Top
Begin typing your search above and press return to search.

৪ জানয়ারি প্ৰধানমন্ত্ৰীর শিলচর সফর কিসের ইঙ্গিত বহন করছে?

৪ জানয়ারি প্ৰধানমন্ত্ৰীর শিলচর সফর কিসের ইঙ্গিত বহন করছে?

Sentinel Digital DeskBy : Sentinel Digital Desk

  |  28 Dec 2018 12:05 PM GMT

২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের প্ৰচারে এসে ডিটেনশন ক্যাম্প গুড়িয়ে দেওয়ার প্ৰতিশ্ৰুতি দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি,বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশ থেকে এখানে আসা হিন্দু বাঙালিদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলেও প্ৰতিশ্ৰুতি দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়,ক্ষমতা দখলে ১০০ দিনের মধ্যে ডিটেনশন ক্যাম্প উড়িয়ে দেওয়ারও গালভরা প্ৰতিশ্ৰুতি দিয়ে পদ্ম ফুলের পক্ষে ভোট নিয়েছিলেন। টানা সারে চার বছরে এক্ষেত্ৰে কোনও ইতিবাচক বা বাস্তবসন্মত পদক্ষেপ না নিয়ে ২০১৯ সালের ভোট চেয়ে ফের অসমে আসছেন প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদী। এক ব্যক্তি,কিন্তু প্ৰতিশ্ৰুতি অনেক।

তাই এবার প্ৰধানমন্ত্ৰী অসমবাসী তথা বাঙালিদের সামনে কি বক্তব্য তুলে ধরবেন সেটাই এখন বড় প্ৰশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা-ও আবার বরাক উপত্যকার শিলচরে আসছেন প্ৰধানমন্ত্ৰী। আগামী ৪ জানুয়ারি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্ৰচার করতে মোদীর এই সফর। কিন্তু ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দেওয়া প্ৰতিশ্ৰুতিগুলি সংক্ৰান্তে কি মন্তব্য করেন সেটাই হবে বড় কথা। কেন না বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত বরাক উপত্যকার মানুষ প্ৰধানমন্ত্ৰী বা বিজেপি সরকারের কাছ থেকে নিজেদের নাগরিকত্ব নিয়ে বেশ আশাই বসেছিলেন। কিন্তু গত সারে চার বছরে এরাজ্যে ‘ডি’ ভোটার ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নবায়নের নামে যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে,তার জবাব প্ৰধানমন্ত্ৰী মোদী শিলচর সফরে কিভাবে তুলে ধরবেন?

অন্যদিকে,নাগরিকত্ব ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতি যখন তোলপাড়,ঠিক তখনই মোদীর এই সফরকে কেন্দ্ৰ করে বিভিন্ন মহলে প্ৰশ্নের উদয় হয়েছে। কেন না রাজ্যের অন্যান্য প্ৰান্ত ছেড়ে নির্বাচনি প্ৰচারের জন্য শিলচরকে কেন বেচে নেওয়া হল? শুধু তাই নয়,গত সারে চার বছরে রাজ্যের একাংশ হিন্দু বাঙালিকে যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে এবং নাগরিকত্বের প্ৰমাণ চেয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে ছুড়ে দিয়ে বিভিন্ন হয়রানি করা হয়েছে। যদিও সরকার বা প্ৰশাসন তরফে কোনও পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, গোয়ালপাড়ার সুব্ৰত দে,নগাঁওয়ের নগেন দাস,বরপেটার আমির আলি,দুলাল মিয়া,ইসমাইল আলি,আবু শাহিদ প্ৰমুখ গত সারে চার বছরে বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি অবস্থায় মৃত্যু হয়েছেন।

এমনকি তাদের মৃত্যুর প্ৰমাণপত্ৰ সংগ্ৰহ করার ক্ষেত্ৰে পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তবুও সরকারের তরফে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া দেখা যায়নি। যেসময়ে রাজ্যের একাংশ বাঙালির দুর্দিন চলছে,ঠিক তখন প্ৰধানমন্ত্ৰীর এহেন সফর কততা লাভজনক হবে সেটাই বড় বিষয় হয় দাড়িয়েছে। অন্যদিকে,আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের পূর্বে নাগরিকত্ব সংশোধনি বিল-২০১৬ সংসদে গৃহিত হওক বা না হওক প্ৰধানমন্ত্ৰী এনিয়ে এবার শিলচরে কি মন্তব্য করবেন সেদিকে চোখ-কান রাখবেন সবাই। তবে এটা স্পষ্ট যে,বরাক উপত্যকার দুটি লোকসভা কেন্দ্ৰ অর্থাৎ শিলচর ও করিমগঞ্জ নিজের ঝুলিতে আনার জন্য মরিয়া গেরুয়া শিবির।

এরজন্য,যাবজীয় রণকৌশল প্ৰস্তুত করেছে বিজেপি। এরই অংশ হিসেবে প্ৰধানমন্ত্ৰী-র শিলচর সফরকে বলা যেতে পারে। উল্লেখ্য,শিলচরের কংগ্ৰেসি সাংসদ সুস্মিতা দেব ও করিমগঞ্জের এআইইউডিএফ সাংসদ রাধেশ্যাম বিশ্বাসের হাত থেকে ছিনিয়ে আনার জন্য বিজেপি নেতৃত্ব কোনও প্ৰচুর রাখতে চাইছেন না। তবে ২০১৪ সালের মতো এবারও কি মোদীর প্ৰতিশ্ৰুতিকে সম্মান জানিয়ে বিজেপিকে ভোট দেবে সবাই। এমতাবস্থায় শিলচর সফর কালে নাগরিকত্ব বিল এবং ডিটেনশন ক্যাম্প নিয়ে নতুন কিছু ঘোষণা করবেন বলে অনেকেই মোদীর দিকে তাকিয়ে আছেন।

Next Story