সংবাদ শিরোনাম

সুধাকণ্ঠ ভূপেন হাজরিকাকে মরণোত্তর ভারতরত্ন দেওয়া হলো,পুরস্কার গ্ৰহণ করলেন পুত্ৰ তেজ হাজরিকা

সুধাকণ্ঠ ভূপেন হাজরিকা

গুয়াহাটিঃ অসমে সবার ভালবাসার মানুষ তথা প্ৰখ্যাত সংগীত শিল্পী ও সংগীত রচয়িতা প্ৰয়াত ড.ভূপেন হাজরিকাকে আজ মরণোত্তরভাবে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘ভারত রত্ন’ দেওয়া হলো। রাষ্ট্ৰপতি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্ৰপতি রামনাথ কোবিন্দ বৃহস্পতিবার সন্ধে ৬ টায় ভূপেন হাজরিকাকে এই সম্মান দিলেন আনুষ্ঠানিকভাবে। হাজরিকা ছাড়াও প্ৰাক্তন রাষ্ট্ৰপতি প্ৰণব মুখার্জি এবং ভারতীয় জনসঙ্ঘের নেতা প্ৰয়াত নানা দেশমুখকে দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্ন দিয়ে সম্মানিত করা হয়। এদিন হাজরিকা তনয় তেজ হাজরিকা পিতার হয়ে পুরস্কারটি গ্ৰহণ করেন। গত মাসেই পুরস্কার গ্ৰহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছিলেন তেজ হাজরিকা। অসমের প্ৰথম মুখ্যমন্ত্ৰী গোপীনাথ বরদলৈর পর ভূপেন হাজরিকা দ্বিতীয় বরেণ্য ব্যক্তি যিনি দেশের এই সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হলেন। ছোট বেলা থেকেই সংগীতের প্ৰতি হাজরিকার ছিল এক দুর্বার আকর্ষণ। চমকপ্ৰদ সংগীত রচয়িতা এবং কণ্ঠের জাদুতে সবাইকে মোহিত করেছিলেন তিনি। অসামান্য সংগীত প্ৰতিভার জন্য দেশ-বিদেশে প্ৰশংসা কুড়িয়েছেন অজস্ৰ।

দেশ এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে মহৎ ব্যক্তিত্ব এবং অনবদ্য সংগীত প্ৰতিভার দৌলতে সারা বিশ্বে সমাদৃত হয়েছিলেন ড.হাজরিকা। অর্জন করেছিলেন আকাশচুম্বী স্বীকৃতি। হাজরিকা শুধু একজন বড় মাপের কণ্ঠশিল্পীই ছিলেন না,ছিলেন এমন একজন সুরকার ও গীতিকার,যার আবেদন অনুভব করেছে গোটা বিশ্ব। কয়েক দশক আগে গান লিখে কণ্ঠদান করেছেন তিনি। তাঁর সেইসব গানের কলি আজকের আধুনিক যুগেও যেমন জীবন্ত তেমনই প্ৰাসঙ্গিক। হাজরিকার গান কথা প্ৰধান। এই গানের কথায় ভেসে উঠেছে বিশ্ব মানবতার সুর। তাইতো তিনি গাইতে পেরেছেন ‘মানুষ মানুষের জন্য’। তাঁর গানের কলিতে বিশ্বজনীনতার সুর বিদ্যমান। একজন শিল্পীর মনে বিশ্বজনীনতা কতটা গভীরে প্ৰোথিত তার গানগুলিই এর অকাট্য প্ৰমাণ। ড.হাজরিকা সুরের জগতে মানুষকে বুকে টেনে নিয়ে পেয়েছেন অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মান। ১৯৯২ সালে হাজরিকাকে দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়। ১৯৭৫ সালে সেরা সংগীত পরিচালনার জন্য পেয়েছেন ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড। সংগীত নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার ভূষিত হয়েছেন ১৯৮৭ সালে। ১৯৭৭ সালে পদ্মশ্ৰী,২০০১-এ পদ্মভূষণ খেতাব পান ড.হাজরিকা। ২০০৮ সালে সংগীত নাটক অ্যাকাডেমি খেতাব পান তিনি।

১৯২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর অসমের শদিয়ায় জন্ম হয়েছিল হাজরিকার। ২০১১ সালের ৫ নভেম্বর এই মহান সঙ্গীতজ্ঞের জীবনাবসান ঘটে।

ভূপেন হাজরিকা এমনই এক ব্যক্তিত্ব,যাঁর প্ৰতি মানুষের অকৃত্ৰিম ভালবাসা শুধু অসমের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পড়শি রাজ্য পশিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশেও তিনি সমভাবে বিখ্যাত ও ভালবাসার পাত্ৰ। বাংলা ভাষায় বেশকিছু গান লিখেছেন হাজরিকা এবং গেয়েছেন সাবলীল ও দরাজ কণ্ঠে।

ভূপেন হাজরিকা প্ৰশংসক ও গুণমুগ্ধদের কাছে ‘সুধাকণ্ঠ’ নামে পরিচিত। তাঁর গমগমে সুরেলা কণ্ঠ ও গানের কথা তাঁকে এক ভিন্ন মাত্ৰায় পৌঁছে দিয়েছে। সংগীত জগতে সুখ্যাতির মধ্য গগনে বিচরণ করে অজস্ৰ প্ৰশংসা কুড়নোর পাশাপাশি চলচ্চিত্ৰ পরিচালক হিসেবে মানুষের মনে দাগ কাটতে সফল হয়েছেন তিনি। তাঁর নির্মিত পুরস্কার জয়ী অসমিয়া ছবি হলো শকুন্তলা এবং প্ৰতিধ্বনি। এছাড়া ১৯৮৬ সালে হিন্দি ছবি এক পল, ৯৩ সালে রুদালি এবং ২০০১ সালে দমন(ইংরেজি সাব টাইটেল এ ভিক্টিম অফ ম্যারিটেল ভায়োলেন্স)তাঁর সংগীত পরিচালনা ব্যাপক প্ৰশংসা কুড়িয়েছিল। অসমিয়া জাতীয় জীবন এবং ন্যাশনাল মিউজিক ইন্ডাস্ট্ৰিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি চিরকাল উত্তরসূরিদের কাছে স্মরণীয় ও শ্ৰদ্ধার পাত্ৰ হয়ে থাকবেন।

 

 

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ ড. লক্ষহীরা দাস পাচ্ছেন ভূপেন হাজরিকা পুরস্কার

অধিক খবরের জন্য ভিডিও দেখুন: Kamrup DC holds press meet for the preparation of Independence Day