Top
undefined
Begin typing your search above and press return to search.

কয়লা সিন্ডিকেট ইস্যু নিয়ে উত্তাল অসম বিধানসভা

কয়লা সিন্ডিকেট ইস্যু নিয়ে উত্তাল অসম বিধানসভা

Sentinel Digital DeskBy : Sentinel Digital Desk

  |  30 Nov 2019 7:58 AM GMT

গুয়াহাটিঃ বহু বিতর্কিত কয়লা সিন্ডিকেট ইস্যু নিয়ে শুক্ৰবার রাজ্য বিধানসভায় এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরোধী কংগ্ৰেসই কয়লা সিন্ডিকেট ইস্যুটি উত্থাপন করে। বিরোধীরা কয়লা সিন্ডিকেট চলার অভি্যোগ সম্পর্কে সিবিআই তদন্তের দাবিতে সরকারকে চেপে ধরে। ওদিকে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জোরগলায় বলা হয় রাজ্যের কোথাও কোনও কয়লা সিন্ডিকেট নেই। এই নিয়ে শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষে তর্কাতর্কি চলে অনেকক্ষণ। দুপক্ষের চিৎকার,হৈ হট্টগোল এমন একটা স্তরে গিয়ে পৌঁছয় যে অধ্যক্ষ কংগ্ৰেস বিধায়ক রূপজ্যোতি কুর্মিকে সারাদিনের জন্য সাসপেন্ড করে দেন। বিধানসভায় টানা দেড়ঘণ্টা টালবাহানা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি চলার পর কংগ্ৰেস বিধায়করা ব্ৰহ্মপুত্ৰ ও বরাক উপত্যকায় কয়লা সিন্ডিকেটের সার্বিক সিবিআই তদন্তের দাবি করে সদনে ওয়াকআউট করেন।

কংগ্ৰেস বিধায়ক অজন্তা নেওগ ও শেরমান আলি আহমেদ জিরো আওয়ারে উত্থাপন করেন ইস্যুটি। নেওগ বলেন,‘রাজ্যে কয়লা সিন্ডিকেট অপ্ৰতিরোধ্য গতিতে চলছে। কিছু সুসংগঠিত গোষ্ঠী এই সমস্ত সিন্ডিকেটে জড়িত রয়েছে। লিডু,লেখাপানি এবং অন্যান্য কিছু এলাকায় অবৈধ কয়লা খননের বিরুদ্ধে যত বেশি সম্ভব ১৫৭টি মামলা পুলিশের খাতায় নথিভুক্ত রয়েছে। অবৈধ কয়লা খননের ফলে রাজ্যের বনাঞ্চলও ধ্বংস হচ্ছে। তিনি বলেন,এমনকি শাসক দলের একজন বিধায়ক সম্প্ৰতি ট্ৰাকে করে অবৈধ কয়লা বহনের একটা ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। কংগ্ৰেস এদিন বিধানসভায় এই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করে। কয়লা সিন্ডিকেটে মুখ্যমন্ত্ৰীর কার্যালয়ও জড়িত অভিযোগ করে একাংশ প্ৰচার মাধ্যমে রিপোর্ট প্ৰকাশিত হয়েছিল। তিনি বলেন,‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার শূন্য সহিষ্ণু নীতির কথা শুনিয়েছে। কয়লা সিন্ডিকেটের ব্যাপারে সরকার সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল ঠিকই কিন্তু তাতে কোনও ফল আমরা দেখতে পাইনি’-বলেন তিনি। নেওগ আরও বলেন,রাজ্যে সিন্ডিকেট কমেনি,বরং বেড়েছে।

একই ইস্যু নিয়ে কংগ্ৰেস বিধায়ক শেরমান আলি আহমেদ বলেছেন,‘অবৈধ কয়লা খননের জন্য ব্যাপক হারে রাজস্ব মার খাচ্ছে। পাটকাই পাহাড়ের জৈববৈচিত্ৰ্যের অবনতি ঘটছে প্ৰতিদিনই। আমরা কয়লা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জোর সিবিআই তদন্ত চাই’।

বিরোধীদের এই অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে সংসদ বিষয়ক এবং শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মন্ত্ৰী চন্দ্ৰমোহন পাটোয়ারি বলেন,‘রাজ্যে সিন্ডিকেটের কোনও অস্তিত্বই নেই-আমি দায়িত্ব নিয়েই একথা বলছি। যদি কেউ সেটা প্ৰমাণ করতে পারেন তাহলে আমি ইস্তফা দিতে প্ৰস্তুত। বিধানসভায় কোনও সদস্যের হাতে কয়লা সিন্ডিকেটের যদি কোনও সাক্ষ্যপ্ৰমাণ থেকে থাকে তাহলে তিনি সেটা সরকারের দরবারে তুলে ধরুন’। মন্ত্ৰী বলেন,‘দলীয় বিধায়ক সুরেন ফুকনের ফেসবুক লাইভ দেখে মুখ্যমন্ত্ৰী স্বয়ং ডিআইজি ও জেলাশাসককে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনওরকম অনিয়ম নজরে এলে সরকার অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। আপনারা সঠিক তথ্য সরকারের সামনে তুলে ধরুন-আমরা ব্যবস্থা নিতে পিছ হা হবো না’-বলেন পাটোয়ারি। কংগ্ৰেসের ১৫ বছর শাসনকালে টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার এপিএসসি কেলেংকারি,ইন্দিরা আবাস যোজনা,ভুয়া জবকার্ড ইস্যু সহ বিভিন্ন কেলেংকারি সংঘটিত হয়েছিল বলে পাটোয়ারি উল্লেখ করেন।

এদিন বিধানসভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্ৰণের বাইরে চলে যাওয়ায় অধ্যক্ষ হিতেন্দ্ৰনাথ গোস্বামী কংগ্ৰেস বিধায়ক রূপজ্যোতি কুর্মীর অসংযত আচরণের জন্য তাঁকে সারা দিনের জন্য সাসপেন্ড করেন এবং মার্শাল লাগিয়ে তাঁকে সদনের বাইরে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে সতীর্থরা কুর্মীকে আগলে রাখেন।

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ এনআরসিতে দুর্নীতি সম্পর্কে সদনে বিস্তারিত জানাবোঃ হিমন্ত

অধিক খবরের জন্য ভিডিও দেখুন: Watch | ‘Sankardev Theatre’ engaged in fraudulent practices! Alleged Artistes in Guwahati

Next Story