রাজ্যের খবর

প্ৰগতিশীল অসম গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকারঃ সোনোয়াল

সোনোয়াল

গুয়াহাটিঃ সারা দেশের সঙ্গে বৃহস্পতিবার অসমেও ৭৩তম স্বাধীনতা দিবস ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয়। গুয়াহাটির খানাপাড়ায় ভেটেরিনারি কলেজের মাঠে কেন্দ্ৰীয়ভাবে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তেরঙা উত্তোলন করেন মুখ্যমন্ত্ৰী সর্বানন্দ সোনোয়াল। ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্ৰী সোনোয়াল রাজ্যের জনগণের প্ৰতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এই পবিত্ৰ ক্ষণে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা সংগ্ৰামী এবং রাজ্যের শহিদ মণিরাম দেওয়ান,পিয়লি ফুকন,কুশল কোঁয়র,কনকলতা বরুয়া,মুকুন্দ কাকতি,ভোগেশ্বরী ফুকননী প্ৰমুখ মুক্তি যোদ্ধাদের প্ৰতি গভীর শ্ৰদ্ধা তর্পণ করেন। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সন্ত্ৰাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে আত্মত্যাগ করা বীর শহিদদের মুখ্যমন্ত্ৰী শ্ৰদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। অসম মাতৃকে গর্বিত করা বীর শহিদ মনেশ্বর বসুমতারি,বিপুল বরা,বিশ্বজিৎ চৌহান,নিরজ ছেত্ৰী,নিরোদ শর্মা,কালিদাস শর্মা ও সুনীল কলিতার প্ৰতি শ্ৰদ্ধা জানান তিনি। শ্ৰদ্ধা জানান শহিদ হওয়া সুদক্ষ পুলিশ অফিসার ভাস্কর কলিতার প্ৰতিও। কেন্দ্ৰীয় সরকার এই সাহসী পুলিশ অফিসারকে মরণোত্তর ভাবে পুলিশ সাহসিকতা পদক দেওয়ায় অসমবাসী গর্বিত বোধ করছেন। মুখ্যমন্ত্ৰী স্মরণ করেন অম্বিকাগিরি রায় চৌধুরীর কবিতার সেই অমর পংক্তি ‘দেশেই মোর ধ্যান-জ্ঞান,দেশেই মোর ভগবান,সাধ্য আরাধ্য পরমেশ’।

প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদি অখণ্ড ভারতের ভিত সবল করতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্ৰহণ করায় সোনোয়াল তাঁকে ধন্যবাদ জানান। দেশের মানুষ গত ৭ দশক ধরে এক বিধান,এক প্ৰধান এবং এক নিশান’-এর যে স্বপ্ন দেখেছেন প্ৰধানমন্ত্ৰী মোসি ও স্বরাষ্ট্ৰমন্ত্ৰী অমিত শাহর বলিষ্ঠ পদক্ষেপ তা সার্থক করে তুলেছে। এই মুহূর্তে আদর্শবাদী নেতা ড.শ্যামাপ্ৰসাদ মুখার্জিকেও শ্ৰদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্ৰী। ড. ভূপেন হাজরিকাকে ‘ভারত রত্ন’ সম্মান দেওয়ায় অসমবাসী আজ গর্বিত। ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ নীতি নিয়ে প্ৰধানমন্ত্ৰী দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন-বলেন সোনোয়াল। ‘আমার সরকার ও অসমকে দেশের শক্তিশালী অঙ্গ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে’।

মুখ্যমন্ত্ৰী বলেন,রাজ্যে একটা সময় গেছে যখন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মানুষ ভয় পেতেন। কারণ স্বাধীনতা দিবসে অংশ নিতে আসা কচিকাচা শিশুদের হত্যা করেছিল সন্ত্ৰাসীরা। এখন সময় পাল্টেছে। পরিবর্তনের হাওয়া বইছে সর্বত্ৰ। গত তিন বছর ধরে তিনদিনের কর্মসূচিতে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার বরাক,ব্ৰহ্মপুত্ৰ পাহাড়,সমতলকে নিয়ে সমৃদ্ধিশালী অসম গড়ার পথে এগোচ্ছে-বলেন মুখ্যমন্ত্ৰী।

অসম চুক্তির ৬নং দফা রূপায়ণের জন্য কেন্দ্ৰ উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে রাজ্যের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে-উল্লেখ করেন তিনি। রাজ্যের ছয় জনগোষ্ঠীকে জনজাতির মর্যাদা দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্ৰ। বিদেশিমুক্ত অসম গড়তে সুপ্ৰিম কোর্টের সরাসরি তত্ত্বাবধানে রাজ্যে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্ৰকাশের প্ৰস্তুতি চলছে। রাজ্য সরকারের ৫৫ হাজার অফিসার-কর্মী এনআরসি উন্নীতকরণ প্ৰক্ৰিয়ায় কাজ করেছেন। এনআরসি সম্পূর্ণ হলে অসমবাসী একটা ঐতিহাসিক দস্তাবেজ লাভ করবেন,যেখানে কোনও বিদেশি থাকবে না এবং একজন ভারতীয়ও বাদ পড়বে না-বলেন মুখ্যমন্ত্ৰী। তিনি বলেন,বৃহত্তর অসমবাসীর ভাষা,কৃষ্টি,সংস্কৃতি ও ভূমির অধিকার রক্ষায় সরকার একগুচ্ছ পদক্ষেপ গ্ৰহণ করেছে।

রাজ্যে গন্ডার হত্যা রুখতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। বন্যার সময় বন্য জীবজন্তু বাঁচাতে কাজিরঙায় ৩৩টি হাইল্যান্ড নির্মাণ করা হয়েছে। সত্ৰের জমি দখলমুক্ত করতেও সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। স্বর্গদেউ চাওলুং চুকাফা,মহাপুরুষ শঙ্করদেব,মাধবদেব ও আজান ফকিরের সমন্বয় ও সহাবস্থানের আদর্শে গড়ে ওঠা অসমিয়া সমাজের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন দুর্নীতির ক্ষেত্ৰে তাঁর সরকার শূন্য সহিষ্ণু নীতি নিয়েছে। যুব সমাজকে দক্ষ ও ক্ষমতা সম্পন্ন করে তুলতে ভারত সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। ‘আমার সরকারও যুবকদের দক্ষ ও সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। আমি বিশ্বাস করি রাজ্যের মানুষের সমর্থন নিয়ে আমরাও প্ৰগতিশীল সমাজ গড়ার অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারবো’।

যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্ৰী বলেন,সড়ক,রেল ও বিমান যোগা্যোগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উড়ান প্ৰকল্পের অধীনে গুয়াহাটি-ঢাকার মধ্যে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। আসিয়ান দেশগুলির সঙ্গে শীঘ্ৰই বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হবে। তিনি বলেন,রাজ্যকে সবুজে ভরিয়ে তুলতে ১০ কোটি চারা গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

 

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার প্ৰশংসা করলেন রাষ্ট্ৰপতি রামনাথ কোবিন্দ

অধিক খবরের জন্য ভিডিও দেখুন: Chief Minister Sarbananda Sonowal hoisted the National Flag at Khanapara Veterinary Field