Begin typing your search above and press return to search.

অসমে প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা প্ৰহসনে পরিণত

অসমে প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা প্ৰহসনে পরিণত

Sentinel Digital DeskBy : Sentinel Digital Desk

  |  20 July 2019 12:16 PM GMT

গুয়াহাটিঃ গুয়াহাটিতে প্ৰতিদিন ৩,৭০০ কেজি প্লাস্টিক আবর্জনা উৎপন্ন হয়। একটি প্ৰথম সারির এনজিও ‘এনভায়রন’ প্ৰতিদিনই প্ৰায় ২.৯০ লক্ষ কেজি প্লাস্টিক গলিয়ে ফেলে। মন্ত্ৰী,বাবুরা উপস্থিত থাকা অধিকাংশ সরকারি অনুষ্ঠানে প্লাস্টিক,মিনারেল বোতল এবং কাপ ইত্যাদির আখছার ব্যবহার দেখা যায়। প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা যে কতটা প্ৰহসনে পরিণত হয়েছে উল্লিখিত তিনটি উদাহরণই তা প্ৰমাণের জন্য যথেষ্ট।

চলতি বছরের ২৯ এপ্ৰিল বন এবং পরিবেশ বিভাগ ২০ মাইক্ৰোনের নিচের প্লাস্টিক সামগ্ৰীর উৎপাদন,বিক্ৰি ও ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। গুয়াহাটি মহানগরীতে যে কী পরিমাণ প্লাস্টিকের ব্যবহার হচ্ছে তা সহজেই অনুধাবন করা যায়। শহরের যততত্ৰ এ ধরনের প্লাস্টিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় হামেশাই। প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও অধিকাংশ দোকান এ ব্যাপারে একটুও সচেতন নয়।

কামরূপের(মেট্ৰো)জেলাশাসক বিশ্বজিৎ পেগু খোদ স্বীকার করেছেন,২০ মাইক্ৰোনের নিচের প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা সম্পর্কে তার জেলায় সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বোধ সৃষ্টির জন্য পর্যাপ্তভাবে প্ৰচার অভিযানের ব্যবস্থা করা হয়নি বিভিন্ন প্ৰতিবন্ধকতার জন্য। তিনি অবশ্য বলেন,প্ৰতিটি প্লাস্টিক সামগ্ৰী ২০ মাইক্ৰোনের নিচের কি না তা পরিমাপ করাও কঠিন। শুধু কামরূপ(মেট্ৰো)জেলায়ই প্লাস্টিকের দেদার ব্যবহার হচ্ছে তেমন নয়,অন্যান্য জেলাও এর ব্যতিক্ৰম নয়। প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ঠিকই। খোদ জনতা ভবনে,সরকারি অফিসে যেকোনও সরকারি অনুষ্ঠানে যখন ঢালাও হারে প্লাস্টিক ব্যবহার করা হচ্ছে সেইক্ষেত্ৰে অন্যত্ৰ তার ব্যক্তিক্ৰম দেখা যাবে এটা কী করে আশা করা যায়।

‘এটা খুবই দুঃখ জনক যে আইন প্ৰণেতারাই আইন লঙ্ঘন করছেন। বন ও পরিবেশ বিভাগ প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল। কিন্তু বন বিভাগের যে কোনও কার্যালয় পরিদর্শনে গেলে সেখানেও প্লাস্টিকের অবাধ ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে খোদ বন বিভাগই তা লঙ্ঘন করছে। প্লাস্টিকের সামগ্ৰীর পরিমাপ ঠিক করা কঠিন বলে বিভিন্ন সরকারি বিভাগ ও কর্মকর্তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আসলে এটা নেহাতই একটা অজুহাত। প্লাস্টিকের পরিমাপ নির্ধারণ করা যদি কঠিন হয়ে থাকে তাহলে সরকার প্লাস্টিক সামগ্ৰী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চাপালো কি করে? ‘প্লাস্টিকের সামগ্ৰী ব্যবহার করা হয়নি এমন কোনও সরকারি অনুষ্ঠান আমি আজ অবধি দেখিনি’-বলেন পরিবেশ'বিদ আমজদ আলি।

স্কুলগুলিতে বিশেষ করে সিবিএসই স্বীকৃত স্কুলে প্লাস্টিক ব্যবহার সম্পূর্ণ পরিহার করার সার্কুলার জারি করা হয়েছে। কিন্তু অসমের একটি স্কুলেও ওই সার্কুলার যথাযথভাবে পালন করতে দেখা যায়নি। নালা নর্দমা,ভরলু,ব্ৰহ্মপুত্ৰ,দীপর বিল সর্বত্ৰ প্লাস্টিকের আবর্জনার স্তূপ দেখতে পাওয়া যায়। প্লাস্টিক জমা হয়ে কৃত্ৰিম বন্যার সৃষ্টি করছে। দূষিত করছে পরিবেশ। প্লাস্টিক মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির জন্য দিশপুর কবে জাগবে সেটাই এখন দেখার।

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ কাছাড়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা জেলা প্ৰশাসনের

Next Story