Top
undefined
Begin typing your search above and press return to search.

১২৪৯.৫০ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট বিধানসভায় পেশ করলেন অর্থমন্ত্ৰী শর্মা

১২৪৯.৫০ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট বিধানসভায় পেশ করলেন অর্থমন্ত্ৰী শর্মা

Sentinel Digital DeskBy : Sentinel Digital Desk

  |  7 March 2020 9:05 AM GMT

গুয়াহাটিঃ অর্থমন্ত্ৰী হিমন্তবিশ্ব শর্মা শুক্ৰবার ২০২০-২১ সালের আর্থিক বছরের জন্য ১২৪৯.৫০ কোটি টাকার ঘাটটি রাজ্য বাজেট বিধানসভায় পেশ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন,সরকার অসমে বসবাসকারী সব শ্ৰেণির মানুষকে খুশি রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে এই বাজেটের মাধ্যমে।

ঘাটতি বাজেট উপস্থাপন করা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার নতুন কোনও কর চাপানোর প্ৰস্তাব রাখেনি। বরঞ্চ নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্ৰে কর কর্তন করে সামাজিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আরও বেশি দৃষ্টি দেওয়ার প্ৰস্তাব রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্ৰী ২০২০-২১ সালের আয় ব্যয়ের যে হিসেব তুলে ধরেছেন তাতে দেখা গেছে বছর শেষে ঘাটতির অঙ্ক ১২৪৯.৫০ কোটি টাকা হতে পারে। তবে সেটা দাঁড়াবে বিগত বছরের ৩১৮৩.৬০ কোটি টাকার হিসেব মিলিয়ে। না হলে চলতি বছরের রাজ্য বাজেটে উদ্বিত্ত দাঁড়াবে ১৯৩৪ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্ৰীর পেশ করা বাজেট অনু্যায়ী আগামি আর্থিক বছরে মূলধন,রাজস্ব খাত ইত্যাদি মিলিয়ে সরকারের মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৮২২৯৪-৩৯ কোটি টাকা এবং বছর শেষ ব্যয় হতে পারে ২৮০৩৬০.২৯ কোটি টাকা। ‘আমাদের পশ্চাৎপট,বিশ্বাস এবং আশা আকাঙ্খা যাই হোক না কেন,আমরা এমাটিতে জন্মেছি এবং সেইহেতু অসমকে আমরা ভালোবাসি। অসমে বসবাসকারী প্ৰত্যেকের প্ৰতিই আমাদের উদ্বেগ,উৎকণ্ঠা রয়েছে। আমরা পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্ৰোতভাবে জড়িয়ে আছি,সুখ,দুঃখ শেয়ার করছি। এটা আমাদের গৃহ,যেখানে রয়েছে বৈচিত্ৰ্য ও উন্নয়নের স্বাধীনতা। আমাদের লক্ষ্য ভিন্ন হলেও নিজেদের মধ্যে থাকা পার্থক্য,মতভেদকে দূরে সরিয়ে আমরা একযোগে কাজ করতে পারি অসমকে উন্নতির পথে এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থে’-শুক্ৰবার বিকেলে বিধানসভায় নিজের বাজেট বক্তৃতায় কথাগুলো বলেন মন্ত্ৰী ড.শর্মা।

অর্থমন্ত্ৰী সদনে বলেন,এই বাজেটে সবাই খুশি হবেন বলেই আশা করছি। কারণ,বাজেটে নতুন কোনও করের প্ৰস্তাব রাখা হয়নি। খরচের বহর বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও করের হারে কোনও বৃদ্ধির প্ৰস্তাব নেই। বরঞ্চ কিছু কিছু ক্ষেত্ৰে বিশেষ করে স্পেশিফাই ল্যান্ড সেসে পর্যায়ক্ৰমে কর বিলুপ্ত করার প্ৰস্তাব রেখেছি আমরা।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্ৰতি লক্ষ্য রেখে অর্থমন্ত্ৰী সাধারণ গরিব পরিবারের হেঁসেলে ঢুকে পড়ে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করেছেন। বাজেটে গরিব পরিবারগুলোকে ছাড় মূল্যে ডাল,চিনি,ওষুধ,শাকসব্জি ইত্যাদি কিনতে মাসিক আর্থিক সাহা্য্যের প্ৰস্তাব রাখা হয়েছে। রাষ্ট্ৰীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের অধীনে সব সুবিধা ভোগীদের বিনামূল্যে চাল দেওয়ার প্ৰস্তাব রাখা হয়েছে বাজেটে। মাসে ৩০ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্ৰতিটি বাড়িতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্ৰস্তাব রেখেছেন অর্থমন্ত্ৰী।

চা উপজাতি এবং আদিবাসী সম্প্ৰদায়ের যে সমস্ত ছাত্ৰ-ছাত্ৰী এইচএসএলসি এবং এইচএসসি পাশ করেছে তাদের এককালীন ১০ হাজার টাকা সাহায্য দেওয়া হবে। ৩০০টি চা বাগান ডিভিশনে ৩০০ কিলোমিটার পথ নির্মাণের প্ৰস্তাব রেখেছেন তিনি। চা বাগান এলাকায় নতুন ১০২টি হাইস্কুল নির্মাণের প্ৰস্তাব রাখা হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দ যুব ক্ষমতায়ন প্ৰকল্পের অধীনে শিল্প স্থাপনে রাজ্যের ২ লক্ষ যুবককে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এক্ষেত্ৰে অর্থমন্ত্ৰী ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্ৰস্তাব করেছেন। বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা আয়ের পরিবারগুলোর নব-বিবাহিতা বধূকে অরুন্ধতী প্ৰকল্পের অধীনে ১ তোলা সোনার বদলে ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার প্ৰস্তাব রাখা হয়েছে। আইদেউ সন্দিকৈ মহিলা সম্মান প্ৰকল্পে ৪০ ঊর্ধ্ব অবিবাহিত/বিবাহ বিচ্ছিন্না/পৃথক হওয়া অথবা একা থাকা মহিলাদের মাসিক ২৫০ টাকা করে অর্থ সাহা্য্য। চা উপজাতি ও আদিবাসী গর্ভবতী মহিলাদের ৬ কিস্টিতে ১৮ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার প্ৰস্তাব করা হয়েছে। উদ্যোগ স্থাপনে বাগানগুলির ১৪ হাজার যুবককে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহা্য্যের প্ৰস্তাব করা হয়েছে। এক হাজার ক্ৰীড়া ব্যক্তিত্ব ও ১ হাজার শিল্পীর প্ৰত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে এককালীন ইনসেনটিভ দেওয়া এবং উপজাতিদের সংস্কৃতি,পরম্পরা শক্তিশালী করার প্ৰস্তাব রেখেছেন অর্থমন্ত্ৰী। সোনারি এবং বিশ্বনাথ চারালিতে ২টো মেডিক্যাল কলেজ খোলা হবে। কলিয়াবরে একটি নতুন আইন কলেজ স্থাপনের প্ৰস্তাব রেখেছেন শর্মা। চলতি বছরে আগস্টের মধ্যে শিক্ষকদের চাকরি প্ৰাদেশিকীকরণ ]করা হবে। ২০২২৮ জন শিক্ষকের চাকরি প্ৰাদেশিকরণের বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে বলে অর্থমন্ত্ৰী উল্লেখ করেছেন।

অর্থমন্ত্ৰী তাঁর বাজেটে শিশু,মহিলা,চা উপজাতি,দিব্যাঙ্গ সব সব শ্ৰেণিকে ছোঁয়ার চেষ্টা করেছেন। অরুণোদয় প্ৰকল্প বাবদ ধার্য করা হয়েছে ২৮০০ কোটি টাকা। আমরা ‘তৎকাল’ নামে একটি স্কিম চালু করছি,যার মাধ্যমে জনগণ ফার্স্ট ট্ৰাক মুডে আবেদন করে ড্ৰাইভিং লাইসেন্স সংগ্ৰহ করতে পারবেন এক্ষেত্ৰে মাশুলের পরিমান বেশি হবে। তবে এব্যাপারে গুণগত ক্ষেত্ৰে কোনও আপস করা হবে না। দুর্নীতি নির্মূলে রাজস্ব সংগ্ৰহে উদ্ভাবনীমূলক ব্যবস্থায় গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থমন্ত্ৰী।

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ রাজ্য বাজেটে উন্নয়নের ফিরিস্তি অর্থমন্ত্ৰী হিমন্তবিশ্ব শর্মার

অধিক খবরের জন্য ভিডিও দেখুন: Mottock Yuva Chatra Parishad demands immediate release of KMSS leader Akhil Gogoi in Tinsukia

Next Story