ন্যাশনাল

ফাঁসিতে ঝোলানো হলো নির্ভয়া কাণ্ডের চার অপরাধীকে,অবশেষে ন্যায় পেলো আমার মেয়েঃ আশাদেবী

নির্ভয়া কাণ্ড

নয়াদিল্লিঃ নির্ভয়ার মা আশা দেবী বলেছেন,অনেক টালবাহানার পর অবশেষে তাঁর মেয়ে ন্যায়বিচার পেলো। ‘ভারতের কন্যাদের ন্যায় বিচারের জন্য আমাদের লড়াই চলবে। ন্যায় পেতে আমাদের অনেক কষ্ট ও দুশ্চিন্তা নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে। অবশেষে আমরা ন্যায় পেয়েছি’-সাংবাদিকদের বলেন আশা দেবী। ‘আমি আমার মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে আলিঙ্গন করেছি’-বলেন তিনি। ‘অবশেষে পশুগুলোকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে’। নির্ভয়ার ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টায় জড়িত চার অপরাধীকে শুক্ৰবার সকাল ৫.৩০ মিনিটে দিল্লির তিহার জেলে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর খোদ রাজধানী দিল্লির বুকে ২৩ বছর বয়সী নির্ভয়ার ওপর গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছিল। গত ৬ মার্চ দিল্লির একটি আদালত এই গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চার অপরাধীর বিরুদ্ধে নতুন করে ফাঁসির সাজা শোনায় এবং চতুর্থ বার ২০ মার্চ সকাল ৫.৩০ মিনিটে এদের ফাঁসির সময় নির্ধারণ করে দেয়। ‘ওই রায়ে বলা হয়েছিল অপরাধীদের ২০ মার্চ সকাল ৫.৩০ মিনিটে ফাঁসিকাষ্টে ঝোলাতেই হবে’-বলেন অতিরিক্ত দায়রা বিচারপতি ধর্মেন্দ্ৰ রানা।

এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে নির্ভয়ার মা বলেছিলেন ‘অপরাধীদের ফাঁসিতে ঝোলানোর তারিখ ইতিমধ্যেই তিনবার পিছনো হয়েছে। এদের ফাঁসিতে ঝোলালেই আমি খুশি হবো’। ‘শেষ নিশ্বাস ছাড়ার আগে নির্ভয়া আমাকে বলেছিল যে নরপিশাচরা তার ওপর যে পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছিল তাদের এমন কোনও মারাত্মক সাজা সুনিশ্চিত করতে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে কেউ সাহস না পায়’-উল্লেখ করেন নির্ভয়ার মা আশা দেবী।

শেষ মুহূর্তে ফাঁসির সাজা ঝুলিয়ে রাখতে এই জঘন্যকাণ্ডে জড়িত চার অপরাধী অক্ষয় কুমার সিং,পবন গুপ্তা,মুকেশ সিং এবং বিনয় শর্মা ফাঁসির  নির্দেশ রদ করার আর্জি জানিয়ে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস(রাষ্ট্ৰপুঞ্জের প্ৰধান বিচার বিভাগীয় সংস্থা)-এর দ্বারস্থ হয়। নির্ভয়া মামলার চার অপরাধীর একজন বিনয় শর্মা রাষ্ট্ৰপতির কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চেয়ে আবেদন জানানো নিয়ে দিল্লি সরকারের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক অনিয়মের অভিযোগ এনে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল।

নির্ভয়া কাণ্ডে যে চার অপরাধীর ফাঁসি হয়েছে তারা হলো মুকেশ সিং(৩২),পবন গুপ্তা(২৫)বিনয় শর্মা(২৬)এবং অক্ষয় কুমার সিং(৩১)। এই কাণ্ডে জড়িত ছিল ছয় অপরাধী। এদের মধ্যে রাম সিং নামের অপরাধীটি জেলেই আত্মহত্যা করে। আরও এক অপরাধীর  বয়স কম থাকায় তাকে জুভেনাইলে পাঠানো হয়েছিল সংশোধনের জন্য। ২০১৫ সালে তাকে জুভেনাইল থেকে ছাড়ে দেওয়া হয়।

 

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ আমিষ খাবার করোনা ভাইরাসের কারণ নয়ঃ এইমস ডিরেক্টর

অধিক খবরের জন্য ভিডিও দেখুন: CJM Court will only hear urgent matters till March 29 due to prevent Coronavirus Spread