রাজ্যের খবর

দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যেই কাজ করছেন গীতানগর থানার কর্মীরা

Sentinel Digital Desk

গুয়াহাটিঃ কেউ যদি কখনও গীতানগর থানায় গিয়ে থাকেন তাহলে সেই ব্যক্তির চোখ যে কপালে উঠবে সেটা অবধারিত কারণ ওই থানার প্ৰাচীরের গায়ে শেওশার আস্তরণ কারো চোখ এড়িয়ে যাবে না। গুয়াহাটিতে একপশলা জোর বৃষ্টি হলে গীতানগর থানা জলে ভরে যায়। বর্ষার সময় বৃষ্টি লেগে থাকলে তো কথাই নেই। গীতানগর থানার ভিতর হয়ে পড়ে জলে টইটুম্বুর। জল নেমে যাওয়ার পর রেখে যায় তার ছাপ। থানার প্ৰাচীরগুলো সবুজ শেওলায় ছেয়ে যায়। গুয়াহাটিতে পুলিশ কমিশনারেটে উন্নীত করায় অন্যান্য থানার সঙ্গে গীতানগর থানার দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেকগুণ বেড়ে গেছে। ১৯৮৩ সালে এই থানার জন্য যে সব পোস্ট সেংশন করা হয়েছিল তার চেয়ে অনেক কম কর্মী দিয়েই চলছে থানার কাজকর্ম।

এই থানায় ইন্সপেক্টরের একটি মাত্ৰ সেংশন পোস্টে একজনই ইন্সপেক্টর রয়েছেন। এসআই-এর চারটি সেংশন পোস্টের বিপরীতে আছেন মাত্ৰ দুজন। এএসআই-এর অনেকগুলো পোস্ট সেংশন করা সত্ত্বেও রয়েছেন মাত্ৰ তিনজন। হেড কনস্টেবলের দুটি সেংশন পোস্টে একজনও নেই। নায়কের একটি সেংশন পোস্টে কর্মী নিয়োগ করা হয়নি। ল্যান্স নায়কের কোনও পদ সেংশন করা হয়নি। কনস্টেবলের ৩০টি সেংশন পোস্ট থাকা সত্ত্বেও আছেন মাত্ৰ নজন। মহিলা পুলিশের অনেকগুলো এবং ৮টি হোমগার্ডের পদ সেংশন করা সত্ত্বেও দুজন মহিলা পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন থানায়। গীতানগর থানার এক্তিয়ারে রয়েছে বিশাল এলাকা।

গুয়াহাটি কমার্স কলেজ পয়েন্ট থেকে গীতানগর মন্দির এবং রাজ্য চিড়িয়াখানা পর্যন্ত এলাকা এই থানার এক্তিয়ারভুক্ত। থানায় সর্বাধিক ৫৯৬টি মামলা এখনও ঝুলছে।

এই থানার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের মতে থানার অবস্থা কল্পনারও অতীত। থানার প্ৰাচীরে শেওলার মতো সবুজ আস্তরণের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে ফাইল পত্ৰ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজ টেবিলে তুলে রাখা হয়। থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মীরা থানার ভিতর থেকে বৃষ্টির জল না কমা পর্যন্ত বাইরে বসে কাজ করেন। থানার একজন কর্মকর্তা বলেন,পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর যখন প্ৰস্তাব রাখা হচ্ছে সেই সময় এই থানার অবস্থা দেখলে প্ৰত্যেকেই হকচকিয়ে উঠবেন।

অধিক খবরের জন্য ভিডিও দেখুন: Diwali 2019: ‘Disneyland Paris’ theme this year in Colony Bazaar, Guwahati