রাজ্যের খবর

বন্যার কবলে বজালির ২০৭ বছরের পুরনো বটবৃক্ষ

বটবৃক্ষ
File photo

পাঠশালাঃ রাজ্যের বরপেটা জেলার বজালি মহকুমার জালিখাটা গ্ৰামে রয়েছে ২০৭ বছরের পুরনো একটা বিশাল বট গাছ। এটি এশিয়ার বৃহত্তম বৃক্ষের মধ্যে একটি বলে মনে করা হয়ে থাকে। বর্তমানে বন্যার কবলে পড়েছে এই গাছটি। গত কয়েকদিনের অবিশ্ৰান্ত বৃষ্টিতে কলদিয়া নদীর বুক ভরে বন্যার সৃষ্টি করে। বট গাছটির কাছে নির্মিত কালীবাড়ি শিব থানটি এখন কলদিয়ার কূলছাপানো জলে ভাসছে। কলদিয়ার জল বাঁধের ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে এবং বাঁধের একাংশ ভাসিয়ে নিয়েছে। বন্যার তোড়ে ভাসছে কালীবাড়ি শিব থানের পুরো এলাকাটি। বন্যার তাণ্ডবে পুরোনো গাছটি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ২০৭ বছরের পুরনো এই গাছটি চরম হুমকির মুখে পড়ায় স্থানীয় মানুষ গাছটি বাঁচানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে প্ৰয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্ৰহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই গাছটি কলদিয়া নদীর বন্যার কবলে পড়ছে উপযুক্ত কোনও ব্যবস্থা গ্ৰহণ না করায়। বন্যার জলে এবারও এই বিশাল গাছটি ফের হুমকির মুখে পড়লো। এটি এশিয়ার পুরনো গাছগুলির একটি বলে স্থানীয় মানুষ দাবি করে আসছেন। গাছটি পাঁচবিঘা জমি জুড়ে রয়েছে এবং এর উচ্চতা ১৫৫ মিটার। দর্শক এবং পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্ৰ এই গাছটি। বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষা প্ৰতিষ্ঠানের ছাত্ৰছাত্ৰীদের প্ৰোজেক্ট ওয়ার্কের ক্ষেত্ৰে এই গাছের একটা আলাদা বিশেষত্ব রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের দিন এই গাছের জন্মদিনও পালন করে আসছে স্থানীয় ছাত্ৰছাত্ৰীরা। বন্যার কবল থেকে গাছটিকে বাঁচাতে সচেতনতা সৃষ্টি করাও ছাত্ৰছাত্ৰীদের গাছটির জন্মদিন পালনের আরও একটি উদ্দেশ্য।

কিছুদিন আগে এই এলাকার প্ৰকৃতি প্ৰেমীরা গাছটির ২০৭তম জন্মদিন পালন করেন। বন ও পরিবেশ বিভাগের ব্ৰ্যান্ড অ্যাম্বাসেডর অন্নদা খাটনিয়ার বলেন,তিন ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি জেলাশাসক ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। যেকোনোভাবে ভূমিক্ষয় রোধের ব্যবস্থা করে ঐতিহ্যবাহী এই গাছটি বাঁচাতে পদক্ষেপ নেওয়ারও অনুরোধ করেছেন।

‘আমরা বিশ্বাস করি এই বটবৃক্ষটি এই অঞ্চলের সবচেয়ে পুরনো। গাছটি শুধু মাত্ৰ সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমন নয়,পরম্পরাগত বিশ্বাসের দিক থেকেও এর একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাই কর্তৃপক্ষের যেকোনও মূল্যে গাছটি বাঁচাতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত’-বলেন এলাকার কিছু লোক। স্থানীয় মানুষের কাছে বটবৃক্ষের একটা সামাজিক প্ৰাসঙ্গিকতাও রয়েছে।

এদিকে ভুটানে লাগাতার বৃষ্টির ফলে ভুটান থেকে নেমে আসা নদীগুলোতে প্ৰবল জলস্ফীতি দেখা দিয়েছে। বাকসা জেলার তামুলপুর মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ডুবে গেছে বন্যার জলে। পাগলাদিয়া,মাতঙ্গ,বালতি এবং বরলিয়া নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। চালিদাঙ্গা,গুয়াগুচি,বরবিলা,চপাতল,কাওলি,বিষ্ণুপুর,নারায়ণপুর,চেচাপানি,গিলামার,ভালুকমারি ইত্যাদি অঞ্চল বন্যায় ক্ষতিগ্ৰস্ত হয়েছে।

 

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা,ভূমিস্খলনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৭