Begin typing your search above and press return to search.

কাজিরঙা রাষ্ট্ৰীয় উদ্যানের ৯০ শতাংশ তলিয়ে গেছে বন্যার জলে

কাজিরঙা রাষ্ট্ৰীয় উদ্যানের ৯০ শতাংশ তলিয়ে গেছে বন্যার জলে

Sentinel Digital DeskBy : Sentinel Digital Desk

  |  16 July 2019 11:14 AM GMT

গুয়াহাটিঃ ব্ৰহ্মপুত্ৰের কূল ছাপানো জলে কাজিরঙা রাষ্ট্ৰীয় উদ্যান(কেএনপি)এবং পবিতরা অভয়ারণ্যের বন্য জীবন তছনছ করে দিয়েছে। কাজিরঙা উদ্যান ও পবিতরার বন্য প্ৰাণীরা বন্যার কবলে পড়ে রীতিমতো দিশাহারা। নিরাপদ আস্তানায় আশ্ৰয় নেওয়ার জন্য বন্য প্ৰাণীকূল এদিক-ওদিকে ছুটে বেড়াচ্ছে। একদিকে চোরাশিকারি এবং অন্যদিকে বন্যার কবল থেকে প্ৰাণ বাঁচাতেই অবলা জীবগুলোর এই ছোটাছুটি। রাষ্ট্ৰীয় উদ্যানের প্ৰায় ৯০ শতাংশ বন্যার জলে তলিয়ে গেছে। পবিতরা অভয়ারণ্যের ৮৫ শতাংশ এলাকায় থাবা বসিয়েছে বন্যা।

এদিকে কাজিরঙার বুক চিরে যাওয়া ৩৭নং রাষ্ট্ৰীয় সড়কও জলের তলায়। হাইওয়ে দিয়ে যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি এমন একটা জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে এপর্যন্ত ওই পথে গাড়ির ধাক্কায় ১৭টি জীবজন্তু প্ৰাণ হারিয়েছে। ৮টি হগ ডিয়ার এবং ১টি সম্বর হরিণ দুর্ঘটনায় মারা গেছে। জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে দুটি পশুর এবং আরও ছটি মারা গেছে অন্যান্য কারণে। অধিকাংশ জীবজন্তু উদ্যানের ভিতরে নির্মিত উঁচু জায়গায় আশ্ৰয় নিয়েছে যদিও সেগুলি খাদ্যাভাবে ভুগছে। উদ্যানের বেশ কিছু হরিণ নিকটবর্তী গ্ৰামের মানুষ স্ৰোতে ভেসে যাওয়া অবস্থায় উদ্ধার করেছেন। খিদের তাড়নায় বেশকিছু জীবজন্তু ৩৭নং রাষ্ট্ৰীয় সড়ক পেরিয়ে পাড়ি দিয়েছে কার্বি পাহাড়ের দিকে। চোরাশিকারিদের দৌরাত্ম্যের জন্য কাজিরঙার এই এলাকাটি খুবই স্পর্শকাতর।

বন আধিকারিক এবং কর্মীরা যান্ত্ৰিক এবং দেশী নৌকোয় চেপে উদ্যানের জীবজন্তু পাহারা দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কাজিরঙা উদ্যানে চোরাশিকার বিরোধী ১৯৯টি শিবিরের মধ্যে ১৫৫টি বর্তমানে বন্যার জলে তলিয়ে আছে। বিশেষ গন্ডার সুরক্ষা বাহিনীর কর্মীদের উদ্যানে মোতায়েন করা হয়েছে এদিকে-সেদিকে ছুটে যাওয়া জীবজন্তুগুলোকে চোরাশিকারির লোলুপ দৃষ্টি থেকে বাঁচানোর জন্য। মুখ্য বন সংরক্ষক(বন্যজীবন)ড. রঞ্জনা গুপ্তা পশুদের সুরক্ষায় চালানো কার্যকলাপে তদারকি করার জন্য বর্তমানে উদ্যানে শিবির গেড়ে অবস্থান করছেন।

এদিকে মুখ্যমন্ত্ৰী সর্বানন্দ সোনোয়ালের এক নির্দেশে রাজ্যের বন দপ্তরের প্ৰতিমন্ত্ৰী নবকুমার দোলে সোমবার উদ্যানের বন শিবির পরিদর্শন করেন।

বন্যার রুদ্ৰ রূপ থেকে বন্য প্ৰাণীদের বাঁচানো এই মুহূর্তে বন কর্মীদের সামনে একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্য প্ৰাণীগুলোকে চোরা শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করা এবং অনাহারের মুখ থেকে সেগুলোকে বাঁচানোর পুরো দায়িত্ব এখন বনকর্মীদের ওপর। যে সব বন্য প্ৰাণী বন্যার কবল থেকে বাঁচতে কার্বি পাহাড় অভিমুখে ছুটে গেছে সেগুলি চোরাশিকারির খপ্পরে পড়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে পবিতরা ফরেস্ট ক্যাম্প সংযোগী সব পথগুলি বর্তমানে জলের তলায়। কিছু কিছু পথের ব্যাপক ক্ষতিও হয়েছে বন্যায়। তবে এই অভয়ারণ্যে কোনও জীবজন্তুর মৃত্যু হওয়ার কোনও খবর এপর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পবিতরা অভয়ারণ্য এলাকায় জলস্তর ক্ৰমেই বেড়ে চলেছে বলে জানা গেছে।

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ বন্যার কবলে রাজ্যের ২১ জেলা,মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬

Next Story