Top
Begin typing your search above and press return to search.

নামবর অভয়ারণ্যে বহু দিন পরে দেখা গেলো ভারতীয় বাইসন

নামবর অভয়ারণ্যে বহু দিন পরে দেখা গেলো ভারতীয় বাইসন

Sentinel Digital DeskBy : Sentinel Digital Desk

  |  3 July 2019 11:48 AM GMT

নুমলিগড়ঃ বেশ কবছর পর গোলাঘাটের নামবর অভয়ারণ্যে প্ৰায় বিলুপ্ত হতে চলা ভারতীয় বাইসনের ফের দেখা মিললো। বন্য গবাদি পশুর মধ্যে বাইসন প্ৰজাতি হচ্ছে সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী। বাইসনের বিজ্ঞানসম্মত নাম হচ্ছে বস গৌরাস,অসমিয়ায় যাকে মিথুন বলা হয়ে থাকে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ ন্যাচার(আইইউসিএন)বাইসনকে তাদের রেড লিস্টে বিলুপ্ত প্ৰায় শ্ৰেণিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। পূর্ণ বয়স্ক এক একটা পুরুষ বাইসনের ওজন গড়ে ৬০০ থেকে ১,৫০০ কেজি এবং স্ত্ৰী বাইসনের ওজন ৪০০ থেকে ১,০০০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

প্ৰাপ্ত রিপোর্ট অনু্যায়ী,২০০২ সালে নামবর অভয়ারণ্যে মাত্ৰ এক ডজন ভারতীয় বাইসন ছিল। চোরা শিকারির দৌরাত্ম্য,৩৯নং রাষ্ট্ৰীয় সড়ক দিয়ে দ্ৰুতগতিতে যানবাহনের চলাচল এবং অন্যান্য বিভিন্ন প্ৰতিকূল পরিবেশের মধ্যে এই প্ৰজাতির প্ৰাণীগুলো বেঁচে থাকার জন্য লড়াই চালিয়ে আসছিল। ২০০১ এবং ২০০৪ সালে অসাধু প্ৰকৃতির লোকেরা অভয়ারণ্যের কাছে দুটো বাইসনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। ২০০২ সালে ৩৯নং রাষ্ট্ৰীয় সড়কে দ্ৰুতগতিতে ধাবমান গাড়ির ধাক্কায় একটি বিশালকার বাইসন মারা পড়ে। এই সব কারণে বন্য গবাদি পশুর এই প্ৰজাতির সংখ্যা দ্ৰুতগতিতে হ্ৰাস পেতে শুরু করে। ওই সময় মনে করা হয়েছিল যে খুব শীঘ্ৰই অভয়ারণ্যে বাইসন পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সাম্প্ৰতিক বছরগুলোতে অভয়ারণ্যের কিছু এলাকার এক-দুটি পুরুষ বাইসনকে ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে।

ভারতীয় বাইসন মূলত পাওয়া যায় পশ্চিমঘাট,বিশেষ করে নাগরহোল-এ,বান্দিপুর এবং মুধুমালাই কমপ্লেসেসে। তাছাড়া ভারতের কিছু রাষ্ট্ৰীয় উদ্যান যেমন নাগরহোল রাষ্ট্ৰীয় উদ্যান,বান্দিপুর ন্যাশনাল পার্ক এবং মুধুমালাই রাষ্ট্ৰীয় উদ্যানে বাইসন পাওয়া যায়। কাজিরঙা রাষ্ট্ৰীয় উদ্যানের তথ্য অনু্যায়ী,এই উদ্যানে ৩০টির মতো বাইসন রয়েছে। এদিকে নামবর অভয়ারণ্যের দহনি এলাকায় প্ৰায় সম সংখ্যক বাইসন নজরে আসায় এই অঞ্চলের পরিবেশ কর্মীদের মধ্যে নতুন আশার আলো জেগেছে।

গত মাস থেকে নামবর অভয়ারণ্যের থুরামুখ দহনি এলাকায় এই বিশাল প্ৰজাতি বাইসনের দুই তিনটিকে বিচরণ করতে দেখা গিয়েছে। গৃহ পালিত গবাদি পশুর রোগও বাইসনের বেঁচে থাকার ক্ষেত্ৰে হুমকি হয়ে পড়েছে। কারণ বাইসনগুলো প্ৰায়ই মানুষের বসতি এলাকায় থাকা মাঠগুলোতে নেমে আসে। ফলে গৃহপালিত জীবজন্তু থেকে বাইসনের শরীরে রোগ সংক্ৰামিত হয়।

নামবর অভয়ারণ্যের জুরিয়া দলং ফরেস্ট বিট অফিসে বন কর্মীরও যথেষ্ট অভাব রয়েছে। বন কর্মীর অপ্ৰতুলতার জন্য নামবর অভয়ারণ্যের বন্যজীবন রক্ষা করাটা গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে পড়েছে। ওই অভয়ারণ্যের কাছে বসতি এলাকায় বাইসনের সঙ্গে হাতিও হানা দেয়। ফলে ভবিষ্যতে বন্যপ্ৰাণীর সঙ্গে মানুষের লড়াই আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেবে এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ গোলাঘাট জেলায় হাতি-মানুষের সংঘাত ক্ৰমেই বাড়ছে

Next Story