সংবাদ শিরোনাম

চূড়ান্ত এনআরসি প্ৰকাশের একমাস পরও সরকার ও নামছুটরা এখনও অন্ধকারে

চূড়ান্ত এনআরসি

 

গুয়াহাটিঃ চূড়ান্ত রাষ্ট্ৰীয় নাগরিক পঞ্জি(এনআরসি)প্ৰকাশের দেখতে দেখতেই একমাস হয়ে গেলো। কিন্তু এনআরসি-র বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে কেন্দ্ৰ এবং সেইসঙ্গে রাজ্য সরকার এখনও অন্ধকারে রয়েছে। এনআরসি ছুট ব্যক্তিরাও এনআরসি রাজ্য সমন্বয়কের কার্যালয় থেকে এখনও পর্যন্ত পাননি রিজেকশন অর্ডার। উল্লেখ্য,চূড়ান্ত এনআরসি প্ৰকাশিত হয়েছিল ২০১৯-এর ৩১ আগস্ট তারিখে।

গৃহ ও রাজনৈতিক বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন আধার-এর ডাটা সংরক্ষণের ধাঁচে এনআরসি-র তথ্য সংরক্ষণে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানানোর জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই এনআরসির রাজ্য সমন্বয়ক প্ৰতীক হাজেলাকে একটি চিঠি দিয়েছে। চূড়ান্ত এনআরসি থেকে বাদ পড়া লোকেদের কবে পর্যন্ত রিজেকশন অর্ডার ইস্যু করা হবে চিঠিতে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে রাজ্য সরকারের এসব প্ৰশ্নের কোনও জবাব এখন পর্যন্ত দেননি সমন্বয়ক হাজেলা।

খবরে প্ৰকাশ,সুপ্ৰিম কোর্ট আধার-এর মতো এনআরসি-র ডাটা সংরক্ষণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্ৰহণের পরই তা শেয়ার করার নির্দেশ দিয়েছিল এনআরসি কর্তৃপক্ষকে। এরই পরিপ্ৰেক্ষিতে এনআরসি কর্তৃপক্ষ তাদের হাতে থাকা এনআরসির তথ্য এখনও পর্যন্ত রাজ্য ও কেন্দ্ৰীয় সরকারের সঙ্গে শেয়ার করেনি।

সুপ্ৰিম কোর্টের মুখ্য বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এবং বিচারপতি রোহিন্টন ফলি নরিম্যানকে নিয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ চলতি বছরের ১৩ আগস্ট এনআরসির রাজ্য সমন্বয়ককে নির্দেশ দিয়েছিল আধারের তথ্য সংরক্ষণে যেভাবে  নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হয়েছে,ঠিক সেভাবেই এনআরসি-র তথ্য সংরক্ষণে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে। এরপরই এনআরসিতে অন্তর্ভুক্ত এবং নাম ছুটদের বিস্তারিত তালিকা রাজ্য,কেন্দ্ৰীয় সরকার ও রেজিস্ট্ৰার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার(আরজিআই)সঙ্গে শেয়ার করতে বলেছিল কোর্ট।

গৃহ ও রাজনৈতিক বিভাগের কমিশনার এবং সচিব আশুতোষ অগ্নিহোত্ৰী এর আগে দ্য সেন্টিনেলকে বলেছেন,চূড়ান্ত এনআরসি প্ৰকাশের পর মানুষের মধ্যে বিভ্ৰান্তি ও দুঃশ্চিন্তার ভাব লক্ষ্য করা গেছে। এনআরসি প্ৰকাশের পর মানুষের মন থেকে এই বিভ্ৰান্তি ও দুঃশ্চিন্তা প্ৰশমনে রাজ্য সরকারেরও করণীয় রয়েছে। আর সেজন্যই ‘আমরা আধারের মতো এনআরসি-র ডাটা সংরক্ষণের স্টেটাস জানতে সমন্বয়ক প্ৰতীক হাজেলাকে চিঠি দিয়েছি। চূড়ান্ত এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের কবে নাগাদ রিজেকশন অর্ডার ইস্যু করা হচ্ছে সমন্বয়কের কাছে তাও জানতে চেয়েছি’।

এনআরসি ছুটদের মামলাগুলো নিষ্পত্তির জন্য ২০০টি নতুন ফরেনার্স ট্ৰাইবুনাল(এফটি)গঠন করা হয়েছে। নাম ছুট ব্যক্তিরা কিভাবে এফটির দ্বারস্থ হবেন এবং কিভাবে তাদের আইনি সাহা্য্য দেওয়া হবে ইত্যাদি বিষয়গুলির মোকাবিলা করার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের ওপর বর্তায়। এনআরসিতে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ৬৮,৩৭,৬৬০টি আবেদনের মাধ্যমে আবেদন করেছিলন ৩,৩০,২৭,৬৬১ জন। এর মধ্যে ৩,১১,২১,০০৪ জনের নাম চূড়ান্ত এনআরসিতে অন্তর্ভুক্তির যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। চূড়ান্ত এনআরসি থেকে বাদ পড়েছেন ১৯,০৬,৬৫৭ জন। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে,নাম ছুটরা এনআরসি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রিজেকশন অর্ডার পাওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে এফটির দ্বারস্থ হতে পারবেন। কিন্তু এই সমস্ত নাম ছুটরা কবে নাগাদ রিজেকশন অর্ডার পাবেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি।

 

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ এনআরসি ১৯৫১ সালের ভিত্তিতে হওয়া উচিতঃ সিটিজেন্স কনভেনশন

অধিক খবরের জন্য ভিডিও দেখুন: NDFB(S) Militants nabbed in Kokrajhar, Assam