Top
Begin typing your search above and press return to search.

কাছাড়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা জেলা প্ৰশাসনের

কাছাড়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা জেলা প্ৰশাসনের

Sentinel Digital DeskBy : Sentinel Digital Desk

  |  9 July 2019 11:23 AM GMT

শিলচরঃ কাছাড় প্ৰশাসন প্লাস্টিকের ব্যবহার গোটা জেলায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে আগামি ১৩ জুলাই থেকে। প্ৰাপ্ত রিপোর্ট মতে,যেকোনও ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। প্লাস্টিক শিট,থার্মোকল প্লেট,প্লাস্টিক কোটেড পেপার প্লেট ও কাপ,প্লাস্টিকের চায়ের কাপ,থার্মোকল কাপ,প্লাস্টিক স্ট্ৰো,ওয়াটার পাউবেস,প্ল্যাস্টিকের ভারী এবং হালকা ব্যাগ এবং ফ্ল্যাগ ইত্যাদির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কিছুদিন আগে কাছাড়ের জেলাশাসক লয়া মাদুরী এই বিষয়ে কাছাড় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে একটি চিঠি ইস্যু করেছিলেন। সব বিপণন সংস্থা,সব শপিং মলের মালিক,সব হোটেল এবং রেস্তোরাঁ ও সব চেম্বার অফ কমার্স,সব বিবাহ ভবন ও সংস্থা,সব অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা গোষ্ঠী এবং শিলচরের সব নাগরিকদের উদ্দেশে এই চিঠিটি ইস্যু করা হয়েছিল।

জেলা প্ৰশাসন চায় শিলচরে প্লাস্টিক মুক্ত একটা পরিবেশ গড়ে তুলতে। কাছাড়ের জেলাশাসক চিঠিতে উল্লেখ করেছেন,২০০৫ সালের ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্টের ৩০.২(iii)(v);(xxiii)ধারার বিধি ব্যবস্থা অনু্যায়ী সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই চিঠিটি ইস্যু করা হয়েছে। ওই নির্দেশ বলা হয়েছে,প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য প্লাস্টিক জাতীয় সামগ্ৰী বিশ্বের পরিবেশে ব্যাপক প্ৰভাব ফেলছে। বন্য জীবন এমন কি মানুষের ওপরও প্লাস্টিক দূষণের প্ৰতিকূল প্ৰভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

প্লাস্টিক খুব কম খরচে প্ৰস্তুত করা যায় এবং এগুলো সহজেই নষ্ট হয় না। আর এরজন্য বেশি মাত্ৰায় প্লাস্টিক উৎপাদন করা হচ্ছে। প্লাস্টিক পরিবেশে দূষণ ছড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যের পক্ষেও ক্ষতিকারক। প্লাস্টিক পচে না। একাংশ মানুষ সেগুলো ব্যবহার করে যত্ৰতত্ৰ ছুড়ে ফেলেন। ফলে সেগুলো জমাট বেঁধে এক পুতিগন্ধময় পরিবেশ সৃষ্টি করছে। প্লাস্টিক দূষণ শুধু মানুষ নয় পরিবেশ প্ৰকৃতির ক্ষেত্ৰেও চরম ক্ষতিকারক।

প্লাস্টিক দূষণ জমি,জলপথ এমনকি সমুদ্ৰের বুকেও বিরূপ প্ৰভাব ফেলছে। প্ৰতি বছর উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারীরা যে প্লাস্টিক ব্যবহার করে থাকেন তার ১.১ থেকে ৮.৮ মিলিয়ন মেট্ৰিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্ৰে ঢুকছে। বর্জ্য প্লাস্টিকের প্ৰভাবে নালা নর্দমা,নদী এবং সমুদ্ৰের পরিবেশ বিষাক্ত হচ্ছে। জলের অবাধ গতি আটকে দিচ্ছে বর্জ্য প্লাস্টিকের স্তূপ। প্লাস্টিকের প্ৰভাবে সমুদ্ৰে বিচরণকারী বিভিন্ন প্ৰজাতির সামুদ্ৰিক প্ৰাণীর জীবনে নেমে আসছে হুমকি।

প্লাস্টিক দূষণের প্ৰভাব যে কতটা ভয়ঙ্কর তা ভুক্তভোগীরাই জানেন। বর্জ্য প্লাস্টিকের দূষণে মনুষের অঙ্গ প্ৰত্যঙ্গের স্বাভাবিকতায় আঘাত হানতে পারে। ক্ষতি করতে পারে বিভিন্ন হরমোনের। ২০১৮ সালে সারা বিশ্বে ৩৮০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়েছে। ১৯৫০ সালে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আনুমানিক ৬.৩ বিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়েছে সারা বিশ্বে। এগুলোর আনুমানিক ৯ শতাংশ রিসাইক্লিং করা হচ্ছে বাকি ১২ শতাংশের কিছু পুড়িয়ে ফেলা কিংবা বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এই বর্জ্যগুলি পরিবেশ ও সমুদ্ৰের বুকে দূষণ ছড়াচ্ছে। গবেষকরা বলেছেন ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্ৰে মাছের থেকে প্লাস্টিকের ওজনই বেশি হবে।

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ সড়কে প্লাস্টিক ব্যবহারের প্ৰদর্শন কর্মসূচি পূর্ত বিভাগের

Next Story