহিদ পরিবারগুলির হাতে। শহিদ পরিবারগুলি এদিন ‘সারা অসম জাতীয় শহিদ পরিয়াল সমন্বয়রক্ষী পরিষদের’ ব্যানারে মহানগরীর লতাশিলস্থিত আসুর কার্যালয় শহিদ ন্যাস ভবন থেকে মিছিল করে কামরূপ(মেট্ৰো)জেলাশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্ৰীর উদ্দেশে স্মারক সম্মানগুলি জেলাশাসকের হাতে তুলে দেন। উল্লেখ্য,২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর শহিদ দিবসে খানাপাড়ার ভেটেরিনারি কলেজের খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকার প্ৰত্যেক শহিদ পরিবারের হাতে ওই স্মারক সম্মান ও ৫ লক্ষ টাকার এককালীন আর্থিক সাহায্য দিয়েছিল।

অসম আন্দোলনে শহিদ হওয়া ৮৬০ জন শহিদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন এই পরিষদে। ১৯৭৯ সাল থেকে শুরু হয়ে টানা ছয়  বছর ধরে চলা অসম আন্দোলনে প্ৰায় তিন হাজার জন ব্যক্তি হয় আহত অথবা শারীরিকভাবে প্ৰতিবন্ধী হয়েছিলেন। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দ্ৰকান্ত তালুকদার,যিনি অসম আন্দোলনের প্ৰথম শহিদ খর্গেশ্বর তালুকদারের ভাই সাংবাদিকদের বলেন,৮৬০ জন শহিদের আত্মাহুতি এবং সহস্ৰাধিক মানুষ পুলিশি নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিনিময়ে অসম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ছবছর আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি মুক্ত অসম গড়া। কিন্তু আজ ওই সব শহিদের আত্মত্যাগকে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করতে উঠেপড়ে লেগেছে। বিল সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্ৰী সর্বানন্দ সোনোয়ালের ভূমিকার সমালোচনা করে তালুকদার বলেন,‘সোনোয়াল স্বয়ং একসময়ে আসুর সভাপতি ছিলেন। আইএমডিটি আইন বাতিল করতে মুখ্য ভূমিকা নিয়ে ‘জাতীয় নায়কের’ মর্যাদা পেয়েছিলেন তিনি। অথচ সেই সোনোয়ালই আজ বাংলাদেশি হিন্দুদের পক্ষ নিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্ৰীর এহেন মানসিক পরিবর্তনে আমরা বিস্মিত’।

‘আমরা বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য পাঁচবার লিখিত আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্ৰী আমাদের কখনোই আলোচনার জন্য ডাকেননি। আমরা সোমবার সন্ধে পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। কিন্তু সবই বৃথা। তাই মঙ্গলবার আমরা শহিদদের প্ৰতি দেওয়া সম্মান স্মারক ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই’-বলেন তিনি।

পরিষদের সভাপতি রাজেন ডেকা বলেন,বিলটি যদি আখেরে আইনে পরিণত হয় তাহলে শহিদদের ওই আত্ম বলিদান নিরর্থক হয়ে পড়বে।

শহিদ পরিবারের একজন তো আবেগের সুরে বলেই ফেলেন,সরকার শহিদ পরিবারগুলিকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে যে আর্থিক সাহা্য্য দিয়েছে,অনেকেই তা খরচ করে ফেলেছেন। তবে সরকার চাইলে ওই টাকা ফিরিয়ে দিতেও তাঁরা প্ৰস্তুত।