Begin typing your search above and press return to search.

বাংলাদেশি ভোটের লালসায়ই ক্যা এনেছে সরকারঃ আসু

বাংলাদেশি ভোটের লালসায়ই ক্যা এনেছে সরকারঃ আসু

Sentinel Digital DeskBy : Sentinel Digital Desk

  |  21 Dec 2019 10:18 AM GMT

গুয়াহাটিঃ সারা অসম ছাত্ৰ সংস্থার(আসু)সাধারণ সম্পাদক লুরিনজ্যোতি গগৈ বলেন,‘মুখ্যমন্ত্ৰী সর্বানন্দ সোনোয়াল একসময়ে আসুর নেতা ছিলেন। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের(সিএএ)বিরুদ্ধে রাজ্যে চলা আন্দোলনে মুখ্যমন্ত্ৰীর ছাত্ৰদের নেতৃত্ব দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্ৰী হয়ে তিনি অসম বিরোধী ওই আইনটিকে সমর্থন করেছেন। শুধু ক্ষমতার জন্যই এমনটা করছেন তিনি-বলেন আসু নেতা।

শুক্ৰবার দ্য সেন্টিনেলের সঙ্গে কথা বলার সময় আসু নেতা বলেন,সোনোয়াল যে একসময় আসু নেতা ছিলেন সেটা এখন বোঝাই দায়। একসময় সোনোয়াল বলেছিলেন,১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশ থেকে আসা একজনও ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবে না। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্ৰী হয়ে এখন তিনি ক্যা-র পক্ষেই ওকালতি করছেন। মুখ্যমন্ত্ৰী এখন একটা বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের(ক্যা)প্ৰতি তাঁর সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্তের জন্যই রাজ্যের খিলঞ্জিয়া মানুষ তাদের জমি,ভাষা,সাহিত্য,সংস্কৃতি খোয়ানোর সম্ভাবনায় আশঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। লুরিনজ্যোতি বলেন,উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্ৰীরা তাদের রাজ্যগুলোকে এই নতুন আইনের আওতা থেকে ছাড় দিতে নতুন দিল্লিকে বুঝিয়ে শুনিয়ে রাজি করিয়েছেন। কিন্তু এর বিপরীতে অসম সরকার ওই আইন সম্পর্কে মুখে কুলুপ এঁটে বসেছে। ক্যার অধীনে নগণ্য সংখ্যক হিন্দু বাংলাদেশি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানাতে পারবে বলে মুখ্যমন্ত্ৰী যে বিবৃতি দিয়েছেন সে ব্যাপারে প্ৰতিক্ৰিয়া ব্যক্ত করে আসু নেতা লুরিনজ্যোতি গগৈ বলেন,‘আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট-অসম আর একজনও বাংলাদেশির বোঝা কাঁধে নেবে না। ১৯৭১ সালের পরে আসা কোনও বাংলাদেশির বোঝা অসম নেবে না তা সে হিন্দু অথবা মুসলিম যেই হোক না কেন’। ‘১৯৫১ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে তদানীন্তন পূর্ববঙ্গ থেকে অসমে আসা মানুষের বোঝা অসম ইতিমধ্যেই কাঁধে তুলে নিয়েছে। ১৯৭১ সালের পর অসমে আাসা বাংলাদেশিদের ভারত সরকার যদি ভারতীয় নাগরিকত্ব দিতে চায় তাহলে তারা সেটা গুজরাটে করতে পারে-এতে আমাদের বলার কিছুই নেই’।

৬নং দফা অসম চুক্তির আত্মা বলে মুখ্যমন্ত্ৰী যে মন্তব্য করেছেন সে ব্যাপেরে গগৈ বলেন,পুরো অসম চুক্তিটাই অসমের মানুষের আত্মাস্বরূপ। ‘৮৫৫ জন শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। অসম চুক্তির ৫নং এবং অন্যান্য শর্তগুলির গুরুত্ব ৬নং দফা থেকে কোনও অংশেই কম নয়’। শুক্ৰবার নলবাড়িতে বিজেপির বের করা শান্তি মিছিল সম্পর্কে প্ৰতিক্ৰিয়া ব্যক্ত করে লুরিনজ্যোতি বলেন,‘ক্যা’ বাতিল হলেই আন্দোলনকারীরা পথ ছেড়ে দেবে। তাই সরকার আগে ক্যা বাতিল করুক।

এদিকে আসুর সভাপতি দীপাঙ্ক কুমার নাথ এবং মুখ্য উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য শুক্ৰবার বলেছেন,মুখ্যমন্ত্ৰী যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে তিনি ওই আইনটি সমর্থন করছেন। ১৯৭১-২০১৪ পর্যন্ত এই ৪৩ বছরে অসমে আসা বাংলাদেশিদের নাগরিকত্ব দিতে চাইছে সরকার,মুখ্যমন্ত্ৰীর বিবৃতিতে সেটাও প্ৰমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশিদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনী ফায়দা তুলতেই সরকার ক্যা এনেছে বলে তাঁরা মন্তব্য করেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে উত্তর পূর্বের অন্যান্য রাজ্যকে ওই আইনের আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। উভয় আসু নেতা বলেন,বাংলাদেশি ভোটের লালসায় মুখ্যমন্ত্ৰী ওই আইন সম্পর্কে রাজ্যের মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করছেন।

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ নগণ্য সংখ্যক নাগরিকত্ব পেলেও অসমিয়া সমাজে তা হুমকি হয়ে দাঁড়াবে নাঃ সোনোয়াল

অধিক খবরের জন্য ভিডিও দেখুন: AATASU staged protest against the Citizenship Amendment Act. 2019 in Golaghat

Next Story