সংবাদ শিরোনাম

জমির নথিপত্ৰ শোধরানোর ব্যবস্থা নিচ্ছে,রাজ্য সরকার

রাজ্য সরকার

গুয়াহাটিঃ অসমে জমির নথিপত্ৰ সংক্ৰান্ত অসঙ্গতি সমূহ ঘুচিয়ে রাজস্ব ব্যবস্থাকে সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার যত শীঘ্ৰ সম্ভব নথিপত্ৰ শোধরানোর কাজ শুরু করবে। এই উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকার সিঙ্গল পাট্টাদার ব্যবস্থার জন্য সিঙ্গল পাট্টা ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে। রাজস্ব বিভাগ জমি নথিপত্ৰ পরীক্ষা নিরীক্ষার পর একটা ত্ৰুটিমুক্ত নথি প্ৰস্তুত করার লক্ষ্যেও ব্যবস্থা নেবে।

জমির নথিপত্ৰ আপডেট করার লক্ষ্যে শুক্ৰবার দিশপুরের জনতা ভবনে মুখ্যমন্ত্ৰী সর্বানন্দ সোনোয়ালের পৌরোহিত্যে রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্ৰী জমির নথিপত্ৰ আপডেট করার জন্য রাজস্ব বিভাগকে এই প্ৰক্ৰিয়া পাইলট প্ৰকল্পের ভিত্তিতে গোটা রাজ্যে রূপায়ণের জন্য প্ৰয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্ৰহণ করার নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্ৰীর নির্দেশে শীঘ্ৰই গোটা রাজ্যে এই প্ৰক্ৰিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।

সরকারি সূত্ৰের মতে,বর্তমানে যে যুগ্ম পাট্টা ব্যবস্থা রয়েছে তা রাজ্যে জমি সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যার জন্ম দিচ্ছে। এই ব্যবস্থার ফলে পাট্টাদাররা বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়ছেন এবং মৌজাদাররাও জমির কর সংগ্ৰহের ক্ষেত্ৰে সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। এই ব্যবস্থায়,পাট্টাদারদের সম্পর্কে পরিষ্কার করে কিছু বলা হয়নি। যৌথ পাট্টা ব্যবস্থায় বেশকজন পাট্টাদারের নাম থাকায় একজন পাট্টাদারকে ব্যাংক ঋণ নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দাগ ও পাট্টা নম্বর এক হওয়ায়। এধরনের জমি বিক্ৰি বা কিনতে গিয়েও নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। জমির নথিকে আধারের সঙ্গে সংযুক্তিকরণের প্ৰক্ৰিয়াও পর্যায়ে ক্ৰমে শুরু করা হবে। রাজ্যে আধার কার্ড ইস্যু প্ৰক্ৰিয়া এখনও ঝুলে আছে।

পাট্টাদারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখার জন্য ত্ৰুটিমুক্ত জমির নথির প্ৰয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সোনোয়াল প্ৰতিটি গ্ৰামের সব পাট্টাদারকে স্বতন্ত্ৰ পাট্টা দেওয়ার নির্দেশ দেন রাজস্ব বিভাগকে। মুখ্যমন্ত্ৰী সার্কল আধিকারিকের কার্যালয়ে উন্নত কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলারও আহ্বান জানান। রাজস্ব বিভাগের কোনও আধিকারিক অথবা কর্মী কাজে ফাঁকি বা গাফিলতি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্ৰহণেরও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্ৰী। রাজ্যে যে সব গ্ৰামে জরিপ করা হয়নি সেই সব গ্ৰামে সাম্প্ৰতিক প্ৰযুক্তি প্ৰয়োগের মাধ্যমে জরিপ চালাতেও মুখ্যমন্ত্ৰী বিভাগটিকে নির্দেশ দেন।

জমি সম্পর্কিত নথি নির্ধারিত সময়ে জারি না করা অথবা দেরি হওয়ার ব্যাপারে প্ৰায়ই অভি্যোগ ওঠে। এ সম্পর্কে সার্কল অফিসারের কার্যালয়ে দাখিল করা আবেদনগুলি উন্নত প্ৰযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের জন্য রাজস্ব বিভাগকে নির্দেশ দেন তিনি। এদিনের বৈঠকে রাজস্ব প্ৰতিমন্ত্ৰী এবং ডিএম ভবেশ কলিতা,মুখ্যমন্ত্ৰীর আইনি উপদেষ্টা শান্তনু ভরালি,বিধায়ক নারায়ণ ডেকা,মুখ্যমন্ত্ৰীর প্ৰধান সচিব সঞ্জয় লোহিয়া,রাজস্ব এবং ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্টের কমিশনার ও সচিব অরুণা রাজোরিয়া,ল্যান্ড রেকর্ডের ডিরেক্টর মদন চন্দ্ৰ ডেকা এবং অন্যান্য বরিষ্ঠ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

অন্যান্য খবরের জন্য পড়ুনঃ রাজ্যে সত্ৰের জমি দখল মুক্ত করতে বিল আসছে