রাজ্যের খবর

চূড়ান্ত এনআরসি প্ৰকাশের সময়সীমা বাড়াতে শীর্ষ আদালতকে অনুরোধ কেন্দ্ৰের

চূড়ান্ত এনআরসি

গুয়াহাটিঃ কেন্দ্ৰীয় সরকার এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা পূর্ব নির্ধারিত ৩১ জুলাই থেকে আরও বাড়াতে শুক্ৰবার সুপ্ৰিমকোর্টের কাছে আর্জি জানিয়েছে। কেন্দ্ৰের মতে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির প্ৰক্ৰিয়া চালাতে আরও কিছুটা সময়ের প্ৰয়োজন হবে।

কেন্দ্ৰীয় সরকারের বরিষ্ঠ আইনি আধিকারিক তুষার মেহতা শীর্ষ আদালতকে বলেন,এনআরসির তালিকা থেকে অবৈধ অনুপ্ৰবেশকারীদের নাম ছাঁটতে এবং যে সব প্ৰকৃত ভারতীয়র নাম বাদ পড়েছে তাদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আরও কিছুটা সময়ের প্ৰয়োজন। মেহতা বলেন,‘ভারত কখনো শরণার্থীদের রাজধানী হতে পারে না’। তবে কোর্ট আজ বলেছে এনআরসি নিয়ে মঙ্গলবারও শুনানি পর্ব চলবে।

এদিকে চূড়ান্ত রাষ্ট্ৰীয় নাগরিক পঞ্জি(এনআরসি)প্ৰকাশের নির্ধারিত তারিখের আর মাত্ৰ ১১ দিন বাকি। এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা প্ৰকাশের আগে কেন্দ্ৰ ও রাজ্য সরকার খসড়া রি-ভেরিফিকেশনের আর্জি জানিয়ে আবেদন দাখিল করেছিল। কেন্দ্ৰ-রাজ্যের বিশেষ চাপে শীর্ষ আদালত শেষ পর্যন্ত শুনানি নিতে সম্মত হয় এবং আজ সেই শুনানি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমতাবস্থায় আগামি ৩১ জুলাইয়ের নির্ধারিত তারিখে চূড়ান্ত এনআরসি প্ৰকাশ কতটুকু সম্ভব হবে সেটা এখন সন্দেহের আবর্তে। খসড়ায় বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা এলাকার ২০ শতাংশ এবং অন্যান্য জেলাগুলোতে ১০ শতাংশ রি-ভেরিফিকেশনের আবেদন জানিয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্ৰীয় সরকার। অসমের বিভিন্ন সংগঠন খসড়া বিদেশি মুক্ত করার দাবিতে যে স্মারকপত্ৰে দাখিল করেছিল তার ভিত্তিতেই সর্বোচ্চ আদালতে ওই আর্জি জানিয়েছিল কেন্দ্ৰ-রাজ্য। এদিকে এনআরসির রাজ্য সমন্বয়ক প্ৰতীক হাজেলাও একটি মুখবন্ধ খামে এনআরসির কাজকর্মের অগ্ৰগতি সম্পর্কে একটি রিপোর্ট সর্বোচ্চ আদালতে দাখিল করেছেন।

এদিকে এনআরসি প্ৰকাশের পরবর্তী পরিস্থিতির ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্ৰীয় স্বরাষ্ট্ৰ বিষয়ক মন্ত্ৰক রাজ্য সরকারের গৃহ ও রাজনৈতিক বিষয়ক দপ্তরের সঙ্গে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে এক বৈঠকে মিলিত হয়।

এদিকে সুপ্ৰিমকোর্ট এনআরসি ইস্যুতে কেন্দ্ৰ ও রাজ্য সরকারের আর্জি নিয়ে আজ শুনানির কথা ঘোষণা করেছিল। তবে এবিষয়ে সরকারিভাবে কোনও কিছু প্ৰকাশ করেনি। সূত্ৰটি বলেছে,এনআরসি প্ৰকাশের পরবর্তী ব্যবস্থাপনা ও ফরেনার্স ট্ৰাইবুনাল(এফটি)নিয়ে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কথা হয়েছে। চূড়ান্ত এনআরসি থেকে বাদ পড়া লোকেদের বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়েই ফরেনার্স ট্ৰাইবুনালের প্ৰসঙ্গটি উঠে আসে। চূড়ান্ত এনআরসি ছুট লোকেদের ফরেনার্স ট্ৰাইবুনালে পাঠানো হবে এবং একজন ব্যক্তি ভারতীয় কি না সেই ব্যাপারে মতামত দেবে এফটি।

বর্তমানে রাজ্যে ১০০টি ফরেনার্স ট্ৰাইবুনাল রয়েছে। কেন্দ্ৰীয় স্বরাষ্ট্ৰ বিষয়ক মন্ত্ৰক রাজ্যে আরও ৪০০টি এফটি স্থাপনে ইতিমধ্যেই অনুমোদন জানিয়েছে। প্ৰাথমিক পর্যায়ে ৪০০টির মধ্যে ২০০টি এফটি রাজ্যে স্থাপন করা হবে। এরফলে রাজ্য ফরেনার্স ট্ৰাইবুনালের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩০০টিতে। এখন যে সব এফটি স্থাপন করা হবে সেগুলি হবে ইলেক্ট্ৰনিক।

এদিকে এনআরসি নবায়ন সম্পর্কে রাজ্য সমন্বয়কারী প্ৰতীক হাজেলা বৃহস্পতিবার সুপ্ৰিমকোর্টে তাঁর রিপোর্ট দাখিল করেছেন।

 

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ এনআরসি-র খসড়া থেকে বাদ পড়লো ১,০২,৪৬২ জনের নাম