ইন্টারন্যাশনাল

বিশ্বের সর্বোচ্চ আবহাওয়া স্টেশন স্থাপিত হলো মাউণ্ট এভারেস্টে

মাউণ্ট এভারেস্টে
Source: Google

বিশ্ব এখন সর্বোচ্চ আবহাওয়া অপারেটিং স্টেশন পাচ্ছে। এটা বাস্তবিকই একটা আশ্চর্যের বিষয়। এই আবহাওয়া স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে হিমালয়ের মাউণ্ট এভারেস্টে। সমুদ্ৰপৃষ্ঠ থেকে হিমালয়ের মাউণ্ট এভারেস্ট হচ্ছে পৃথেবীর মধ্যে সর্বোচ্চ। ন্যাশনাল জিওগ্ৰাফিক সোসাইটি ১৩ জুন মাউণ্ট এভারেস্টে এই আবহাওয়া স্টেশন স্থাপনের খবরটি ঘোষণা করেছে।

এই আবহাওয়া স্টেশন স্থাপনের সবচেয়ে কল্যাণকর দিকটি হলো গবেষক,পর্বতারোহী এবং সাধারণ মানুষ পর্বতের অবস্থা সম্পর্কে যথা সময়ে প্ৰকৃত তথ্য জানতে সক্ষম হবেন। আবহাওয়া স্টেশনটি স্থাপিত হওয়ায় পর্বতারোহীদের কখন পর্বতারোহণ করা যাবে কিংবা আবহাওয়া খারাপ হলে আরোহন করা যে সমীচীন হবে না,সে সম্পর্কে সবিশেষ তথ্য তারা আগাম জানতে পারবেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন কিংবা পর্বতারোহণ এড়িয়ে চলার ব্যাপারে আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন পর্বতারোহীরা।

ন্যাশনাল জিওগ্ৰাফিক সোসাইটি মার্কেটিং অ্যাণ্ড কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর ফায়ে জেনক্স বলেন,‘মাল্টিসিপ্লিনআরি টিম বিশ্বের দুটি সর্বোচ্চ অপারেটিং অটোমেটেড ওয়েদার স্টেশন স্থাপন করেছে ৮৪৩০ মিটার উচ্চতায় ব্যালকনি এলাকায় এবং সাউথ কল-এর ৭,৯৪৫ মিটার উচ্চতায়। সেইসঙ্গে আরও তিনটি আবহাওয়া স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে মাউণ্ট এভারেস্টে’।

বাকি আবহাওয়া স্টেশনগুলি স্থাপন করা হয়েছে পোরসেতে ৩,৮১০ মিটার,এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে ৫,৩১৫ মিটার এবং ক্যাম্প টুতে(৬,৪৬৪ মিটার)উচ্চতায়। ডিরেক্টর ফায়ে জেনক্স আরও বলেছেন,এই আবহাওয়া স্টেশনগুলির প্ৰতিটি তাপমাত্ৰার ডাটা,রিলেটিভ হিউমিডিটি,বায়ো-মেট্ৰিক চাপ,বাতাসের গতি এবং বাতাসের গতিপথ সম্পর্কে পুরো তথ্য রেকর্ড করবে।

এই আবহাওয়া স্টেশনগুলি থেকে যে ডাটা পাওয়া যাবে তা আবহাওয়া সংক্ৰান্ত ঝুঁকি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সম্প্ৰদায়কে সাহায্য করবে। তাছাড়া স্থানীয় লোকেদের জীবন ও জীবিকার ক্ষেত্ৰে ঝুঁকির মাত্ৰা হ্ৰাস করবে। ফলে তারা নিরাপদেই থাকবেন। ভবিষ্যতে কোনও প্ৰাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা দেখা দিলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্ৰয়োজনীয়  সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্ৰহণ করতে পারবেন।

জেনক্স আরও বলেন,ব্যালকনি ওয়েদার স্টেশনটি হচ্ছে প্ৰথম ওয়েদার স্টেশন যা ৮,০০০-এর বেশি উচ্চতায় স্থাপন করা হয়েছে। এই স্টেশনটি আবহাওয়ার প্ৰকৃতি ও এর পরিবর্তন সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। স্টেশনগুলির মাধ্যমে আবহাওয়া সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ও আগাম সঙ্কেত পাওয়া যাবে,যা পর্বতারোহী ও সাধারণ মানুষের যথেষ্ট উপকার সাধন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ  ইন্টারন্যাশনাল