ইন্টারন্যাশনাল

শ্ৰীলংকায় আত্মঘাতী বোমার ধারা বিস্ফোরণে নিহত শতাধিক,আহত বহু

শ্ৰীলংকায় আত্মঘাতী বোমা

কলম্বোঃ শ্ৰীলংকায় রবিবার আত্মঘাতী বোমা হামলার ধারাবাহিক ঘটনায় কমপক্ষেও ২০৭ জন নিহত এবং ৪৬৯ জন আহত হয়েছেন। মারণ বোমা হামলার অধিকাংশ ঘটনা ঘটে রাজধানী শহর কলম্বোতে। শ্ৰীলংকায় গৃহযুদ্ধ সমাপ্ত হওয়ার প্ৰায় এক দশক পর আত্মঘাতী বোমা হামলায় আবার রক্তাক্ত হলো দ্বীপরাষ্ট্ৰ। আত্মঘাতীদের মারণ বোমা বিস্ফোরণে তিনজন ভারতীয়র প্ৰাণ হারানোর খবর পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে কার্ফু।

রবিবার সকাল ৮.৩০ নাগাদ কলম্বোর কাছে কোচ্চিকাড়ে সেন্ট অ্যান্টনি গির্জায় যখন ক্ৰিস্টধর্মাবলম্বীদের প্ৰার্থনা চলছিল তখনই প্ৰথম বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। এরপরই কলম্বো শহরে পাঁচটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে তিনটি বিলাসী হোটেল এবং নিগমবোতে সেন্ট সেবাস্টিয়ান চার্চে এবং এখান থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে পূর্ব জেলা বাত্তিকালোয় জিয়ন চার্চের বিস্তর ক্ষতি হয়। এদিনই বিকেলে কলম্বোর দেহিওয়ালা চিড়িয়াখানা সংলগ্ন একটি হোটেলের কাছে বিস্ফোরণে দুজন ব্যক্তি মারা যান। ডিমাটোগোড়ায় বিস্ফোরণে প্ৰাণ হারান আরও তিন ব্যক্তি।

ভারতের প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদি টেলিফোনে শ্ৰীলংকার রাষ্ট্ৰপতি মাইথিরিপালা সিরিসেনা এবং প্ৰধানমন্ত্ৰী রনিল উইক্ৰোমিসিংঘের সঙ্গে কথা বলেছেন শ্ৰীলংকায় জঙ্গিদের এই পূর্বপরিকল্পিত নারকীয় হামলার ঘটনা সম্পর্কে। মোদি দ্বীপরাষ্ট্ৰের নেতাদের নতুন দিল্লির তরফে সবধরনের সাহা্য্যের প্ৰস্তাব দিয়েছেন।

এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠনই এই বর্বর রক্তাক্ত আক্ৰমণের দায় স্বীকার করেনি। এএফপির রিপোর্টে বলা হয়েছে যে আত্মঘাতী জঙ্গিরা বেছে বেছে ক্যাথলিক গির্জা গুলিতে হামলার ছক করার পরিকল্পনা সম্পর্কে শ্ৰীলংকার পুলিশ প্ৰধান পুমুথ জয়াসুন্দরা ১০ দিন আগেই দেশজুড়ে সতর্ক সঙ্কেত জারি করেছিলেন।

প্ৰাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ‘দ্য ডেইলি মিরর’ সংবাদপত্ৰটি বলেছে,ইসলামিক আত্মঘাতী জঙ্গিরাই প্ৰথম ছটি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। ঘটনার আগের দিন সাংগ্ৰি-লা হোটেলে তদন্ত চালানো হয়েছিল। জঙ্গিরা যে তিনটি হোটেলকে টার্গেট করেছে সংগ্ৰিলা সেগুলির একটি। রিপোর্টে বলা হয়েছে তদন্তকারী দল ওই হোটেলের ৫০৬ নং রুমে ঢুকে কিছু বিস্ফোরক সামগ্ৰী উদ্ধার করেছিল,যা ইসলামিক জঙ্গিরা সচরাচর ব্যবহার করে থাকে। তবে আত্মঘাতী জঙ্গিরা শ্ৰীলংকার না বিদেশের তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে মিরর উল্লেখ করেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন আক্ৰমণে ৩৫ জন বিদেশির মৃত্যু হয়েছে। তবে তারা কোনও দেশের তা জানা যায়নি।

বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্ৰস্ত অন্য দুটি হোটেল হলো চিন্নামন গ্ৰ্যান্ড,যেটি প্ৰধানমন্ত্ৰীর সরকারি বাসভবনের কাছেই রয়েছে। অন্যটির নাম কিংসবারি হোটেল। শ্ৰীলংকার সাংবাদিক ভি থানাবালাসিংঘম টেলিফোনে জানিয়েছেন বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো কলম্বো শহরে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনা সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ছবিগুলি প্ৰকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা গেছে একটি গির্জা একেবারেই ধ্বংস হয়ে গেছে। চাপ চাপ রক্তের মধ্যে চারদিকে শুধু মৃতদেহ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আহতরা যন্ত্ৰণায় কাতরাচ্ছেন। তবে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে-জানান অর্থনৈতিক সংস্কার দপ্তরের মন্ত্ৰী হর্ষ ডি সিলভা। তিনি বলেন,যে দৃশ্য তিনি দেখেছেন তা রীতিমতো ভয়ঙ্কর।