Begin typing your search above and press return to search.

প্ৰথা ভেঙে কেন্দ্ৰীয় বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্ৰী নির্মলা সীতারামন

প্ৰথা ভেঙে কেন্দ্ৰীয় বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্ৰী নির্মলা সীতারামন

Sentinel Digital DeskBy : Sentinel Digital Desk

  |  5 July 2019 11:20 AM GMT

নয়দিল্লিঃ ব্ৰিফ কেসে বাজেট পেশ করার চিরাচরিত প্ৰথা ভেঙে কেন্দ্ৰীয় অর্থমন্ত্ৰী নির্মলা সীতারামন শুক্ৰবার সকালে ফাইলবন্দি বই-খাতার মাধ্যমে বাজেট পেশ করলেন সংসদে। অর্থমন্ত্ৰী লাল কাপড়ে মোড়া-বই-খাতা অর্থাৎ লেজারের মাধ্যমে বাজেট পেশ করেন।

কেন্দ্ৰীয় সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কৃষ্ণমূর্তি সুব্ৰহ্মনিয়ম ব্ৰিফকেসের বদলে লালকাপড়ে মোড়া বই-খাতার মাধ্যমে বাজেট পেশের এই নয়া পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন,‘এটা হচ্ছে একটা ভারতীয় পরম্পরা। পশ্চিমী চিন্তাভাবনার দাসত্ব থেকে আমরা যে মুক্ত হয়েছি লাল কাপড়ে মোড়া বই-খাতার মাধ্যমে বাজেট পেশ তারই প্ৰতীক।

প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের দ্বিতীয় দফা কার্যকালের প্ৰথম বাজেট আজ পেশ করলেন অর্থমন্ত্ৰী নির্মলা সীতারামন। অর্থমন্ত্ৰী তাঁর বাজেট ভাষণে মূল কতগুলি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছেন। এগুলো হলো-পরিবহণের ক্ষেত্ৰে সরকার এটিএম-এর মতো একটা ইণ্টার অপারেবল ওয়ান ন্যাশন,ওয়ান ট্ৰ্যান্সপোর্ট কার্ড চালু করবে যা বিভিন্ন ধরনের পরিবহণের ক্ষেত্ৰে(সড়ক,রেল ইত্যাদি)ব্যবহার করা যাবে। এই কার্ড টাকা তোলার জন্য এটিএম কার্ড হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।

দ্বিতীয়ত,সরকারের এমআরও অর্থাৎ ইন্ডাস্ট্ৰিগুলোতে(ম্যানুফেকচারিং রিপেয়ার ও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। দ্ৰুত উন্নয়ন এবং প্যাসেঞ্জার ফ্ৰিট সার্ভিসের ক্ষেত্ৰে পিপিপি ব্যবহার করা হবে। ন্যাশনাল হাইওয়ে গ্ৰিড সৃষ্টির জন্য রাষ্ট্ৰীয় হাইওয়ে কমপ্ৰিহেনসিভ রিস্ট্ৰাচারিং-এর ব্যবস্থা করা হবে। পণ্য পরিবহণে নদীপথ ব্যবহারে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্ৰে করের হার অপরিবর্তিত থাকছে। অতিরিক্ত কর ছাড়ের মাত্ৰা ১.৫ লক্ষ টাকা। পেট্ৰোল,ডিজেলের দাম বাড়বে। সরকার জ্বালানি,সোনা ও মূল্যবান সামগ্ৰীর ওপর ১ টাকা করে শুল্ক চাপাচ্ছে। দুকোটি টাকা আয়কারী ধনীদের ক্ষেত্ৰে ৩% ও ৫ কোটি বা তার বেশি যাদের আয় তাদের ৭ শতাংশ সারচার্জ দিতে হবে। বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্ৰী বলেন, চলতি বছরই তিন লক্ষ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠবে ভারত। ২০২২ সালের মধ্যে ভারতের প্ৰতি ঘরে পৌঁছবে বিদ্যুৎ। জ্বালানি পৌঁছবে প্ৰতি ঘরে।

নির্মলা তাঁর বাজেটে দেখিয়েছেন,আর্থিক ঘাটতি ৩.৪ শতাংশ থেকে ৩.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ইলেকট্ৰনিক পণ্য তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্ৰে আবগারি শুল্ক কমানো হয়েছে। বেশকিছু ক্ষেত্ৰে জিএসটির হার কমছে। এ ক্ষেত্ৰে ৯২ হাজার কোটি টাকা ছাড় দিয়েছেন অর্থমন্ত্ৰী। নগদে ব্যবসারিক লেনদেন কমাতে ব্যাংক থেকে বছরে ১ কোটি টাকার বেশি তুললে ২ শতাংশ লেভি ধার্য হবে। যাদের প্যান কার্ড নেই তারা আয়কর জমা দেওয়ার জন্য আধার নম্বর ব্যবহার করতে পারবেন।

৪৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাড়ি কেনার উপর ৩.৫ টাকা ঋণের সুদে ছাড় পাওয়া যাবে। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে আয়কর সংগ্ৰহের পরিমাণ ছিল ১১.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা। সেই কর অপরিবর্তিত থাকছে। ৫ লক্ষ টাকার বেশি আয় হলে কর দেওয়ার নিয়ম অপরিবর্তিত থাকছে। ৫ লক্ষ টাকার নিচে বার্ষিক আয়ে কোনও আয়কর দিতে হবে না।

আগামি ৫ বছরে পরিকাঠামো ক্ষেত্ৰে ১০০ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে সরকার। অনলাইন হোম লোন,ডোর টু ডোর পরিষেবায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। সৃজনশীল শিল্পী ও কারিগরদের জন্য সরকার বিশেষ প্ৰকল্প হাতে নেবে। মহিলাদের উন্নয়নে কমিটি গঠনের প্ৰস্তাব রাখা হয়েছে বাজেটে। মহিলাদের বিশেষ সুবিধা দিতে প্ৰতিশ্ৰুতিবদ্ধ সরকার। তাই মহিলাদের উন্নয়নে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

সৌরবাতি ও সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহ দেবে সরকার। উজ্জ্বলা যোজনায় ৩৫ কোটি এলইডি বাল্ব বিতরণ করা হয়েছে। এতে খরচ কমেছে। ৬০ বছরের বেশি অসংগঠিত ক্ষেত্ৰের শ্ৰমিকদের জন্য স্টার্ট আপের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। ভারতীয় পাসপোর্ট ধারী অনাবাসী ভারতীয়দের আধারকার্ড দেওয়া হবে। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্ৰে বিদেশি ছাত্ৰ টানতে উৎসাহ বৃদ্ধি করা হবে।

সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে মেট্ৰো রেলের পরিকাঠামো প্ৰস্তুত করা হবে।

২০১৯-এর ২ অক্টোবরের মধ্যে খোলা শৌচালয় মুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্য ধার্য করা হয়েছে বাজেটে।

আগামি ৫ বছরে ১২,৫০০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৮০ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। ২০২৪-এর মধ্যে সব বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আরও ১.৯৫ কোটি বাড়ি তৈরির লক্ষ্যমাত্ৰা ধার্য করা হবে। সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হবে। ভারতকে বিদেশি বিনিয়োগের স্বর্গরাজ্য করে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।

‘ভারতমালা’ ‘সাগরমালা’ প্ৰকল্পের মাধ্যমে গ্ৰাম-শহরের মধ্যে ব্যবধান হ্ৰাসের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সরকারি যাবহাবনে যাতায়াতের জন্য একটি নির্দিষ্ট কার্ড তৈরি হবে। এতে ৩ কোটি ক্ষুদ্ৰ ও মাঝারি ব্যবসায়ী উপকৃত হবেন। সাধ্যের মধ্যে বাড়ি তৈরিতে জোর দেবে সরকার। ফারাক্কা ও হলদিয়ায় নেভিগেশন গেট নির্মাণ করা হবে। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার সুবিধা পৌঁছচ্ছে সর্বত্ৰ। এখন এই অর্থনীতি ৩ ট্ৰিলিয়ন মার্কিন ডলারের,যা সারা বিশ্বে তৃতীয়-উল্লেখ করা হয় বাজেটে।

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনের জন্য ১১৮ কোটি টাকার বাজেট ধার্য

Next Story