সংবাদ শিরোনাম

জম্মু ও কাশ্মীর পুনৰ্গঠন বিল রাজ্যসভায় উতরে গেল

জম্মু ও কাশ্মীর

নয়াদিল্লিঃ সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের প্ৰস্তাবটি সংসদে অনুমোদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীর এতদিন ধরে ভোগ করে আসা বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা হারালো এবং সেই সঙ্গে কেন্দ্ৰশাসিত অঞ্চল হিসেবে দ্বিখণ্ডিত হলো রাজ্যটি। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লদাখ এখন থেকে দুটি পৃথক কেন্দ্ৰ শাসিত অঞ্চলে পরিণত হলো,যা এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা থাকছে,লদাখে থাকছে না। কাশ্মীরকে দুটো কেন্দ্ৰশাসিত অঞ্চলের রূপ দেওয়া নিয়ে একটি বিলও এদিন সংসদে পাস হয়ে যায়। বিধানসভা সহ জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্ৰ শাসিত অঞ্চল ঘোষিত হওয়ার পর স্বরাষ্ট্ৰমন্ত্ৰী অমিত শাহ বলেন,এটা একটা ‘সাময়িক’ ব্যবস্থা। স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এলে জম্মু ও কাশ্মীর ফের রাজ্যের মর্যাদায় উন্নীত হবে। কাশ্মীর দ্বিখণ্ডিত করা নিয়ে উত্থাপিত বিলটি লোকসভায় ৩৫১ ভোটে উতরে যায়। বিলের বিপক্ষে ভোট পড়ে ৭২টি। রাজ্যসভায় বিলটি অনুমোদিত হওয়ার একদিন পর লোকসভায়ও তা পাস হয়ে যায় অনায়াসে।

জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল ‘২০১৯ নিয়ে বিতর্কের জবাবে স্বরাষ্ট্ৰমন্ত্ৰী শাহ বলেন,দীর্ঘ ৭০ বছর পর একটা ‘ঐতিহাসিক’ ভুলকে’ শুধরেছে সরকার। কারণ ৩৭০ ধারা সারা দেশের সঙ্গে পূর্ণ সংহতির বন্ধনে আবদ্ধ হতে জম্মু ও কাশ্মীরের সামনে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কাশ্মীর উপত্যকার কল্যাণের প্ৰতি নজর রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শাহ বলেন,এই রাজ্যটি সরকারের অত্যন্ত প্ৰিয়। ‘উপত্যকার প্ৰতিটি মানুষ আমাদের নিজস্ব। আমরা তাদের আলিঙ্গনে বাঁধতে চাই,কারণ তারা প্ৰচুর ত্যাগ স্বীকার করছেন এবং এর জন্য ব্যাপক কষ্টও পেতে হয়েছে তাঁদের। ১৯৮৯ সাল থেকে কাশ্মীরে ৪,১০০ জনের বেশি লোককে হত্যা করা হয়েছে এবং এসব ঘটেছে কেবলমাত্ৰ ৩৭০ ধারার জন্য’।

‘সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ থেকে আমরা কী পেয়েছি? এটা বেকার সমস্যার জন্ম দিয়েছে এবং শিক্ষা থেকে মানুষকে দূরে রেখেছে। পাকিস্তানের চাপে এটা শুধু বিচ্ছিন্নতাবাদেই উৎসাহ জুগিয়ে এসেছে’-বলেন শাহ। আরও বলেন, এই ধারা গণতন্ত্ৰের পথও রুদ্ধ করে দিয়েছিল। স্বরাষ্ট্ৰমন্ত্ৰী আশ্বাস দিয়ে বলেন,পূর্বতন সরকারগুলো যা ভুল করে গেছে তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

বিজেডি,ওয়াইএসআর কংগ্ৰেস,টিডিপি এবং বিএসপি ও আপ-এর মতো বিরোধী দলগুলিও সরকারের প্ৰস্তাব সমর্থন করেছে। তবে কংগ্ৰেস,ডিএমকে,এনসিপি,আরএসপি এবং এসপি বিরোধিতা করেছে এই প্ৰস্তাবের। বিলটি নিয়ে সদনে উত্তপ্ত আলোচনা চলাকালে জেডি(ইউ)এসপি,তৃণমূল কংগ্ৰেসের সদস্যরা সভায় ওয়াকআউট করেন। তৃণমূল কংগ্ৰেস বিলের অংশীদার হতে আগ্ৰহী নয় জানিয়ে আগেভাগেই সভা থেকে বেরিয়ে আসে। ওই উত্তপ্ত পরিস্থিটির মধ্যেই স্বরাষ্ট্ৰমন্ত্ৰী বলেন,‘আমি বলতে চাই যে জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এবং থাকবেও। এনিয়ে দ্বিমত হতে পারে না। শাহ বলেন,‘কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ থাকুক দেশের মানুষ ৭০ বছর ধরে এই আকাঙ্খা মনের মধ্যে পুষে রেখেছিলেন। এই লক্ষ্যে পৌঁছতে বড় বাধা ছিল এই ৩৭০ ধারা। এই ধারা চিরতরে দূর করতে প্ৰধানমন্ত্ৰী যে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছেন তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি’। সংশ্লিষ্ট বিল নিয়ে লোকসভায় আলোচনাকালে কংগ্ৰেস দল নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী প্ৰশ্ন তোলেন,কাশ্মীর যেহেতু দ্বিপাক্ষিক ইস্যু,সেইহেতু দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করা উচিত ছিল। এব্যাপারে কেন্দ্ৰ কিভাবে একতরফা পদক্ষেপ নিল? এই প্ৰশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বেশ ক্ষেপে যান শাহ। তিনি বলেন,কাশ্মীর ভারতের অংশ,তাহলে এটা আমাদের ঘরোয়া বিষয় হবে না কেন? দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো কাশ্মীর সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবার পূর্ণ অধিকার রয়েছে সরকারের-বলেন শাহ। তিনি আরও বলেন পক এবং আকসাই চিনও ভারতের অংশ।

 

 

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ ৩৭০ ধারা রদঃ জম্মু ও কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত করতে কিভাবে পরিকল্পনা করেছিল মোদি সরকার