ন্যাশনাল

ভুয়া খবর ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো কিভাবে হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়

ভুয়া তথ্য
Source: Google

সোশ্যাল মিডিয়ার উত্থান নিঃসন্দেহে বিভিন্ন দিক থেকে আমাদের জন্য কল্যাণকর। তবে একইসঙ্গে এটা অন্যান্য কিছু সমস্যা সৃষ্টিতেও ইন্ধন দিচ্ছে। এই সমস্যাগুলোর একটি হচ্ছে ভুয়া খবর ও ভুয়া তথ্য সম্প্ৰচার। সোশ্যাল মিডিয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজের মতামত প্ৰকাশে জনগণকে একটা প্ল্যাটফর্ম দেওয়া। কিন্তু কিছু লোক নিজেদের ন্যস্ত স্বার্থে মাধ্যমটির অপব্যবহার করছে।

শক্তিশালী অবস্থানে থাকা কিছু লোকের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে অথবা আর্থিক লাভালাভের জন্য প্ৰধানত ভুয়া খবর বা তথ্য সম্প্ৰচার করা হয়ে থাকে। তাই বিশেষ করে নির্বাচনের সময় এধরনের ভুয়া খবর সম্প্ৰচারের মাত্ৰা বৃদ্ধি পেতে দেখা গিয়েছিল। ফেসবুক হচ্ছে এক্ষেত্ৰে প্ৰধান চ্যানেল,যার মাধ্যমে ভুয়া খবর সম্প্ৰচার করা হয়েছে।  তবে সাম্প্ৰতিক বছরগুলিতে ফেসবুক তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ভুয়া খবর ছড়ানো রোধে পদক্ষেপ নিয়েছে। ফেসবুক ছাড়াও ভুয়া খবর ছড়াতে টুইটারকেও ব্যবহার করা হচ্ছে। ভুয়া খবর সম্প্ৰচার কেন বিপদজনক? ভুয়া খবর ছড়ানো সমাজের জন্য কেন বিপদজনক তার অনেক কারণ রয়েছে। এধরনের ভুয়া খবর ছড়ানোর মূল উদ্দেশ্য হলো কোনও কিছু অথবা প্ৰভাবশালী কারো বিরুদ্ধে জনসাধারণকে বোঝানো। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়,নির্বাচনের সময় আপনারা দেখেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্ৰচুর রাজনৈতিক পোস্ট সম্প্ৰচার করা হয়েছে। এরমধ্যে একটা পোস্ট ছিল রাজনৈতিক হিংসা সংক্ৰান্ত। একটা নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে এটি পোস্ট করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এই দলটি হিংসার সঙ্গে জড়িত ছিল না। এধরনের পোস্টগুলি সমাজে দাঙ্গা ও গণ্ডগোল বাধাতে যথেষ্ট।

সমাজের প্ৰভাবশালী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতেও ভুয়া খবর সম্প্ৰচার করা হয়ে থাকে। কিছু লোক আবার নিজের স্বার্থ পূরণে ভুল তথ্য সম্প্ৰচার করে। কারণ যাই হোক,এরফলে সমাজে হিংসা ও দাঙ্গা বাধাতে তা ইন্ধন জোগায়। তাই ভুয়া খবর প্ৰচার যেকোনও মূল্যে বন্ধ করতেই হবে। ভুল খবর ও ভুল তথ্য দিয়ে অন্যের কান ভরানোর প্ৰয়াস যারা করছে তাদের রোখা অত্যন্ত জরুরি। এব্যাপারে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

ভুয়া খবর ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো রুখতে ফেসবুক ও টুইটারের মতো বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি অগ্ৰণী ভূমিকা নিয়েছে। এই সমস্যার মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।

ভুয়া খবরের ক্ষেত্ৰে ফেসবুক সক্ৰিয় ব্যবস্থা নিয়েছে। তারা সমস্ত পোস্টগুলি পরীক্ষা করার ব্যবস্থা গ্ৰহণ করেছে। এরফলে মানুষ এখন ভ্ৰান্তপথে পরিচালিত করে এমন কোনও পোস্ট দিতে পারছেন না।

যদি কেউ বার বার এধরনের পোস্ট দেওয়ার চেষ্টা করেন তাহলে তার অ্যাকাউণ্ট চিহ্নিত করে ওই প্ৰোফাইল ছেঁটে দেওয়া হচ্ছে। ফেসবুকের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট ফলপ্ৰসূ হয়েছে। এখন ভুয়া খবর ও ভুয়া তথ্যের সম্প্ৰচার অনেকটাই থিথিয়ে এসেছে। ভুয়া খবর সম্প্ৰচার অপরাধের চেয়ে কম নয়। এধরনের কাজ থেকে মানুষের বিরত থাকা উচিত। তাই আশা করা হচ্ছে ভবিষ্যতে এই সমস্যার সমাধান হবে।

 

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ ভুয়া খবর ও ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে লড়তে ফেসবুকের পদক্ষেপ