ন্যাশনাল

বালাকোটে জৈশ-এর ঘাঁটিতে বিমান হানার জন্য বায়ু সেনার পাঁচজন পাইলট সাহসিকতার পুরস্কার পাচ্ছেন

বায়ু সেনা

নয়াদিল্লিঃ ৭৩তম স্বাধীনতা দিবসের প্ৰাক্কালে ভারত সরকার দেশের প্ৰতিরক্ষা ক্ষেত্ৰের বেশ কজন কর্মীকে সাহসিকতার পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর বেশকজন পাইলট সাহসিকতা পুরস্কার পাচ্ছেন। এবছরের গোড়াতে বালাকোটে বিমান হানায় অসীম সাহসিকতা প্ৰদর্শনের জন্য তাঁদের এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। প্ৰতিরক্ষা মন্ত্ৰকের সাম্প্ৰতিক ঘোষণা অনু্যায়ী ভারতীয় বায়ু সেনার ৫জন পাইলটকে সাহসিকতার জন্য বায়ু সেনা মেডেল দিয়ে সম্মানিত করা হবে। পাকিস্তানের মাটি বালাকোটে সন্ত্ৰাসী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের ঘাঁটিতে বোমা ফেলে তা গুড়িয়ে দিতে অসম সাহস দেখিয়েছেন এই পাইলটরা।

ভারত ও পাকিস্তানের লড়াইয়ের ইতিহাসে বালাকোটে বায়ুসেনার এই বিমান হানা একটি অন্যতম সফল অভি্যান। দুর্বার এই সাহসিকতা প্ৰদর্শনের জন্য বায়ুসেনার ৫ জন পাইলট অবশ্যই এই সম্মান পাওয়ার যোগ্য। পাঁচটি মিরেজ-২০০০ লড়াকু বিমান নিয়ে ওই পাঁচজন পাইলট পাকিস্তানের আকাশ সীমায় ঢুকে খাইবার পাকতুনখোয়া প্ৰদেশ থাকা জইশের ঘাঁটিতে বোমা ফেলে সেটি মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে বিজয়ী হয়ে ফিরে এসেছিলেন। সাহসী এই পাঁচজন পাইলট হলেন উইং কমান্ডার অমিত রঞ্জন এবং স্কোয়াড্ৰন লিডারস রাহুল বাসোয়া,পঙ্কজ ভুজাদে,শশাঙ্ক সিং এবং বিকেএন রেড্ডি। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে গত ৪৮ বছরে এই প্ৰথম ভারতীয় বায়ু সেনা পাক আকাশ সীমা লঙ্ঘন করে পাকিস্তানের মাটিতে জৈশ-এর ঘাঁটিতে বোমা ফেলে। জইশ-ই-মহম্মদের আত্মঘাতী জঙ্গি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ-এর কনভয়ে মারণ আক্ৰমণ চালানোর পরিপ্ৰেক্ষিতে ভারত পাক সন্ত্ৰাসী সংগঠনের ঘাঁটিতে বিমান হানার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

ভারতীয় বায়ু সেনার এই এয়ার স্ট্ৰাইকের পর ভারতের সব ধরনের বিমান চলাচল আটকাতে পাকিস্তান তাদের আকাশ সীমা বন্ধ করে দেয়। তবে বিশ্বের বাণিজ্যিক বিমানগুলোর চলাচলের সুবিধার্থে পাকিস্তান সম্প্ৰতি তাদের আকাশ পথ খুলে দিয়েছে।

পাকিস্তানের বুকে জইশের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে যে পাঁচজন বায়ু সেনার পাইলট অংশ নিয়েছিলেন এয়ারফোর্স দীর্ঘদিন বিশ্বের সামনে তাঁদের নাম গোপন রেখেছিল। কিন্তু এখন সাহসিকতা পুরস্কারের স্বার্থেই তাঁদের নাম প্ৰকাশ করা হয়েছে। গত ২৬ ফেব্ৰুয়ারি মিরেজ-২০০০ নিয়ে এই পাঁচজন পাইলট বালাকোটে জৈইশের শিবির বোমা ফেলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। পাইলটরা ওই হামলার সময় সুখই-৩০ এমকেআইও ব্যবহার করেছিলেন। মিরেজ যাতে কোনওভাবে বাধাগ্ৰস্ত না হয় তার জন্যই সুখই ব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়া অভীষ্ট লক্ষ্যে আক্ৰমণের ছবি তুলতে ভারতীয় বায়ু সেনা হেরন ড্ৰোন সহ ফেলকন এডব্লিউএসিএস এবং এমব্ৰায়ার এইডব্লিউএস মিড এয়ার রিফুয়েলার্সও ব্যবহার করেছিল।

 

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ বায়ু সেনার নিখোঁজ এএন-৩২ বিমানের কোনও হদিশ এখনও মেলেনি

অধিক খবরের জন্য ভিডিও দেখুন: Assam Police Commandos launched major operation near Assam-Arunachal Pradesh Border